📄 হাজি কুরাই
৮৩৯ হিজরিতে (১৪৩৫ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মাদ ওগলান তার শাসনামলে নিজের ভাইয়ের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়লে ওগলানিদের অনেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের প্রতি মনোযোগী হন। যেমন: গিয়াস উদ্দিন, দৌলত বারদি। হাজি কুরাই ৮৭১ হিজরিতে (১৪৬৬ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ক্রিমিয়ার শাসনক্ষমতা পরিচালনা করেন।
📄 মাঙ্গলি কুরাই
তিনি হলেন হাজি কুরাইয়ের সন্তান। তার শাসনকালেই তার ভাই সদর তার সাথে বিদ্রোহ করেন। তিনি ক্রিমিয়ার আকফা শহরের কিছু উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকারী জেনোয়া অধিবাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা পান। ঠিক সে সময় সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ রহ. জেনোয়াবাসীর সাথে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি ক্রিমিয়া অঞ্চলকে তাদের থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। মাঙ্কলি কুরাই মুহাম্মাদ ফাতিহ রহ.-এর হাতে গ্রেফতার হলে তিনি তাকে নিয়ে ইস্তাম্বুলে চলে যান। কিছুদিন পর তাকে ক্রিমিয়ার দায়িত্বশীল নির্বাচন করে প্রেরণ করেন। সেই সময় থেকে ক্রিমিয়া উসমানি খিলাফতের অধীন হয়ে যায়।
ক্রিমিয়া ও সারাইয়ের মধ্যে শত্রুতা ছিল দীর্ঘদিন ধরে। একপর্যায়ে মাঙ্কলি কুরাই ও রুশ বাহিনীর মাঝে সংঘাত শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে আহমাদ খান লিথুয়ানিয়াবাসীদের নিয়ে সারাইয়ের সাথে ঐক্যবদ্ধ হন। অতএব, দুই মিত্রের মাঝে যুদ্ধবিগ্রহ শুরু হয়। মুরতাজা বিন আহমাদ খান সারাইয়ের ক্ষমতায় আরোহণ করেন এবং ক্রিমিয়ার সাথে তার যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। ৮৯০ হিজরিতে (১৪৮৫ খ্রিষ্টাব্দে) মাঙ্কলি কুরাই সারাই এলাকায় বিজয় লাভ করেন এবং মুরতাজা খানকে বন্দি করে নেন। কিন্তু সারাইয়ের অধিবাসীরা পরবর্তী বছর হামলা করে ক্রিমিয়ার ওপর বিজয় অর্জন করে এবং মুরতাজা খানকে মুক্ত করে নেয়।
মাঙ্কলি কুরাই লিথুয়ানিয়াবাসীদের ওপর বড় ধরনের বিজয় লাভ করেন। মুরতাজা খানের ভাই আহমাদ খান বাধা হয়ে না দাঁড়ালে সকলেই তার বশ্যতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হতো। মাঙ্কলি কুরাই ৯০৭ হিজরিতে সারাই অঞ্চলের ওপর হামলা করে। তখন লিথুয়ানিয়াবাসী সারাইয়ের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে পিছুটান দেখায়। অতএব, মাঙ্কলি কুরাই শহরে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে পুরো এলাকা একেবারে মানচিত্র থেকেই নিশ্চিহ্ন করে দেন।
৯১৭ হিজরির দিকে লিথুয়ানিয়াবাসীদের সাথে রুশ সম্পর্কে ভাটা পড়ে। কারণ, লিথুয়ানিয়াবাসী তখন ক্রিমিয়ান তাতারদের সঙ্গে রাশিয়া আক্রমণের ব্যাপারে সন্ধিবদ্ধ হয়। ৯১৯ হিজরিতে মাঙ্কলি কুরাই ইনতেকাল করে।
📄 মুহাম্মাদ কুরাই
মাঙ্কলি কুরাইয়ের মৃত্যুর পর তার ছেলে মুহাম্মাদ কুরাই ৯২১ হিজরিতে শাসনক্ষমতায় আসীন হন। তিনি তার ভাই সাহিব কুরাইকে কাজানের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে, পাশাপাশি আস্ট্রাক্যানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। অতএব, এ সকল রাজ্য রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ঐক্যবদ্ধরূপে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার কারণে কাজানের অধিবাসীরা তাদের সাথে সন্ধি করতে মনস্থির করে। ক্রিমিয়ার তাতাররা সেখানে দৃঢ়পদ হতে সক্ষম হলো না। তাতাররা রুশদের সাথে সার্বক্ষণিক যুদ্ধে ব্যস্ত ছিল। তারা মস্কো থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত টুলা শহরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরপর টুলার পার্শ্ববর্তী রাজ্য রাযানে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রাশিয়া উসমানি খলিফা প্রথম সেলিমের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা জানায়। অতএব তিনি মুহাম্মাদ কুরাইয়ের নিকট হামলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞামূলক বার্তা প্রেরণ করেন। মুহাম্মাদ কুরাই খলিফাকে বোঝাতে চেষ্টা করে যে, রুশ বাহিনী ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনে মারাত্মক ভূমিকা পালনকারী। তবুও তিনি তার সিদ্ধান্তে গোঁ ধরে থাকেন। এমনইভাবে উসমানি খলিফা সুলাইমান কানুনি, বিশেষত তার ওপর অত্যন্ত প্রভাবের অধিকারিনী তার রাশিয়ান স্ত্রী রোকসালানও একই সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এজন্য রুশ এলাকায় আক্রমণ অব্যাহত থাকেনি। মুহাম্মাদ কুরাই পোল্যান্ড অধিবাসীদের সাথেও যুদ্ধে লিপ্ত হন।
📄 সাআদাত কুরাই
৯২৯ হিজরিতে (১৫২২ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মাদ কুরাইয়ের দুই পুত্র গাজি ও বাবা গাদ্দারি করে নিজেদের পিতাকে হত্যা করে। গাজি শাসনক্ষমতায় আরোহণ করে। ক্রিমিয়ায় ঘটে যাওয়া এ পরিস্থিতিকে উসমানি খলিফা মেনে নিতে পারেননি। মুহাম্মাদ কুরাইয়ের ভাই সাআদাত কুরাইকে তিনি নিজের প্রতিনিধি নির্ধারণ করেন। শাসনক্ষমতা স্থির হওয়ামাত্রই তিনি গাজি ও বাবাকে আটক করে তাদেরকে হত্যা করেন।