📄 তোদান মানকো
মাংকো তৈমুর ৬৭৯ হিজরিতে (১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে) মারা গেলে তার জায়গায় আসীন হয় তার ভাই তোদান মাংকো। চাগতাই বংশের বুরাক খানের সাথে তার লড়াই হলে তাতে তিনিই বিজয়ী হন। তাদের মধ্যে সন্ধি হয়। বুরাক খানকে সে আবাকার সাথে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে আবাকা খানের সাথে বুরাক খানেরও লড়াই শুরু হয়।
দীর্ঘদিন মামলুক সুলতান কালাউনের সাথে পত্র আদান-প্রদানের পর তোদান মাংকো নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যে ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়নে কাজ করেন। একসময় আলেমদের সংশ্রবে চলে যাওয়ার জন্য শাসনভার ছেড়ে দেন। ৬৮৬ হিজরিতে (১২৮৭ খ্রিষ্টাব্দে) উত্তর মোঙ্গলদের শাসক হিসেবে তার ভাতিজা তালাবোগা তার স্থলাভিষিক্ত হয়।
📄 তালাবোগা
উত্তরের কিছু জাতির সাথে যুদ্ধ করার সময় তালাবোগা ও সেনাপতি নোগাইয়ের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাস্তায় তালাবোগার সঙ্গে আসা সব সৈন্য নিহত হয়। অপর দিকে নোগাইয়ের সকল সৈন্য অক্ষত থাকে। ফলে তালাবোগা ধারণা করে নোগাই তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে। নোগাইও তালাবোগার মনের কথা ধরে ফেলে। তাই সে আগেভাগেই তালাবোগাকে সরিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটে এবং তার জায়গায় তার ভাই তাকতাইকে স্থলাভিষিক্ত করে ৬৯০ হিজরিতে।
📄 তাকতাই
নোগাই ও তাকতাইর মাঝেও দ্বন্দ্ব হলো। তাকতাই নোগাইকে হত্যা করল। এরপর সে ইলখানাতের বাদশাহ গাজানের সাথে লড়াই করতে বের হয়। লড়াইয়ের উপলক্ষ্য, আজারবাইজান ও মারাগা করতলগত করা। কিন্তু গাজান তার সৈন্যসামন্তসহ তাকতায়ির মুখোমুখি হওয়ার আগেই মারা যায়। তাকতাই মাওয়ারাউন নাহার সুলতানের সঙ্গে ৭০৯ হিজরিতে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অতঃপর ৭১২ হিজরিতে (১৩১২ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করে।
📄 গিয়াসউদ্দিন মুহাম্মাদ উজবেক
তিনি তাকতাইর নিজ হাতে হত্যাকৃত ভাই তুগরিলাজার পুত্র। চাগতাই বংশের মাওয়ারাউন নাহারের শাসক কোবেকের সাথে ইলখানাতের বাদশাহ আবু সাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সংঘবদ্ধ হয়। কিন্তু কোবেকের সেনাপতির পরাজয় গিয়াস উদ্দিনকে আবু সাইদের পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। ৭২২ হিজরিতে (১৩২২ খ্রিষ্টাব্দে) মুহাম্মাদ উজবেক মৃত্যুবরণ করেন।