📄 উত্তর মোঙ্গল রাষ্ট্রভাগ ও বিশুদ্ধখলা
এটা ঠিক যে, উত্তর মোঙ্গলদের সাম্রাজ্য ইউরোপের মধ্যপোল্যান্ড থেকে বিস্তৃত হয়ে প্রাচ্যের মধ্য-সাইবেরিয়ায় পৌঁছেছে। আর এদিকে আর্কটিক মহাসাগর থেকে দক্ষিণ আজারবাইজান পর্যন্ত পৌঁছেছে। উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের তখন বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ছিল। যেমন ইউরোপের পূর্বে ও সাইবেরিয়ার পশ্চিমে এবং ভলগা নদীর পাশে ছিল তাতার মুসলমানরা। এর পশ্চিমাংশে ছিল খ্রিষ্টান রুশরা। খোয়ারিজমে তুর্কিরা এবং আজারবাইজানে আজারীরা। এ ছাড়া ককেশাসের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী যেমন ছিল, তেমনই অন্য অনেক জনগোষ্ঠী তখন মোঙ্গল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতৎসত্ত্বেও মাহমুদ বারদির মৃত্যুর পর দেশে দেশে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তার সন্তান তোকতামিস ছিল ছোট। এর ফলে প্রকাশ্যেই ভাগ-বিভক্তি শুরু হয়ে গিয়েছিল। হাজি মুহাম্মাদ খান সাইবেরিয়া অধিকার করে। মামাই খান সারাই শহরে আবদুল্লাহ খানকে বসিয়ে নিজে ক্রিমিয়া অধিকার করে। আস্ট্রাক্যান অঞ্চল অধিকার করে নেয় হাজি শারকাস।
এদিকে তোকতামিস পালিয়ে সমরকন্দের চাগতাইদের কাছে চলে আসে।
এ সময় তৈমুর লং বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সে তোকতামিসকে অভিবাদন দিয়ে তার রাজ্য তার কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু এই অবস্থা বেশি দিন না যেতেই তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব লেগে ৭৮৮ হিজরিতে (১৩৮৬ খ্রিষ্টাব্দে) লড়াই শুরু হয়। এই লড়াই শেষ হয় উত্তর মোঙ্গলদেরকে নিজ শাসনাধীন করে তৈমুর লংয়ের বিজয়ের মাধ্যমে। তোকতামিস আত্মগোপন করে। শেষমেশ তার কী হয়েছিল সেই ব্যাপারে অনেক কথা পাওয়া যায়।
উত্তর মোঙ্গলদের নিজের করতলগত করার পর তৈমুর লং তার পক্ষ থেকে একজন শাসক নির্ধারণ করে দেয়। আর নিজে অন্যান্য অঞ্চলের জন্য যুদ্ধে মনোযোগী হয়। ফলে এই দেশগুলোতে ক্রমান্বয়ে ভাগ ও বিভক্তি হতে শুরু করে। বহুসংখ্যক রাজা-বাদশাহ উত্তর মোঙ্গলদের দেশগুলো শাসন করে। তাতার ও লিথুয়ানিয়ানদের মধ্যে বেশ কয়েকবার যুদ্ধ হয়। তাতে তাতাররা জয়লাভ করে। অনুরূপ ৮১১ হিজরিতে রাশিয়া ও তাতারদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। একসময় তারা উভয়েই লিথুয়ানিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। উত্তর মোঙ্গলদের মধ্যে কয়েকটি রাজ্য আত্মপ্রকাশ করে, যেমন: ক্রিমিয়া, কাজান, আস্ট্রাক্যান, সাইবেরিয়া ও খোয়ারিজম। এই সবগুলোই সারাই শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরস্পরে লড়াই শুরু করে। একদল রাশিয়া ও একদল লিথুয়ানিয়ানদের পক্ষ নেয়। উত্তরাঞ্চলীয় মোঙ্গলদের রাজ্যে যেন স্পেনের করুণ দৃশ্য পুনরায় চিত্রায়িত হয়। বিভিন্ন সুযোগে রুশরা একের পর এক এসব রাজ্য হজম করতে থাকে। খোয়ারিজম ছাড়া বাকি খানাতগুলো নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করব। পশ্চিম তুর্কিস্তানের আলোচনায় আলাদা একটি অধ্যায়ের মধ্যে খোয়ারিজম নিয়ে আলোচনা করব।