📄 মুহাম্মাদ কুরাই
মাঙ্কলি কুরাইয়ের মৃত্যুর পর তার ছেলে মুহাম্মাদ কুরাই ৯২১ হিজরিতে শাসনক্ষমতায় আসীন হন। তিনি তার ভাই সাহিব কুরাইকে কাজানের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে, পাশাপাশি আস্ট্রাক্যানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। অতএব, এ সকল রাজ্য রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ঐক্যবদ্ধরূপে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার কারণে কাজানের অধিবাসীরা তাদের সাথে সন্ধি করতে মনস্থির করে। ক্রিমিয়ার তাতাররা সেখানে দৃঢ়পদ হতে সক্ষম হলো না। তাতাররা রুশদের সাথে সার্বক্ষণিক যুদ্ধে ব্যস্ত ছিল। তারা মস্কো থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত টুলা শহরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরপর টুলার পার্শ্ববর্তী রাজ্য রাযানে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রাশিয়া উসমানি খলিফা প্রথম সেলিমের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা জানায়। অতএব তিনি মুহাম্মাদ কুরাইয়ের নিকট হামলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞামূলক বার্তা প্রেরণ করেন। মুহাম্মাদ কুরাই খলিফাকে বোঝাতে চেষ্টা করে যে, রুশ বাহিনী ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনে মারাত্মক ভূমিকা পালনকারী। তবুও তিনি তার সিদ্ধান্তে গোঁ ধরে থাকেন। এমনইভাবে উসমানি খলিফা সুলাইমান কানুনি, বিশেষত তার ওপর অত্যন্ত প্রভাবের অধিকারিনী তার রাশিয়ান স্ত্রী রোকসালানও একই সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এজন্য রুশ এলাকায় আক্রমণ অব্যাহত থাকেনি। মুহাম্মাদ কুরাই পোল্যান্ড অধিবাসীদের সাথেও যুদ্ধে লিপ্ত হন।
📄 সাআদাত কুরাই
৯২৯ হিজরিতে (১৫২২ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মাদ কুরাইয়ের দুই পুত্র গাজি ও বাবা গাদ্দারি করে নিজেদের পিতাকে হত্যা করে। গাজি শাসনক্ষমতায় আরোহণ করে। ক্রিমিয়ায় ঘটে যাওয়া এ পরিস্থিতিকে উসমানি খলিফা মেনে নিতে পারেননি। মুহাম্মাদ কুরাইয়ের ভাই সাআদাত কুরাইকে তিনি নিজের প্রতিনিধি নির্ধারণ করেন। শাসনক্ষমতা স্থির হওয়ামাত্রই তিনি গাজি ও বাবাকে আটক করে তাদেরকে হত্যা করেন।
📄 ইসলাম কুরাই
৯৩৮ হিজরিতে (১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে) ক্রিমিয়ার ক্ষমতার মসনদে ইসলাম কুরাই বসেন। উসমানি খলিফা ইসলাম কুরাইয়ের সাথে এ ব্যাপারে একমত হন যে, ক্রিমিয়াকে উসমানি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তিনি হবেন ক্রিমিয়ার গভর্নর। কিছুদিন পর সাহিব কুরাই ফিরে এলে ক্রিমিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের ব্যাপারে উসমানি খলিফা তাকে সহযোগিতা করেন এবং তিনি তার ভাতিজা ইসলাম কুরাইকে হত্যা করেন।
📄 সাহিব কুরাই
রুশ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করে। বিশেষত সাহিব কুরাই তখন কাজানের শাসনকর্তা ছিলেন। এলাকাটি তিনি তার ভাতিজা সাফা কুরাইয়ের কর্তৃত্বে রেখে সেখান থেকে বের হয়ে যান। অতঃপর ৯৫৮ হিজরিতে (১৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে) আস্ট্রাক্যানকে তিনি নিজের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে সক্ষম হন।