📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সুলতান আল-আশরাফ বার্সবাই

📄 সুলতান আল-আশরাফ বার্সবাই


৮১৫ হিজরি সনে (১৪১২ খ্রিষ্টাব্দে) সুলতান আন-নাসির যায়নুদ্দিন ফারাজ ইন্তেকাল করার পর মামলুক রাষ্ট্রের পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়ে। পরবর্তী দশ বছরে সুলতান পদে চার-চারবার পরিবর্তন ঘটে; কিছুদিন সুলতান পদ শূন্যও থাকে এবং তৎকালীন আব্বাসি খলিফা ২য় মুসতাইন বিল্লাহই মামলুক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। অবশেষে ৮২৫ হিজরি সনে (১৪২২ খ্রিষ্টাব্দে) মামলুক রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করেন সুলতান আল-আশরাফ সাইফুদ্দিন বার্সবাই। তিনি ৮২৫ হিজরি থেকে ৮৪১ হিজরি সন (১৪২২-১৪৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত সুলতান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
সুলতান বার্সবাই বিভিন্ন উচ্চহারের কর আরোপ করে এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে জনজীবন আরও কঠিন করে তোলেন। তবে তার কঠোর শাসনব্যবস্থা ও অত্যধিক প্রভাবের কারণে তার শাসনামলে মামলুক রাষ্ট্রে কোনো ধরনের বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সাইপ্রাস বিজয়

📄 সাইপ্রাস বিজয়


৬৯০ হিজরি সনে (১২৯১ খ্রিষ্টাব্দে) মামলুক সুলতান আল-আশরাফ খলিলের হাতে আক্কা নগরীর পতন ঘটার পর সাইপ্রাস প্রাচ্যে খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়। যেকোনো স্থানে মুসলমানদের হাতে পরাজিত ক্রুসেডারদের জন্য সাইপ্রাস সর্বদা উন্মুক্ত থাকত।
১ম পিটার লুসিনান (Peter 1 de Lusignan) সাইপ্রাসের শাসক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সমুদ্রপথে মুসলমানদের বিভিন্ন জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে দখল করে নিতে থাকেন। তিনি ৭৬৭ হিজরি সনে (১৩৬৫ খ্রিষ্টাব্দে) আলেকজান্দ্রিয়ায় আক্রমণ করেন এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালান। জুমার দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ তখন মসজিদে ছিল। পরে মামলুকদের সৈন্যসমাবেশের সংবাদ পেয়ে ১ম পিটার পালিয়ে যান এবং সঙ্গে করে প্রায় পাঁচ হাজার লোককে বন্দি করে নিয়ে যান।
সুলতান আল-আশরাফ বার্সবাই ৮২৭ হিজরি সনে (১৪২৪ খ্রিষ্টাব্দে) সাইপ্রাসের ক্রুসেডারদের দমনের সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রথমে একটি অনুসন্ধানী ক্ষুদ্র বাহিনী প্রেরণ করেন। উক্ত বাহিনী সাইপ্রাসের লিমাগোল (Limassol) বন্দরে অভিযান চালিয়ে খ্রিষ্টানদের কয়েকটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধবন্দি নিয়ে ফিরে আসে।
এরপর ৮২৮ হিজরি সনের রজব মাসে (১৪২৫ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) সুলতান বার্সবাই সাইপ্রাসের উদ্দেশে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন। মুসলিম বাহিনী সাইপ্রাসে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড লড়াই করে। যুদ্ধে প্রচুর সংখ্যক ক্রুসেডার নিহত হয়। সাইপ্রাসে সুলতানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর মুসলিম অভিযাত্রীরা এক হাজার যুদ্ধবন্দি ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে মিশরে ফিরে আসে।
৮২৯ হিজরি সনে (১৪২৬ খ্রিষ্টাব্দে) সুলতান বার্সবাই সাইপ্রাসে চূড়ান্ত অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন। মুসলিম বাহিনী এবার ক্রুসেডারদের চূড়ান্তরূপে পরাজিত করে। মুসলমানরা সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়া (Nicosia) নগরীতে প্রবেশ করে সেখানকার গির্জায় জুমার নামাজ আদায় করে। এবারের অভিযানের মাধ্যমে পুরো সাইপ্রাস সুলতান আল-আশরাফ বার্সবাইয়ের কর্তৃত্বে চলে আসে।
সুলতান বার্সবাই মিশর হয়ে গমনকারী বিদেশি জাহাজের ওপর অত্যধিক উচ্চ হারে কর আরোপ করেন। ফলে বিদেশি বণিক ও ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে। ফরাসিরা তাদের সকল ব্যবসায়ীকে মিশর থেকে ডেকে পাঠায়। অবশেষে সুলতান বার্সবাই মিশরের অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন।
সুলতান আল-আশরাফ সাইফুদ্দিন বার্সবাই ৮৪১ হিজরি সনে (১৪৩৮ খ্রিষ্টাব্দে) ইন্তেকাল করেন এবং তার পুত্র আল-আজিজ জামালুদ্দিন ইউসুফ তার স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু মাসতিনেক পরই তিনি অপসারিত হন। পরবর্তী একত্রিশ বছরে একে একে সাতজন সুলতান মামলুক রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করেন। তবে ইতিহাসে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অংশগ্রহণ ও অবদান নেই। অবশেষে ৮৭৩ হিজরি সনে (১৪৬৮ খ্রিষ্টাব্দে) মামলুক রাষ্ট্রের হাল ধরেন আল-আশরাফ কাইতাবাই। তিনি ৯০২ হিজরি সন (১৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত একটানা উনত্রিশ বছর সুলতান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
কাইতাবাই ছিলেন সার্কাসি মামলুক রাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুলতান। তিনি ছিলেন সুঠামদেহী বীর যোদ্ধা। জনগণ ও সেনাপতিগণ তাকে ভালবাসত।
সুলতান কাইতাবাইয়ের মূল প্রতিপক্ষ ছিল ততদিনে মুসলিমবিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হওয়া উসমানি সালতানাত। ৮৫৭ হিজরি সনে (১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে) কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর উসমানিরা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য শাসকগোষ্ঠীর মূল হুমকিতে পরিণত হয়েছিল। এ সময় উসমানি শাসকগণ মিশর ও শামের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং মিশরে দাস বিক্রিতে বাধা প্রদান করে।
উসমানি সুলতান ২য় বায়জিদের ভাই সুলতান জেম (Cem Sultan) বায়জিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পালিয়ে মিশরে চলে এলে সুলতান কাইতাবাই তাকে আশ্রয় দেন এবং যথেষ্ট সমাদর করেন। এতে বায়জিদ কাইতাবাইর প্রতি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন। একে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে।
৯০২ হিজরি সনে (১৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে) কাইতাবাই অসুস্থ হয়ে পড়লে সাম্রাজ্যের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাকে অপসারণ করে তার পুত্র আন-নাসির নাসিরুদ্দিন মুহাম্মাদের হাতে বায়আত গ্রহণ করে। পরের দিনই কাইতাবাই ইন্তেকাল করেন।
সুলতান আল-আশরাফ কাইতাবাই স্থাপত্যশিল্পের প্রচণ্ড অনুরাগী ছিলেন। একমাত্র বাহরি মামলুক সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন সাইফুদ্দিন কালাউনের শাসনামলে নির্মিত স্থাপনাসমূহ সৌন্দর্য ও চমৎকারিত্বে কাইতাবাইয়ের আমলে নির্মিত স্থাপনাসমূহের সঙ্গে তুল্য হতে পারে।
সুলতান কাইতাবাইয়ের ইন্তেকালের পর পরবর্তী পাঁচ বছরে মামলুক রাষ্ট্রে একে একে পাঁচজন সুলতান ক্ষমতারোহণ করেন। অবশেষে ৯০৬ হিজরি সনে (১৫০১ খ্রিষ্টাব্দে) মামলুক রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুলতান আল-আশরাফ কানসুহ আল-ঘুরি। তিনি ৯২২ হিজরি সন (১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত মামলুক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। জামে ঘুরি ও ঘুরি মাদরাসা তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতান কানসুহ আল-ঘুরি ষাট বছর বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক বছর পূর্বে ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা (Vasco da Gama) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ (The Cape of Good Hope) আবিষ্কার করেছিলেন। এই আবিষ্কারের ফলে ভারতবর্ষগামী ইউরোপিয়ান বাণিজ্য কাফেলাগুলোর যাতায়াতপথ বদলে যায় এবং মিশরের পরিবর্তে এ পথেই কাফেলাগুলোর চলাচল শুরু হয়। ফলে মিশরের মামলুক রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মারাত্মক ধস নামে। একে কেন্দ্র করে পর্তুগালের সঙ্গে মামলুকদের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
৯১৮ হিজরি সনে উসমানি সুলতান ১ম সেলিম খান তার বাহিনী নিয়ে শাম অঞ্চলে অভিযান শুরু করেন। ৯২২ হিজরি সনের ২৫ রজব (১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ আগস্ট) আলেপ্পোর উত্তরে মাজ দাবিকের ময়দানে উসমানি বাহিনী মামলুক বাহিনীর মুখোমুখি হয়। যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই উসমানি বাহিনী জয়লাভ করে এবং মামলুক সুলতান কানসুহ আল-ঘুরি নিহত হন।
সুলতান আল-ঘুরি নিহত হওয়ার পর মামলুক রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করেন তার ভ্রাতুষ্পুত্র ও শেষ সার্কাসি মামলুক সুলতান আল-আশরাফ ২য় তুমান বাই।
সুলতান তুমান বাই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে মামলুক সেনাবাহিনীকে পুনঃসংগঠিত করেন এবং উসমানি বাহিনীর প্রতিরোধে অগ্রসর হন। ৯২২ হিজরি সনের ২৯ জিলহজ (১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি) মিশরের রায়দানিয়া (Raydaneyah) এলাকায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়। যুদ্ধে মামলুক বাহিনী পরাজিত হয়। সুলতান তুমান বাইকে বন্দি করা হয় এবং কায়রোর যুবাইলা দ্বারের (Bab Zuweila) ওপর শূলে চড়ানো হয়।
তুমান বাইয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মিশরে মামলুক রাষ্ট্রের পতন ঘটে এবং মিশর উসমানি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
উসমানি সুলতান ১ম সেলিম মিশর জয় করে তৎকালীন আব্বাসি খলিফা ৩য় মুতাওয়াককিলকে বন্দি করে মিশর থেকে ইস্তাম্বুলে নিয়ে আসেন। মুতাওয়াককিল সেলিমের কাছে এ মর্মে অসিয়ত করেন যে, তার মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহর খিলাফতের দায়িত্ব আব্বাসি রাজবংশ হতে উসমানি পরিবারের কাছে স্থানান্তরিত হবে। খলিফা মুতাওয়াককিল নিজের কাছে সংরক্ষিত খিলাফতের বিভিন্ন নিদর্শনও সুলতান সেলিমের কাছে হস্তান্তর করেন। মূলত এর মাধ্যমেই আব্বাসি খিলাফতের পতন ঘটে এবং উসমানি খিলাফতের সূচনা হয়। ৯৫০ হিজরি সনে (১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দে) মুতাওয়াককিলের মৃত্যু হলে কাগজে-কলমেও আব্বাসি খিলাফতের পতন ঘটে এবং শুরু হয় ইসলামি ইতিহাসের এক নব-অধ্যায়, যার নাম 'উসমানি খিলাফত'।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সার্কাসি (বুরজি) মামলুক রাষ্ট্রের সুলতানগণের তালিকা

📄 সার্কাসি (বুরজি) মামলুক রাষ্ট্রের সুলতানগণের তালিকা


১. আয-যাহির সাইফুদ্দিন : ৭৮৪-৭৯১ হি. (১৩৮২-১৩৮৯ খ্রি.) (ক) বারকুক
** আস-সালিহ সালাহুদ্দিন : ৭৯১-৭৯২ হি. (১৩৮৯-১৩৯০ খ্রি.) হাজ্জি (১০৬)
১. আয-যাহির সাইফুদ্দিন : ৭৯২-৮০১ হি. (১৩৯০-১৩৯৯ খ্রি.) (খ) বারকুক
২. আন-নাসির যায়নুদ্দিন (ক) আবুস সাআদাত ফারাজ : ৮০১-৮০৮ হি. (১৩৯৯-১৪০৫ খ্রি.) বিন বারকুক
৩. আল-মানসুর ইযযুদ্দিন আবুল ইয আবদুল আজিজ : ৮০৮-৮০৯ হি. (১৪০৫-১৪০৬ খ্রি.) বিন বারকুক
২. আন-নাসির যায়নুদ্দিন আবুস সাআদাত ফারাজ : ৮০৯-৮১৫ হি. (১৪০৬-১৪১২ খ্রি.) (খ) বিন বারকুক
** খলিফা ২য় মুসতাইন বিল্লাAb আবুল ফজল : ৮১৫ হি. (১৪১২ খ্রি.) আব্বাস (১০৭)
৪. আল-আমির شাইখুল : ৮১৫-৮২৪ হি. (১৪১২-১৪২১ খ্রি.) মুআইয়াদ আবুন নাসর
৫. আল-মুযাফফার আবুস সাআদাত আহমাদ : ৮২৪ হি. (১৪২১ খ্রি.)
৬. আয-যাহির সাইফুদ্দিন আবুল ফাতহ তাতার : ৮২৪ হি. (১৪২১ খ্রি.)
৭. আস-সালিহ নাসিরুদ্দিন মুহাম্মাদ : ৮২৪-৮২৫ হি. (১৪২১-১৪২২ খ্রি.)
৮. আল-আশরাফ সাইফুদ্দিন বার্সবাই : ৮২৫-৮৪১ হি. (১৪২২-১৪৩৮ খ্রি.)
৯. আল-আজিজ জামালুদ্দিন ইউসুফ আবুল মাহাসিন বিন বার্সবাই : ৮৪১-৮৪২ হি. (১৪৩৮ খ্রি.)
১০. আয-যাহির আবু সাইদ জাকমাক : ৮৪২-৮৫৭ হি. (১৪৩৮-১৪৫৩ খ্রি.)
১১. আল-মানসুর আবুস সাআদাত ফখরুদ্দিন উসমান : ৮৫৭ হি. (১৪৫৩ খ্রি.)
১২. আল-আশরাফ আবুন নাসর সাইফুদ্দিন ইনাল আলায়ি : ৮৫৭-৮৬৫ হি. (১৪৫৩-১৪৬১ খ্রি.)
১৩. আল-মুআইয়াদ আবুল ফাতাহ শিহাবুদ্দিন আহমাদ : ৮৬৫ হি. (১৪৬১ খ্রি.)
১৪. আয-যাহির আবু সাইদ সাইফুদ্দিন খোশকদম : ৮৬৫-৮৭২ হি. (১৪৬১-১৪৬৭ খ্রি.)
১৫. আয-যাহির আবুন নাসর সাইফুদ্দিন বিলবাই : ৮৭২ হি. (১৪৬৭ খ্রি.)
১৬. আয-যাহির আবু সাইদ তিমুরবুগা : ৮৭২-৮৭৩ হি. (১৪৬৭-১৪৬৮ খ্রি.)
১৭. আল-আশরাফ সাইফুদ্দিন কাইতাবাই : ৮৭৩-৯০২ হি. (১৪৬৮-১৪৯৬ খ্রি.)
১৮. আন-নাসির নাসিরুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন কাইতাবাই : ৯০২-৯০৪ হি. (১৪৯৬-১৪৯৮ খ্রি.)
১৯. আয-যাহির আবু সাইদ কানসুহ : ৯০৪-৯০৫ হি. (১৪৯৮-১৫০০ খ্রি.)
২০. আল-আশরাফ আবুন নাসর জানবালাত : ৯০৫-৯০৬ হি. (১৫০০-১৫০১ খ্রি.)
২১. আল-আদিল আবুন নাসর সাইফুদ্দিন তুমান বাই : ৯০৬ হি. (১৫০১ খ্রি.)
২২. আল-আশরাফ কানসুহ আল-ঘুরি : ৯০৬-৯২২ হি. (১৫০১-১৫১৬ খ্রি.)
২৩. আল-আশরাফ ২য় তুমান বাই : ৯২২-৯২৩ হি. (১৫১৬-১৫১৭ খ্রি.)

টিকাঃ
১০৬. পূর্বেও এ বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে যে, আস-সালিহ সালাহুদ্দিন হাজ্জি সার্কাসি মামলুক ছিলেন না; তিনি ছিলেন শেষ বাহরি মামলুক সুলতান। ৭৮৪ হিজরি সনে প্রথম সার্কাসি মামলুক সুলতান আয-যাহির সাইফুদ্দিন বারকুক তাকে অপসারিত করে শাসনভার গ্রহণ করলেও ৭৯১ হিজরি সনে সালাহুদ্দিন হাজ্জি পুনরায় ক্ষমতা লাভ করেন। বছরখানেক পর বারকুক পুনরায় সালাহুদ্দিন হাজ্জিকে পরাভূত করে ক্ষমতা হস্তগত করেন এবং বাহরি মামলুক রাষ্ট্রের চূড়ান্ত পতন ঘটান।
১০৭. তিনি ছিলেন ৪৭ নং আব্বাসি খলিফা। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময় মিশরে কোনো সুলতান না থাকায় খলিফাই সালতানাতের দায়িত্ব পালন করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00