📄 আলি বিন ইবরাহিম
নাদির খানের সেনাপতিদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক সুদক্ষ সেনাপতি আহমাদ খান দুররানি সবার থেকে পৃথক হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলে নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর দ্রুত রাজ্যের সীমা বিস্তৃত করেন। অন্যদিকে নাদির খানের ভাতিজা আলি কুলি খান পারস্যের সিংহাসনে বসেন। আলি কুলি খান পরিচিতি পান আদিল শাহ নামে। আদিল শাহ ক্ষমতায় বসেই সিংহাসন কণ্টকমুক্ত রাখতে নাদির খানের বংশের বাকি সদস্যদের হত্যা করে ফেলেন। জীবিত রাখেন শুধু তার নাতি শাহরুখকে। এদিকে একসময় আলি ও তার ভাই ইবরাহিমের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জের ধরে ইবরাহিমকে হত্যা করেন আলি কুলি। তারপর তিনি নিজেও নিহত হন। সিংহাসনে বসেন শাহরুখ।
📄 শাহরুখ
খুব অল্প বয়সে সাম্রাজ্যের ভার ন্যস্ত হয় শাহরুখের দুর্বল কাঁধে। তার দুর্বলতার সুযোগে মির্জা সাইয়িদ মুহাম্মাদ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। শাহরুখ শিয়াবাদের বিরুদ্ধে তার দাদা নাদির খানের শুরু করে যাওয়া মিশন পুনর্জীবিত করছে রব তুলে তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে এবং ক্ষমতা দখল করে নেয়। শাহরুখকে বন্দি করা হয় কারাগারে। কিন্তু শাহরুখের এক সেনাপতি ইউসুফ আলি ফের হামলা চালিয়ে মির্জা ও তার সন্তানদের হত্যা করতে সক্ষম হন। তারপর শাহরুখকে মুক্ত করে পুনরায় তাকে সিংহাসনে বসান ইউসুফ আলি। আর নিজেকে সম্রাটের অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। কারণ, সম্রাট তখনও নিতান্ত বালক।
কিছুদিন পর ইরান সাম্রাজ্যে একটি নৌবাহিনী ও একটি স্থলবাহিনী প্রবেশ করে। সামুদ্রিক বাহিনীর সেনারা ছিল আরবের। তাদের সেনাপতির নাম বলা হয় আলম খান। আর স্থলবাহিনী ছিল কুর্দিদের। তাদের সেনাপতির নাম জাফর খান। তারা একসাথে হামলা চালিয়ে ইউসুফকে গ্রেফতার করে হত্যা করে আর শাহরুখকে পুনরায় কারাগারে নিক্ষেপ করে। এরপর ক্ষমতার কোন্দল লেগে যায় এই দুই সেনাপতির মাঝেই। পারস্পরিক লড়াইয়ে জয়ী হন আলম খান।
তবে আফগান শাসক আহমাদ দুররানির সাথে এক যুদ্ধে আলম খানও নিহত হয়। আহমাদ দুররানি খোরাসানকে পারস্য থেকে মুক্ত করে নিজের রাজ্যের অংশ করে নেন। এদিকে শাহরুখকে কারাগারেই রাখা হয়। ১২১০ হিজরিতে (১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) তার মৃত্যু হয়। আর এতেই ইতি ঘটে নাদির খান প্রতিষ্ঠিত আফশারি বংশীয় শাসনের।