📄 মুহাম্মাদ ওগলান খান
তৈমুর লংয়ের পর উত্তর মোঙ্গলদের রাজধানী সারাইয়ের সাথে রাশিয়ার কাজানের সম্পর্ক হয়ে যায়। ৮৪১ হিজরিতে (১৪৩৭ খ্রিষ্টাব্দে) সারাইয়ের দুই সম্রাট মুহাম্মাদ ওগলান ও তার ভাই কাজাক মুহাম্মাদের মাঝে যখন যুদ্ধ হয়, তখন কাজাক সারাইতে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়।
একসময় মুহাম্মাদ ওগলান কাজানে পালিয়ে আসে এবং কাজানসহ তৎসংলগ্ন আরও কিছু অঞ্চল শাসন করে। এগুলোকে সারাই থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। দিনে দিনে তা সম্প্রসারণের কাজে হাত চালাতে থাকেন। মুহাম্মাদ ওগলান রাশিয়া আক্রমণ করেন। কেননা তিনি যখন তার ভাইয়ের কাছ থেকে পালিয়ে রুশদের আশ্রয় কামনা করেন, তখন সারাইয়ের প্রাক্তন শাসক থাকাকালে বহু ভালো আচরণের পরও তার সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। তাই বেশ কয়েকবারই তিনি রুশদের দেশের ওপর হামলা করেন। ৮৫০ হিজরিতে (১৪৪৬ খ্রিষ্টাব্দে) আক্রমণের আগ পর্যন্ত তিনি শুধু গনিমত নিয়েই ক্ষান্ত ছিলেন। কিন্তু এ বছর তিনি অবরোধ করেন এবং তা খুবই সঙ্গোপনে। তার অবরোধের সময় সুযোগ বুঝে শাইবানের এক শাসক কাজান দখল করে নেয়। তাই তিনি মস্কো থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিতে বাধ্য হন এবং কাজান ফিরে নিজের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
📄 মাহমুদ খান
মুহাম্মাদ ওগলান মস্কোর পথে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহর সারাহর কর্তৃত্ব ছেড়ে দেন। এটি তার ও তার সন্তান মাহমুদের মাঝে দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাহমুদ তার বাবা-মাকে হত্যা করে ৮৫০ হিজরিতে (১৪৪৬ খ্রিষ্টাব্দে) ক্ষমতা দখল করে। এই হত্যার ফলে মাহমুদের অন্যান্য ভাই মস্কো পালিয়ে যায়। ৮৭২ হিজরিতে (১৪৬৭ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাহমুদের হাতে ক্ষমতা ছিল।
📄 ইবরাহিম খান
মাহমুদ খানের সন্তান। তার মা মস্কোতে পালিয়ে গিয়ে তার এক চাচা কাশেমকে বিয়ে করেন। ৮৭৩ হিজরিতে (১৪৬৮ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাশিয়ার সাহায্যে তিনি কাজানের ওপর আক্রমণ করে যান। ইবরাহিমের মায়ের প্রচেষ্টা ছিল পুত্র ও রাজা তৃতীয় ইভানের মধ্যে সমঝোতা কায়িম করা। তা সত্ত্বেও রাশিয়া ও কাজানের মধ্যে যুদ্ধ লেগেই ছিল। একসময় রাশিয়া কাজানের কিছু কিছু অংশ বিধ্বস্ত করে মস্কোর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। ইবরাহিমের মৃত্যু হয় ৮৮৩ হিজরিতে (১৪৭৮ খ্রিষ্টাব্দে)।
📄 ইলহাম খান
তিনি শাসন করেন ১০ বছর। তার ভাই মুহাম্মাদ আমিন তার সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। তাই সে মস্কো গিয়ে সাহায্য কামনা করে। রুশরা তাকে সাহায্য করে। সাহায্য পেয়ে ৮৯৩ হিজরির (১৪৮৮ খ্রিষ্টাব্দের) দিকে সে কাজানের উপর হামলা করে। একসময় কাজান তার দখলে চলে আসে। ইলহাম খানকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে তাতে সে আসন গাড়ে। আর তার ভাই রুশদের হাতে বন্দি হয়।