📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খানিয়াতে সাইবেরিয়া

📄 খানিয়াতে সাইবেরিয়া


বাতু বিন জোচি তার ভাই শাইবান আলিকে উরাল পর্বতমালার পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নর নির্ধারণ করেন। তিন তখন সাইবেরিয়া নামক একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
এরপর উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের রাজধানী সারাইয়ের অধীনে ৬৪০ হিজরিতে (১২৪২ খ্রিষ্টাব্দে) সাইবেরিয়া রাজ্য প্রতিষ্ঠা পায়। শাইবানি পরিবারের সদস্যরাই সেখানে ধারাবাহিক শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকে। কিন্তু তৈমুর লংয়ের শাসনক্ষমতার পর সারাই থেকে অন্য রাজ্যগুলোর মতো সাইবেরিয়াও স্বাধীন হয়ে যায়। কুতশুম খান ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত শাইবানি বংশধররা শাসনকার্য পরিচালনা করে। তিনি এসে রুশদের আনুগত্যমূলক তার পূর্বপুরুষদের কৃত চুক্তি ভঙ্গ করেন এবং রুশবিরোধী যুদ্ধে নোগাইদের সাথে হাত মেলান। কাজাখদের রুশবিরোধিতায় উদ্বুদ্ধ করে। ঠিক এ সময় ইয়ারমুক বিন তাইমা ধূমকেতুর মতো আত্মপ্রকাশ করে এবং কাজাখদের কিছু নরাধমকে নিজের মতাবলম্বী বানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। তাতারের বিভিন্ন এলাকায় তারা হামলা শুরু করে। ১০০৩ হিজরিতে (১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) তারা সাইবেরিয়ার একটি দুর্গ দখল করে নেয় এবং রুশদের কাছে তা বিক্রি করে দেয়। কুতশুম তখন বাশকোরতোস্তান (বাশকির) রাজ্যের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং নিবাস হিসেবে উফা শহরকে বেছে নেন।
মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসবাস করেন। তার পুত্রদ্বয় আলি খান ও আইশাম খান পিতার শাসনকৃত এলাকাসমূহ রাশিয়ানদের থেকে পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে রুশ বাহিনী কাজান, আস্ট্রাক্যান, সাইবেরিয়া ইত্যাদি এলাকায় নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে উরাল পর্বতমালার পূর্বদিকে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে। এরপর তারা নোগাইদের রাজ্যও নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় এবং বনি শাইবান প্রতিষ্ঠিত সাইবেরিয়ান অধিকাংশ রাজ্যের দফারফা করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00