📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বায়দো

📄 বায়দো


তিনি হলেন কিগাতোর চাচাতো ভাই। অর্থাৎ হালাকু খানের ছেলে তারখাইয়ের পুত্র। তার শাসনকালও দীর্ঘ হয়নি। ৬৯৫ হিজরিতে (১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি নিহত হন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গাজান

📄 গাজান


গাজান প্রথমে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন। তারপর ৬৯৪ হিজরিতে (১২৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে নিজের নাম রাখেন মাহমুদ। ৬৯৫ হিজরিতে (১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) ক্ষমতায় বসার সাথে সাথেই তুলুই বংশের সকল মানুষসহ প্রায় ৭০ হাজার তাতার ইসলাম গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ইলখানিয়া সাম্রাজ্য মুসলিম সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। কিন্তু এরপরও মামলুকদের সাথে তার লড়াই অব্যাহত ছিল। অধিকাংশ যুদ্ধে তার পরাজয় হতো।
মামলুকদের বিরুদ্ধে তার বড় পরাজয়ের ঘটনাটি ঘটে ৭০২ হিজরিতে (১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে) শাকহাব যুদ্ধে। শামে সংঘটিত এই যুদ্ধে তাতারদের মোকাবিলায় দাঁড়িয়েছিলেন মহান ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ., মামলুক সুলতান ও আব্বাসি খালিফা। এই যুদ্ধে গাজান ভীষণ পর্যুদস্ত হয়। একই সময়ে উত্তরে মারাগা ও তাবরিজ দখলকে কেন্দ্র করে গোল্ডেন হোর্ডের তৎকালীন ক্ষমতাসীন তাকতাইয়ের সাথেও লড়াই চলছিল। শামের পরাজয়ের ফলে উত্তরের লড়াইও থামিয়ে দিতে বাধ্য হন গাজান। ৭০৩ হিজরিতে (১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি ইনতেকাল করেন। তার স্থলবর্তী হন তারই ভাই উলজাইতু।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উলজাইতু

📄 উলজাইতু


প্রথম জীবনে খ্রিষ্টধর্মে প্রতিপালিত হন। তারপর ইসলাম গ্রহণ করে মুহাম্মাদ (মুহাম্মাদ খরাবান্দা) নাম ধারণ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ৭০৯ হিজরিতে তিনি শিয়া রাফেজি মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন, এমনকি শিয়া মতবাদ অনুসরণ করতে নিজ প্রজাদের বাধ্য করেন।
মামলুক ও উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের সাথে একাধিকবার তার সংঘর্ষ হয়। উত্তর সাম্রাজ্যের তাকতাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার জয় লাভ হয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল দুই পলাতক মামলুক আমির কারা সুনকুর ও আফরামের। এজন্য তাকতাই ইলখানিয়া সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের উদ্দেশ্যে মামলুক সুলতানের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাকতাইয়ের মৃত্যু ঘটে। ইলখানিয়া বিরোধী যুদ্ধে অধিকাংশ জয় হয় মামলুকদেরই। ৭১৬ হিজরিতে (১৩১৬ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মাদ খরাবান্দার কাছে মক্কা থেকে হামিজা বিন আবি নুমাই এসে মক্কায় হামলা করতে উদ্বুদ্ধ করে। মুহাম্মাদ খরাবান্দা তাকে সহায়তা করে। মক্কাবাসী ছিল সুন্নি, এটিই হয়তো তাকে উদ্বুদ্ধ করে থাকবে। কিন্তু খরাবান্দা মক্কায় আক্রমণের আগেই মৃত্যুবরণ করেন। ফলে যুদ্ধ থেমে যায়। তারপর তার পুত্র আবু সাইদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আবু সাইদ

📄 আবু সাইদ


আবু সাইদ ক্ষমতায় বসে নিতান্তই শিশু বয়সে। সে সময় তার মৃত বাবার মন্ত্রী চুবান উত্তর সাম্রাজ্যের সুলতান মুহাম্মাদ উজবেকের সাথে যোগাযোগ করে আবু সাইদের অঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব জানান। কিন্তু মুহাম্মাদ উজবেক তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর চাগতাই পরিবারের সেনাপতি ইয়াইসুরের সাথে আবু সাইদের বাহিনীর লড়াই হয়। এ লড়াইয়ে আবু সাইদ জয়লাভ করে। আবু সাইদের বিরুদ্ধে মুহাম্মাদ উজবেক ও ইয়াইসুর একাট্টা ছিল। কিন্তু ইয়াইসুরের পরাজয়ে মুহাম্মাদ উজবেককে যুদ্ধবিরতি দিয়ে পিছু হটতে হয়।
তখন মুহাম্মাদ উজবেক মামলুক সুলতানের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করতে চাইলেন। কিন্তু মামলুক সুলতান মুহাম্মাদ বিন কালাউন উল্টো সন্ধি করে নেন আবু সাইদের সাথে।
আবু সাইদের সময়ে ধীরে ধীরে তার পিতার শিয়া চিন্তাধারা বিলুপ্ত হয়ে সুন্নি মতবাদ ফিরে আসতে লাগল। অন্যদিকে সে সময় ইলখানিয়াজুড়ে বিদ্রোহের পর বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে লাগল। আঞ্চলিক শাসকেরা তাদের এলাকা নিয়ে স্বাধীন হয়ে যেতে লাগল। ফলে অল্প সময়ে ইলখানিয়া সাম্রাজ্য কয়েক টুকরো হয়ে পড়ে। সেখানে তৈরি হয় কয়েকটি নতুন রাজ্য; যেমন জালায়িরিয়‍্যা, আরাতিকা ইত্যাদি। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় অরাজক এক পরিস্থিতি। এভাবে ইলখানিয়া সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, যার শেষ শাসক ছিলেন আবু সাইদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00