📄 ছারতাক
৬৫০ হিজরিতে (১২৫২ খ্রিষ্টাব্দে) বাতু মারা গেলে তার ছেলে ছারতাক উত্তর মোঙ্গলদের শাসনভার গ্রহণ করে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই সে মারা যায়। এদিকে তার সন্তানরাও অনেক ছোট থাকায় তার চাচা বারকে খান এই পদে অধিষ্ঠিত হন।
📄 বারকে খান
বারকে খানকে ধরা হয় মোঙ্গলদের প্রথম মুসলিম শাসক। এজন্যই অন্যান্য মোঙ্গলীয় পরিবার থেকে উত্তরাঞ্চলীয় মোঙ্গলরা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী ছিল। ৬৫০ হিজরিতে মোঙ্গলদের প্রধান রাজধানী কারাকোরাম থেকে ফেরার সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি যখন বুখারার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সেখানকার এক আলিমের সাথে দেখা করেন এবং তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ৬৫৩ হিজরিতে তিনি (১২৫৫ খ্রিষ্টাব্দে) উত্তর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের শাসক হন। তার ইসলাম গ্রহণের ফলে উত্তরের অনেক মোঙ্গল ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলামের প্রতি তার ছিল সীমাহীন ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। বাগদাদের খলিফা মুতাসিমের হাতে বাইআত হন এবং সারাই শহর প্রতিষ্ঠা করেন (যা বর্তমান রাশিয়ার সারাতোভ শহর হিসেবে পরিচিত)। এটিকে উত্তরীয় মোঙ্গলদের রাজধানী করেন এবং তৎকালে দুনিয়ার সর্ববৃহৎ শহর হিসেবে একে গড়ে তোলেন। যাতে অনেক মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।
📄 মানকো তেমুর
বারকে খানের পর এই অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণ করে মাংকো তৈমুর বিন তোগান বিন বাতু। কেননা বারকে খানের কোনো সন্তানসন্ততি ছিল না। তার মাঝে ও আবাকা খানের মাঝে যে যুদ্ধগুলো হয়েছিল বিজয় তাতে শেষমেশ আবাকা খানেরই হয়েছিল। এদিকে মাংকো তৈমুরের সাথে কনস্টান্টিনোপল সম্রাটের যুদ্ধ শুরু হয়। তাতে সম্রাটের রাজ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
📄 তোদান মানকো
মাংকো তৈমুর ৬৭৯ হিজরিতে (১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে) মারা গেলে তার জায়গায় আসীন হয় তার ভাই তোদান মাংকো। চাগতাই বংশের বুরাক খানের সাথে তার লড়াই হলে তাতে তিনিই বিজয়ী হন। তাদের মধ্যে সন্ধি হয়। বুরাক খানকে সে আবাকার সাথে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে আবাকা খানের সাথে বুরাক খানেরও লড়াই শুরু হয়।
দীর্ঘদিন মামলুক সুলতান কালাউনের সাথে পত্র আদান-প্রদানের পর তোদান মাংকো নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যে ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়নে কাজ করেন। একসময় আলেমদের সংশ্রবে চলে যাওয়ার জন্য শাসনভার ছেড়ে দেন। ৬৮৬ হিজরিতে (১২৮৭ খ্রিষ্টাব্দে) উত্তর মোঙ্গলদের শাসক হিসেবে তার ভাতিজা তালাবোগা তার স্থলাভিষিক্ত হয়।