📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 নাদির খান

📄 নাদির খান


নাদির খান আফশারি শাসক গোষ্ঠীর প্রথম শাসক। তাহমাস্পের সহযোগী থেকে অচিরেই সে হয়ে ওঠেন ইরানের সম্রাট। প্রথমে তাহমাম্পের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তাকে আটক করেন। তবে নিজে সিংহাসনে না বসে তাহমাম্পের ছোট এক পুত্র আব্বাসকে বসান। আর উসমানিদের সাথে লড়াইয়ের কারণ দেখিয়ে নিজে হন তার অভিভাবক। এভাবে সাম্রাজ্যের ওপর তার প্রাথমিক কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়। উসমানিদের সাথে লড়াইয়ে নাদির খান জয়ী হন। বাধ্য হয় উসমানিরা সন্ধি করতে। সন্ধি অনুযায়ী ইরাক ব্যতীত ইতিপূর্বে পারস্যে অধিকৃত অঞ্চলসমূহ হস্তান্তর করে উসমানিরা। এদিকে রুশদের থেকে মাযানদারান, গিলান, দাগিস্তান ও আজারবাইজান অধিকার করে নেন নাদির খান। নিয়ামক হিসেবে কাজ করে রুশদের প্রতি নাদির খানের হুমকি। অর্থাৎ এসব অঞ্চল ফিরিয়ে না দিলে রুশদের বিরুদ্ধে লড়তে উসমানিদের সাথে মিত্রতা করবে বলে হুমকি দেন নাদির খান। এতে বেশ কাজও হয়।
১১৪৮ হিজরিতে (১৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দে) ইরানের কাগুজে শাসক তৃতীয় আব্বাস মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যুর পর নাদির খান নিজেকে সাম্রাজ্যের অধিপতি ঘোষণা করেন। তারপর মনোযোগ দেন সাম্রাজ্য বিস্তারে। একে একে দখল করে নেন আফগানিস্তানের সমস্ত প্রদেশ। ১১৫০ হিজরিতে (১৭৩৮ খ্রিষ্টাব্দে) ওমান আক্রমণ করেন। তারপর আগমন করেন হিন্দুস্তানে। ১১৫১ হিজরিতে (১৭৩৯ খ্রিষ্টাব্দে) দিল্লি দখল করে নেন। কিন্তু দিল্লিতে শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকেন। এরপর উজবেকদের অঞ্চলে প্রবেশ করে বুখারা ও খোয়ারিজম দখল করে নেন।
এই বিজয় মিছিল সত্ত্বেও নাদির খানের সাম্রাজ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়। জায়গায় জায়গায় বিদ্রোহ ও নানা আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। দাগিস্তানের লাজকি গোত্রের বিদ্রোহ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বিদ্রোহ দমন করতে বের হয়ে সেখানে পরাজিত হন নাদির খান। পরাজয়ের ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হন। সর্বত্র বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। উসমানিরাসহ অন্যান্য বহু গোত্রের সাথে তার যুদ্ধ লেগেই থাকে।
নাদির খান তার রাজ্যে সুন্নি চিন্তাধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। চেয়েছিলেন ইমাম জাফর সাদেকের মাজহাবকে মুসলিম সমাজে পঞ্চম মাজহাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু উসমানিরা এর সাথে একমত ছিল না। কিন্তু ইরানবাসীকে এর ওপর বাধ্য করা হয়। নাদির খান একটি ইরানি নৌবাহিনী গঠনের চেষ্টা করেন, তবে তাতে ব্যর্থ হন। ১১৬০ হিজরিতে (১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দে) কুর্দিদের অঞ্চলে বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে ইনতেকাল করেন ডাকাত সর্দার থেকে পারস্যের অধিপতি হওয়া নাদির খান।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আলি বিন ইবরাহিম

📄 আলি বিন ইবরাহিম


নাদির খানের সেনাপতিদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক সুদক্ষ সেনাপতি আহমাদ খান দুররানি সবার থেকে পৃথক হয়ে আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলে নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর দ্রুত রাজ্যের সীমা বিস্তৃত করেন। অন্যদিকে নাদির খানের ভাতিজা আলি কুলি খান পারস্যের সিংহাসনে বসেন। আলি কুলি খান পরিচিতি পান আদিল শাহ নামে। আদিল শাহ ক্ষমতায় বসেই সিংহাসন কণ্টকমুক্ত রাখতে নাদির খানের বংশের বাকি সদস্যদের হত্যা করে ফেলেন। জীবিত রাখেন শুধু তার নাতি শাহরুখকে। এদিকে একসময় আলি ও তার ভাই ইবরাহিমের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জের ধরে ইবরাহিমকে হত্যা করেন আলি কুলি। তারপর তিনি নিজেও নিহত হন। সিংহাসনে বসেন শাহরুখ।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শাহরুখ

📄 শাহরুখ


খুব অল্প বয়সে সাম্রাজ্যের ভার ন্যস্ত হয় শাহরুখের দুর্বল কাঁধে। তার দুর্বলতার সুযোগে মির্জা সাইয়িদ মুহাম্মাদ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। শাহরুখ শিয়াবাদের বিরুদ্ধে তার দাদা নাদির খানের শুরু করে যাওয়া মিশন পুনর্জীবিত করছে রব তুলে তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে এবং ক্ষমতা দখল করে নেয়। শাহরুখকে বন্দি করা হয় কারাগারে। কিন্তু শাহরুখের এক সেনাপতি ইউসুফ আলি ফের হামলা চালিয়ে মির্জা ও তার সন্তানদের হত্যা করতে সক্ষম হন। তারপর শাহরুখকে মুক্ত করে পুনরায় তাকে সিংহাসনে বসান ইউসুফ আলি। আর নিজেকে সম্রাটের অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। কারণ, সম্রাট তখনও নিতান্ত বালক।
কিছুদিন পর ইরান সাম্রাজ্যে একটি নৌবাহিনী ও একটি স্থলবাহিনী প্রবেশ করে। সামুদ্রিক বাহিনীর সেনারা ছিল আরবের। তাদের সেনাপতির নাম বলা হয় আলম খান। আর স্থলবাহিনী ছিল কুর্দিদের। তাদের সেনাপতির নাম জাফর খান। তারা একসাথে হামলা চালিয়ে ইউসুফকে গ্রেফতার করে হত্যা করে আর শাহরুখকে পুনরায় কারাগারে নিক্ষেপ করে। এরপর ক্ষমতার কোন্দল লেগে যায় এই দুই সেনাপতির মাঝেই। পারস্পরিক লড়াইয়ে জয়ী হন আলম খান।
তবে আফগান শাসক আহমাদ দুররানির সাথে এক যুদ্ধে আলম খানও নিহত হয়। আহমাদ দুররানি খোরাসানকে পারস্য থেকে মুক্ত করে নিজের রাজ্যের অংশ করে নেন। এদিকে শাহরুখকে কারাগারেই রাখা হয়। ১২১০ হিজরিতে (১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) তার মৃত্যু হয়। আর এতেই ইতি ঘটে নাদির খান প্রতিষ্ঠিত আফশারি বংশীয় শাসনের।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00