📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আবাকা খান

📄 আবাকা খান


হালাকু খানের পুত্র আবাকা খান। রাজত্বের পুরোটা সময় তার চতুর্মুখী যুদ্ধে যুদ্ধে কাটে। উত্তর দিকে লড়াই চলছিল আপন চাচাতো ভাইদের সাথে। প্রথম কিছুদিন বারকে খান, তারপর মাংকো তৈমুরের বিরুদ্ধে। মাংকোর বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে অনেক বড় বিজয় লাভ করেন আবাকা খান। কিন্তু এরপর তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয় তিন বংশ। কেদু বিন কাশিনের নেতৃত্বে ওগেদাই বংশ এবং বুরাক খানের নেতৃত্বে চাগতাই বংশ এসে উত্তর সাম্রাজ্যের মোঙ্গলীয়দের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়। তারপর পূর্ব দিক থেকেও আক্রমণ শুরু হয়। এদিকে পশ্চিম পাশে একের পর এক সংঘর্ষ চলছিল মামলুকদের সাথে। মামলুকরা একাধিকবার আবাকা খানের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিজয় আসে ৬৭৩ হিজরিতে (১২৭৪ খ্রিষ্টাব্দে)। বাইবার্সের সময়ে মামলুকরা আনাতোলিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। ৬৭৯ হিজরিতে (১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে) আবাকা খান শাম দখলের চেষ্টা করে পর্যুদস্ত হয়। ৬৮০ হিজরিতে (১২৮১ খ্রিষ্টাব্দে) পুনরায় সুলতান কালাউনের বাহিনীর কাছে বিধ্বস্ত হয় তার বাহিনী। এ সময় ফুরাত নদী পর্যন্ত মামলুকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফুরাতই ছিল মামলুক ও ইলখানিয়া মোঙ্গল সাম্রাজ্যের সীমানা। ৬৮০ হিজরিতে (১২৮১ খ্রিষ্টাব্দে) আবাকা খান মৃত্যুবরণ করেন। তার সাম্রাজ্যে অধিষ্ঠিত হয় তার ভাই তেকুদার খান। আবাকা খান মুসলিমবিদ্বেষী হয়ে উঠেছিল তার বাবা হালাকু খানের উত্তরাধিকারসূত্রে। আবার আবাকা খানও নিজ পুত্র আরগুনের জন্য সেই উত্তরাধিকার রেখে যান অক্ষুণ্ণভাবে। আবাকা খানের ইসলামবিদ্বেষের নেপথ্যে অন্যতম কারণ ছিল কনস্টান্টিনোপলের রাজকন্যা। খ্রিষ্টচক্র পরিকল্পনামাফিক তার সাথে রাজকন্যাকে বিয়ে দিয়েছিল তাকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তেকুদার

📄 তেকুদার


হালাকু বংশের প্রথম মুসলিম। এই পুত্রকে প্রতিপালনের জন্য হালাকু খান এক মুসলিম পরিবারকে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। তেকুদার ইসলামি পরিবেশে লালিতপালিত হওয়ায় স্বভাবতই মুসলিম মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি নিজের নাম রাখেন আহমাদ। ক্ষমতায় আরোহণ করে তেকুদার আহমাদ ৬৮১ হিজরিতে (১২৮২ খ্রিষ্টাব্দে) মামলুক সুলতান কালাউনের সাথে শান্তিচুক্তি করতে মনস্থ করেন। কিন্তু তখন আবাকা খানের পুত্র আরগুন খান চাচা তেকুদারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাকে হত্যা করে ফেলেন। যেসময় তেকুদার মামলুক সুলতানের কাছে দূত প্রেরণ করেছিলেন ঠিক সে সময়ই তাকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসেন ভাতিজা আরগুন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আরগুন

📄 আরগুন


আরগুন পিতার কাছ থেকে প্রচণ্ড ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে বড় হন। তাই তিনি মুসলিম চাচা থেকে মুক্তি পেতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর মামলুক ও গোল্ডেন হোর্ডের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য মিত্রতা গড়ে তোলেন খ্রিষ্টশক্তি ও আর্মেনীয়দের সাথে। তখনকার গোল্ডেন হোর্ডের অধিপতি তোদান মাংকো খানও ছিলেন মুসলিম। ৬৯১ হিজরিতে (১২৯২ খ্রিষ্টাব্দে) আরগুন মৃত্যুবরণ করে। তার স্থলবর্তী হন তার ভাই কিগাতো।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গিগাতো

📄 গিগাতো


অল্প কয়েকদিন শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। ৬৯৩ হিজরিতে (১২৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) নিহত হন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00