📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সাহিব কুরাই

📄 সাহিব কুরাই


রুশ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করে। বিশেষত সাহিব কুরাই তখন কাজানের শাসনকর্তা ছিলেন। এলাকাটি তিনি তার ভাতিজা সাফা কুরাইয়ের কর্তৃত্বে রেখে সেখান থেকে বের হয়ে যান। অতঃপর ৯৫৮ হিজরিতে (১৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে) আস্ট্রাক্যানকে তিনি নিজের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে সক্ষম হন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দৌলত কুরাই

📄 দৌলত কুরাই


সাহিব কুরাইকে হত্যা করা হয়। তার অপরাধ ছিল, কাজানের অন্তর্গত আস্ট্রাক্যান দখলের প্রচেষ্টা। কিন্তু দৌলত কুরাই রুশদের হাত থেকে কাজানকে উদ্ধার করতে পারেনি। ৯৮৫ হিজরি পর্যন্ত তিনি ক্রিমিয়ার দায়িত্বশীল ছিলেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্বিতীয় মুহাম্মাদ কুরাই

📄 দ্বিতীয় মুহাম্মাদ কুরাই


মুহাম্মাদ কুরাই উসমানি সেনাপতি উসমান পাশাকে ককেশাস অভিযানে সহযোগিতা না করে টালবাহানা করতে লাগলেন। এতে উসমান পাশা ক্ষুব্ধ হয়ে মুহাম্মাদ কুরাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মনস্থ করলেন। তিনি মুহাম্মাদের ভাই ইসলাম কুরাইকে ক্রিমিয়ার সিংহাসনে বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাহায্য চাইলেন। ইসলাম কুরাই তাতে সম্মত হয়ে মুহাম্মাদ কুরাইকে হত্যা করলেন এবং ওয়াদা অনুযায়ী ক্রিমিয়ার শাসনক্ষমতায় আরোহণ করলেন। এরপর থেকে ক্রিমিয়ার শাসক নির্বাচনের চাবিকাঠি ইস্তাম্বুলের হাতে চলে গেল।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ক্রিমিয়ায় রুশ কর্তৃত্ব

📄 ক্রিমিয়ায় রুশ কর্তৃত্ব


রাশিয়া কাজাখ গোষ্ঠীকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারার কারণ হলো উসমানি প্রধানমন্ত্রী কারা মোস্তফার মন্দ আচরণ। ১১২৫ হিজরি (১৭১৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালের এডির্নে চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ক্রিমিয়াকে জিজিয়া প্রদান বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা আজভের একটি বন্দর দখল করে নিতে সক্ষম হয়। ১১৮৬ হিজরিতে (১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে) ক্রিমিয়ার শাসক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে রাশিয়া। তারা শাহিন পাশার পক্ষ নেয়। এরপর ক্রিমিয়ায় তৃতীয় দৌলত কুরাইয়ের কর্তৃত্বের সময় রাশিয়া ১১৮৯ হিজরিতে (১৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) কুচুক কায়নারচা চুক্তির মাধ্যমে উসমানিদের বাধ্য করে ক্রিমিয়াকে স্বাধীনতা দিতে। তারা শাহিন পাশাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে। ১১৯৭ হিজরিতে (১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে) চূড়ান্তরূপে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। উসমানিরা আর ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় না। সোভিয়েত রাশিয়া প্রতিষ্ঠার পর তারা ইউক্রেনকে উপহার হিসেবে ক্রিমিয়া প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অন্তর্গত রয়ে যায়।
রুশরা অনেক মুসলিম শাসিত অঞ্চল হজম করে ফেলেছিল। যেমন উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্য, ককেশাস, তুর্কিস্তান ইত্যাদি। তারা যেখানে প্রবেশ করত, বিশেষ করে মস্কোর নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে মুসলিমদের ওপর কঠিন নির্যাতনের পন্থা গ্রহণ করত। (১০) তাদের অত্যাচার স্পেনের জেরা পদ্ধতির চেয়েও মারাত্মক ছিল। এমনকি তারা আরও নতুন নতুন পন্থা বের করে নির্যাতন চালাত। আমরা উদাহরণস্বরূপ কিছু উল্লেখ করছি, যদিও এগুলোই সব নয়—

* স্পেনের সাথে যোগাযোগ করে সেখানকার মুসলিমদের যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, সে পন্থা জেনে নেওয়া হতো।
* খুন, ইজ্জত লুণ্ঠনসহ নির্যাতন ও ধ্বংসের সব রকম পন্থা প্রয়োগ করা হতো।
* দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হতো। বিপুল সংখ্যক স্থানীয় তাতার মুসলিম হিজরত করে বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও ইউরোপ-আমেরিকায় চলে গিয়েছিল। যারা থেকে যেত, তাদেরকে সোভিয়েতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হতো। যে কারণে প্রতিটি এলাকায় মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেককে পাঠানো হয়েছিল সাইবেরিয়ার বরফাবৃত শীতল অঞ্চলে, যেখানে ঠান্ডার সাথে লড়াই করেই অনেক মানুষের জীবন নিঃশেষ হয়ে যেত। ক্রিমিয়া, চেচনিয়া, বাশকোরতোস্তান ইত্যাদি অঞ্চলের তাতার মুসলিমদের গোটা বংশকেই সাইবেরিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনেক জাতির ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ হয়েছিল।
* স্থানীয় মুসলিমদের সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যে তাদের বসবাসের এলাকায় রুশ বসতি বিস্তার করা শুরু হয়। স্থানীয়দের উর্বর ভূমিসমূহ বাজেয়াপ্ত করে রুশ অভিবাসীদের সোপর্দ করা হয়। মুসলিমদের বাড়িঘর প্রচুর পরিমাণে ধ্বংস করা হয়। অন্যান্য অমুসলিম জাতিগুলোকেও মুসলিম অঞ্চলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ক্রিমিয়া অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ইহুদিকে অভিবাসিত করা হয়।
* মসজিদ ভাঙা থেকে শুরু করে, সেগুলোকে গির্জা, ঘোড়ার আস্তাবল, সেনাক্যাম্প, নাট্যশালা, মদের আড্ডা ইত্যাদিতে পরিণত করা হয়। মুসলিম ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। দ্বীনি মাদরাসা-মক্তবগুলোকে খ্রিষ্টধর্মের প্রচারকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়।
* মুসলমানদের ওপর দুঃসাধ্য করের বোঝা চাপানো এবং অতি নিম্নমানের জীবনযাত্রার দিকে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর চাকরিতে তাদের জবরদস্তিমূলক প্রবেশ করানো হতো। অবশ্য কেউ যদি ধর্ম ত্যাগ করত, তাহলে সে সব ধরনের চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে যেত। তবে ধর্মত্যাগীদের সংখ্যাটা ছিল খুবই কম। এ ছাড়া অনেক মুসলিম নিজেদের ধর্ম গোপন করে দ্বীন রক্ষা করছিল।
* খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হতো। অর্থোডক্স ছাড়া অন্য কোনো ধর্মমত গ্রহণের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। জারদের শাসনামলে এ ব্যাপারে আইন করা হয়। ইভান রাহিব, গ্রেট পিটার, সম্রাজ্ঞী হান্না, জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার প্রমুখের সময় এই সংক্রান্ত আইন বলবৎ থাকে। এর ওপর নানা যুগ পার হয়ে একপর্যায়ে তা শিথিলতার পথে হাঁটতে শুরু করে। যেমন দ্বিতীয় ক্যাথরিনের যুগ। তবে সেটা ইসলামের প্রতি ভালোবাসার জন্য নয়; বরং সে সময় রুশ সম্রাট উসমানিদের সাথে যুদ্ধরত ছিল। তাই তাদের ভয়ে স্থানীয়দের প্রতি কড়াকড়ির সাহস পায়নি রাশিয়ানরা। পাশাপাশি মুসলিমদের পাশে পাওয়া ও ব্যবহার করার জন্য তাদেরকে হেনস্তা করা কমিয়ে দেওয়া হয়। মোটকথা, অত্যাচারের সময়গুলো থেকে বহু মুসলিম ইসলামের পরিচয় গোপন করে প্রকাশ্যে নিজেদের খ্রিষ্টান পরিচয় দিত। কিন্তু তাদের অন্তর ছিল ইসলামের বিশ্বাসে পরিপূর্ণ। তারা প্রজন্ম পরম্পরায় গোপনে ইসলামের শিক্ষা সন্তানদের মাঝে টিকিয়ে রেখেছিল। এজন্য দেখা গেছে, ১৩২৩ হিজরিতে (১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে) ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হলে বহু তাতার মুসলিম নিজেদের ইসলামি পরিচয় প্রকাশ করে, কয়েক শতাব্দী যাবৎ যা গোপন করে রাখা হয়েছিল খ্রিষ্টান পরিচয়ের আড়ালে।

টিকাঃ
১০. সাধারণত এটি ইনকুইজিশন নামে পরিচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00