📄 ইবরাহিম খান
মাহমুদ খানের সন্তান। তার মা মস্কোতে পালিয়ে গিয়ে তার এক চাচা কাশেমকে বিয়ে করেন। ৮৭৩ হিজরিতে (১৪৬৮ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাশিয়ার সাহায্যে তিনি কাজানের ওপর আক্রমণ করে যান। ইবরাহিমের মায়ের প্রচেষ্টা ছিল পুত্র ও রাজা তৃতীয় ইভানের মধ্যে সমঝোতা কায়িম করা। তা সত্ত্বেও রাশিয়া ও কাজানের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই ছিল। একসময় রাশিয়া কাজানের কিছু কিছু অংশ বিধ্বস্ত করে মস্কোর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। ইবরাহিমের মৃত্যু হয় ৮৮৩ হিজরিতে (১৪৭৮ খ্রিষ্টাব্দে)।
📄 ইলহাম খান
তিনি শাসন করেন ১০ বছর। তার ভাই মুহাম্মাদ আমিন তার সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। তাই সে মস্কো গিয়ে সাহায্য কামনা করে। রুশরা তাকে সাহায্য করে। সাহায্য পেয়ে ৮৯৩ হিজরির (১৪৮৮ খ্রিষ্টাব্দের) দিকে সে কাজানের উপর হামলা করে। একসময় কাজান তার দখলে চলে আসে। ইলহাম খানকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে তাতে সে আসন গাড়ে। আর তার ভাই রুশদের হাতে বন্দি হয়।
📄 মুহাম্মাদ আমিন খান
কাজানের অধিবাসীরা মুহাম্মাদ আমিনের ওপর রুষ্ট হলে ককেশাসের মামুক খান শাইবানির সাথে যোগাযোগ করে, তাকে মুহাম্মাদ আমিনের পর শাহ হিসেবে পাওয়ার জন্য। ৯০২ হিজরিতে (১৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) মামুক কাজানে প্রবেশ করতে চেষ্টা করে। মুহাম্মাদ আমিন রাজা তৃতীয় ইভানের নিকট সাহায্য চায়। রাজা তৃতীয় ইভান তাকে সাহায্য করলে মামুকের কাজান প্রবেশ অভিযান ব্যর্থ হয়। কিন্তু মামুক বারবার চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে সে কাজানে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। আর মুহাম্মাদ আমিন তার পরিবার নিয়ে পালিয়ে যায় মস্কোতে। কিন্তু মামুকও কাজানিদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে তার এক যুদ্ধে বের হওয়াকে সুযোগ মনে করে কাজানিরা শহরের সব দরজা বন্ধ করে দেয়। তারা রাজা তৃতীয় ইভানের সাথে পত্র যোগাযোগ করে মুহাম্মাদ আমিনের ভাই আবদুল লতিফকে তাদের শাসক হিসেবে চায়। রাজা ইভান এতে একমত পোষণ করে। এরপর আবদুল লতিফ সিংহাসনে বসে। কিন্তু মুহাম্মাদ আমিন ৯০৮ হিজরিতে (১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে) আবার কাজান অধিকার করতে সক্ষম হয় এবং আবদুল লতিফকে বন্দি করে রাশিয়া পাঠিয়ে দেয়। এ সময় মুহাম্মাদ আমিনের স্ত্রী, যে ইতিপূর্বে ইলহাম খানের স্ত্রী ছিল মুহাম্মাদ আমিনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। এজন্য কাজান ও উরাল তীরবর্তী শহরগুলোর এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মুহাম্মাদ আমিন রাশিয়ার দিকে বের হয়। এভাবেই মুহাম্মাদ আমিনের সময় কাজান ও রুশ বাহিনীর মধ্যে বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই সময় মুহাম্মাদ আমিনের ভাই আবদুল লতিফকে ক্রিমিয়ার বাদশাহ মাঙ্কলি খানের মধ্যস্থতায় মুক্ত করে দেওয়া হয়। আবদুল লতিফ পুনরায় কাজানে ফিরে আসে। মুহাম্মাদ আমিন তাকে শুধু নিরাপত্তাই দেয়নি; বরং তাকে সেখানে তার পরবর্তী শাসক হিসেবেও নিযুক্ত করে। কিন্তু ৯২৫ হিজরিতে (১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে) আমিনের মৃত্যুর আগেই সে পরলোকগত হয়। ওই সময় আর কোনো ভাবী শাসক ছিল না, ফলে রাশিয়া শাইখ আলি খানকে কাজানের গভর্নর নিযুক্ত করে।
📄 সাহিব কুরাই
মুহাম্মাদ কুরাই খান তার ভাই সাহিব কুরাই খানকে ক্রিমিয়ার কাজান শহরের দায়িত্বশীল নির্বাচিত করার জন্য মস্কোকে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মুসলমানদের ঐক্যের ভয়ে মস্কো তা প্রত্যাখ্যান করে। মুহাম্মাদ কুরাইয়ের সাথে কাজানের অধিবাসীরা একাত্মতা প্রকাশ করে। তাদের সহযোগিতায় শাইখ আলিকে অপসারণ করে সাহিব কুরাই খানকে কাজানের দায়িত্বশীল মনোনীত করা হয়। ফলে কাজান ও ক্রিমিয়া রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ পরিচালনায় একমত হয়ে যায়। শাইখ আলির নেতৃত্বে মস্কো তার বাহিনীকে কাজানের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রেরণ করে। ৯৩০-৯৩১ হিজরি সনে (১৫২৫-১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে) এ বাহিনী কাজানের অধিবাসীদের ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়। এ সময় সাহিব কুরাই খান অত্র অঞ্চলের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য উসমানি খলিফা সুলাইমান কানুনিকে আবেদন করেন। খলিফা রাজি হন এবং মস্কোবাসীকে এ সংবাদ জানানোর জন্য দূত প্রেরণ করেন। কিন্তু রুশরা তা প্রত্যাখ্যান করে।