📄 আরগুন
আরগুন পিতার কাছ থেকে প্রচণ্ড ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে বড় হন। তাই তিনি মুসলিম চাচা থেকে মুক্তি পেতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর মামলুক ও গোল্ডেন হোর্ডের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য মিত্রতা গড়ে তোলেন খ্রিষ্টশক্তি ও আর্মেনীয়দের সাথে। তখনকার গোল্ডেন হোর্ডের অধিপতি তোদান মাংকো খানও ছিলেন মুসলিম। ৬৯১ হিজরিতে (১২৯২ খ্রিষ্টাব্দে) আরগুন মৃত্যুবরণ করে। তার স্থলবর্তী হন তার ভাই কিগাতো।
📄 গিগাতো
অল্প কয়েকদিন শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। ৬৯৩ হিজরিতে (১২৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) নিহত হন।
📄 বায়দো
তিনি হলেন কিগাতোর চাচাতো ভাই। অর্থাৎ হালাকু খানের ছেলে তারখাইয়ের পুত্র। তার শাসনকালও দীর্ঘ হয়নি। ৬৯৫ হিজরিতে (১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি নিহত হন।
📄 গাজান
গাজান প্রথমে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন। তারপর ৬৯৪ হিজরিতে (১২৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে নিজের নাম রাখেন মাহমুদ। ৬৯৫ হিজরিতে (১২৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) ক্ষমতায় বসার সাথে সাথেই তুলুই বংশের সকল মানুষসহ প্রায় ৭০ হাজার তাতার ইসলাম গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ইলখানিয়া সাম্রাজ্য মুসলিম সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। কিন্তু এরপরও মামলুকদের সাথে তার লড়াই অব্যাহত ছিল। অধিকাংশ যুদ্ধে তার পরাজয় হতো।
মামলুকদের বিরুদ্ধে তার বড় পরাজয়ের ঘটনাটি ঘটে ৭০২ হিজরিতে (১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে) শাকহাব যুদ্ধে। শামে সংঘটিত এই যুদ্ধে তাতারদের মোকাবিলায় দাঁড়িয়েছিলেন মহান ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ., মামলুক সুলতান ও আব্বাসি খালিফা। এই যুদ্ধে গাজান ভীষণ পর্যুদস্ত হয়। একই সময়ে উত্তরে মারাগা ও তাবরিজ দখলকে কেন্দ্র করে গোল্ডেন হোর্ডের তৎকালীন ক্ষমতাসীন তাকতাইয়ের সাথেও লড়াই চলছিল। শামের পরাজয়ের ফলে উত্তরের লড়াইও থামিয়ে দিতে বাধ্য হন গাজান। ৭০৩ হিজরিতে (১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি ইনতেকাল করেন। তার স্থলবর্তী হন তারই ভাই উলজাইতু।