📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গাজানের শাম দখলের প্রচেষ্টা

📄 গাজানের শাম দখলের প্রচেষ্টা


এরপর গাজান তার রাজ্য মিশর ও শাম অঞ্চলেও বিস্তৃত করার মনস্থ করেন এবং শামের মুসলমানদের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। কোনো কোনো লড়াই সাধারণ খণ্ড-যুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকলেও কোনো কোনোটি ছিল চরম রক্তক্ষয়ী। এসব যুদ্ধের কারণে শামের মুসলমানদের চরম ক্ষতি পোহাতে হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তাতারি দুর্যোগ মোকাবিলায় ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর অবিস্মরণীয় ভূমিকা

📄 তাতারি দুর্যোগ মোকাবিলায় ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর অবিস্মরণীয় ভূমিকা


এ সময় মুসলিম জনমনে এই প্রশ্ন উদয় হয় যে, এসব তাতাররা তো মুসলমান। তারা মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধাচরণও করেনি। বরং তারা তো কখনো মুসলিম শাসকের বশ্যতাই স্বীকার করেনি যে, পরে বিরুদ্ধাচরণের প্রশ্ন আসবে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কীকরে বৈধ হতে পারে? তখন ইবনে তাইমিয়া রহ. ফতোয়া প্রদান করেন যে, 'তারা হজরত আলি রাযি. ও মুয়াবিয়া রাযি.-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী খারিজি সম্প্রদায়ের হুকুমভুক্ত। খারিজিরা মনে করত যে, তারা আলি রাযি. ও মুয়াবিয়া রাযি.-এর তুলনায় শাসন ক্ষমতার অধিক হকদার। তদ্রূপ এই তাতাররাও মনে করে যে, অন্যান্য মুসলমানের চেয়ে তারা হক প্রতিষ্ঠার অধিক হকদার। তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যায়-অবিচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উত্থাপন করছে। অথচ তারা নিজেরা এর চেয়েও শত গুণ কঠিন অন্যায়ে লিপ্ত আছে।'
ইবনে তাইমিয়া রহ. মুসলমানদেরকে তাতারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আরও বলেন, 'তোমরা যদি আমাকে মাথায় কুরআন নিয়েও তাতারদের পক্ষে দণ্ডায়মান দেখতে পাও, তবুও আমাকে হত্যা করবে।'
ইবনে তাইমিয়া রহ. একদিকে যেমন শাম ও মিশরের মুসলিম জনসাধারণকে অটল-অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করছিলেন এবং শাসক-প্রশাসকদেরকে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করতে উৎসাহিত করছিলেন, অপরদিকে তিনি তাতারদের কাছে গিয়ে তাদের কাছ থেকে মুসলমানদের জন্য নিরাপত্তার ঘোষণা লাভের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
৬৯৯ হিজরি সনের ৩ রবিউস সানি (১২৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর) ইবনে তাইমিয়া উলামায়ে কেরাম ও গণমান্য ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তাতার শাসক গাজানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
একই বছরের ৮ রজব (১৩০O খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মার্চ) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাতার সেনাপতি বুলাই-এর তাঁবুতে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার হাতে বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে কথা বলেন। বন্দিদের মাঝে বেশ কিছু জিম্মি নাগরিকও ছিল। ইবনে তাইমিয়ার সুপারিশে সেনাপতি বুলাই সকল মুসলিম বন্দিকে মুক্তিদান করেন। কিন্তু ইবনে তাইমিয়া আপত্তি জানিয়ে বলেন, 'না, আমাদের জিম্মিদেরকেও মুক্তি দিতে হবে।' এরপর সেনাপতি বুলাই প্রচুর সংখ্যক বন্দিকে মুক্তি প্রদান করেন। ইবনে তাইমিয়া রহ. সেখানে তিনদিন অবস্থান করার পর ফিরে আসেন।
একবার তাতারদের একটি সৈন্যদল অভিযানে রওনা হয়ে দামেশকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন দামেশকের নাগরিকরা অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়ে। দামেশকের গভর্নর সকলের উদ্দেশে ঘোষণা করেন— 'সকলে নগরপ্রাচীর সামলাও। কেউ আপন ঘরে অবস্থান করলে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে।' তখন সকলে নগরীর প্রতিরক্ষার জন্য প্রাচীরের কাছে সমবেত হয়। ইবনে তাইমিয়া রহ. এ সময় প্রতি রাতে প্রাচীরের কাছে গিয়ে সকলকে জিহাদের আহ্বান জানাতেন এবং অটল-অবিচল থেকে শত্রুর মোকাবিলা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন।
যুদ্ধ চলাকালে ইবনে তাইমিয়া রহ. তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে বিভিন্ন পানশালায় গিয়ে মদের বোতল ও পানপাত্র ভেঙে ফেলতেন এবং অন্যায়ের আড্ডাখানা এসব পানশালার মালিকদেরকে কঠোর ভাষায় শাসাতেন। তিনি বলতেন, 'এদের কারণেই আল্লাহ তাআলার সাহায্য ও বিজয় আগমনে বিলম্ব হচ্ছে।'
এরইমধ্যে শুরু হয় ৭০০ হিজরি সন। জনসাধারণ তখন তাতার-ভীতিতে প্রকম্পিত। কিন্তু ইবনে তাইমিয়া রহ. তাদের সাহস জোগাতে থাকেন এবং আল্লাহর নুসরত ও সাহায্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মিশরের সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউন এ সময় দামেশকবাসীকে সহায়তাপ্রদান বন্ধ করে দিলে ইবনে তাইমিয়া রহ. মিশরে সফর করে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে বলেন, 'আপনি যদি শাম অঞ্চলের শাসক না-ও হতেন আর শামবাসী আপনার কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করত, তখনও তাদেরকে সাহায্য করা আপনার অবশ্য কর্তব্য ছিল। অথচ আপনি তো তাদের শাসক ও সুলতান, তারা আপনার প্রজা ও অধীনস্থ এবং তাদের বিষয়ে আপনি পরকালে আল্লাহর দরবারে জিজ্ঞাসিত হবেন। তাহলে তাদের বিষয়ে আপনার কর্মনীতি কীরূপ হওয়া উচিত?'
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এভাবেই মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সকলকে সাহস ও শক্তি জোগাতেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নুসরত ও বিজয়লাভের প্রতিশ্রুতি শোনাতেন। আট দিন মিশরে অবস্থানের পর তিনি দামেশকে ফিরে আসেন।
তাতার শাসক গাজান যখন জানতে পারেন যে, মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার প্রতিরোধ করতে যাচ্ছে, তখন তিনি নিজ বাহিনীর দুর্বলতা ও সংখ্যাস্বল্পতার দিক বিবেচনা করে দেশে ফিরে যান।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শাকহাবের যুদ্ধ

📄 শাকহাবের যুদ্ধ


৭০২ হিজরি সনে শামবাসী জানতে পারে যে, তাতাররা এবার নিশ্চিত শাম অঞ্চলে অভিযান চালাতে যাচ্ছে। ফলে শামের অধিবাসীদের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যখন তারা জানতে পারে যে, স্বয়ং সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ তার বাহিনী নিয়ে তাতারদের মোকাবিলায় শামে আগমন করছেন, তখন তারা নিশ্চিন্ত হয়।
৭০২ হিজরি সনের রমজান মাসে (১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে) দামেশকের দক্ষিণে শাকহাব প্রান্তরে সংঘটিত এ যুদ্ধে তাতাররা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। পরাজিত তাতার সৈন্যরা আশেপাশের পাহাড় ও টিলায় পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও খুব অল্প সংখ্যকই রেহাই পেতে সক্ষম হয়।
যুদ্ধ চলাকালে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে সৈন্যদের সারিতে-সারিতে গিয়ে তাদের মনোবল বৃদ্ধি করছিলেন। তিনি তাদের সামনে নিজে খাবার খেয়ে তাদেরকে বোঝাচ্ছিলেন যে, চলমান পরিস্থিতিতে তাদের জন্য রোজা না রাখা শ্রেয়তর।
সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউনও এই যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধ চলাকালে তার ঘোড়া যেন ভীত হয়ে পালাতে না পারে, এজন্য তিনি তার ঘোড়াকে বেঁধে রেখেছিলেন। সমকালীন আব্বাসি খলিফা ২য় মুসতাকফি বিল্লাহ আবুর রবি সুলায়মানও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শিয়াদের পুনরুত্থান

📄 শিয়াদের পুনরুত্থান


৭০৩ হিজরি সনে গাজান মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাতারদের শাসনভার গ্রহণ করেন তার ভাই খোদাবান্দা (মুহাম্মাদ) বিন আরগুন। জনগণ তাকে 'আল-মালিক গিয়াসুদ্দিন' উপাধি প্রদান করে এবং ইরাক, খোরাসানসহ তাতারি রাষ্ট্র ইলখানাতের অধিভুক্ত বিভিন্ন অঞ্চলের মিম্বরে তার নামে খুতবা পাঠ শুরু হয়।
শাকহাবের যুদ্ধে তিক্ত পরাজয় বরণের পর তাতাররা পরে আর কখনো শাম বা মিশরের ইসলামি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়নি।
তাতার শাসক খোদাবান্দা প্রথমদিকে সুন্নি মতাদর্শী ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি শিয়া মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শিয়া ধর্মমত গ্রহণ করেন এবং নিজ রাষ্ট্রে বিভিন্ন শিয়ারীতি চালু করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন শিয়া আলিমের সাহচর্য গ্রহণ করেন; যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হালাকু খানের উজির খাজা নাসিরুদ্দিন তুসির শিষ্য জামালুদ্দিন বিন মুতাহহার আল-হিল্লি। শিয়া রাফিজিরা খোদাবান্দার সহায়তায় ইসলামি বিশ্বের আনাচেকানাচে শিয়া মতবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছিল। এমনকি মক্কার শিয়া প্রশাসক খামিছা মক্কাবাসীদের বিরুদ্ধে তাকে সহায়তা করার জন্য চলে আসে। কিন্তু খামিছার স্বপ্ন পূরণের আগেই ৭১২ হিজরি সনে খোদাবান্দা মৃত্যুবরণ করেন।
খোদাবান্দার মৃত্যুতে শিয়াদের পরিকল্পনা মাঠে মারা যায় এবং খামিছা ভগ্ন হৃদয়ে মক্কায় ফিরে যায়। দালকানদি নামক জনৈক রাফিজি নেতা হিজাযে শিয়া মতবাদের প্রচার-প্রসারের জন্য খামিছাকে প্রচুর অর্থ প্রদান করেছিল। সে-ও খামিছার সঙ্গে মক্কার পথ ধরে। পথিমধ্যে আরব সর্দার মুহাম্মাদ বিন ঈসা তাদের দুজনের পথরোধ করেন এবং তাদেরকে পরাজিত করে সকল সম্পদ করায়ত্ত করে নেন। এ সংবাদ জানতে পেরে মুসলিম জনসাধারণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়। সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ আরব সর্দার মুহাম্মাদ বিন ঈসার এই কীর্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে নিজের আস্থাভাজন করে নেন।
খোদাবান্দার মৃত্যুর পর তাতারদের শাসনভার গ্রহণ করেন তার পুত্র আবু সাইদ। তিনি তার পিতার মতাদর্শ পরিহার করে সুন্নি মতাদর্শ গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক ইবনে কাছির রহ. তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন—
তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠতম তাতার নেতা, সুশাসক এবং সুন্নাহর প্রতি অধিকতর অবিচল। তিনি তার শাসনামলে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর অনুসারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং শিয়া রাফিজিদের হীনবল করেছেন।
আবু সাইদ ৭৩৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তাতারদের শক্তি ও প্রভাব কার্যত নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তারা পারস্পরিক বিবাদবিসংবাদে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এশিয়া মহাদেশের ত্রাস ও হুমকি হয়ে বিচরণ করা তাতাররা এরপর নিজেদের রাজত্বে কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং সেই ভীতিকর প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে তৈমুর লংয়ের আমলে আবারও তাতাররা এশিয়া অঞ্চলের ত্রাস হিসেবে আবির্ভূত হয়।
সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউনের শাসনামলে মামলুক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পেছনে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি যে পদক্ষেপটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিল, তা হলো—তিনি মিশর অতিক্রমকারী প্রতিটি বাণিজ্যকাফেলার ওপর পণ্যমূল্যের দশ শতাংশ কর আরোপ করেছিলেন। সে সময় ইউরোপ ও ভারতবর্ষের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ গতিশীল ছিল এবং ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কাফেলাগুলোকে ভারতবর্ষে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে হলে মিশর অতিক্রম করতে হতো।
সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ মামলুক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উন্নতির প্রতিও যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছিলেন। তিনি পরিমাপ ও ওজনব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, মদপান নিষিদ্ধ করেন এবং শিষ্টাচার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। তার শাসনামলে ইসলামি স্থাপত্য ও নির্মাণশিল্প উৎকর্ষের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো, বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে বিদ্যমান অধিকাংশ প্রাচীন ও দর্শকনন্দিত ইসলামি নিদর্শন এ সময়েরই অবদান।
সুলতান মুহাম্মাদ নীলনদ ও সালাহুদ্দিন দুর্গের মাঝে পানি সরবরাহের কৃত্রিম খাল (কানাত) প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও তিনি নীলনদ হতে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত খাল খনন করেন। সুলতান মুহাম্মাদ নীলনদের তীরঘেঁষে দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করেন, যা বন্যার সময় সেতুর কাজে দিত।
সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ শীর্ণকায়, পঙ্গু ও এক-চক্ষুহীন ছিলেন। কিন্তু এতসব শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন শত্রুর বিরুদ্ধে প্রচন্ড প্রতাপশালী যোদ্ধা এবং দায়িত্বপালন ও সিদ্ধান্তগ্রহণে ইস্পাত-কঠিন।
সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউন ৭৪১ হিজরি সনে (১৩৪১ খ্রিষ্টাব্দে) ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তিনি মামলুক রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করার মতো যোগ্য কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যাননি। তার মৃত্যুর পর তার পুত্রগণ রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী একচল্লিশ বছরে একের পর এক তার আট পুত্র শাসনদায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাসান বিন আন-নাসির মুহাম্মাদ। তিনি ৭৪৮ হিজরি সন হতে ৭৫২ হিজরি সন (১৩৪৭-১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত মামলুক রাষ্ট্র শাসন করেন। সুলতান হাসান বিন মুহাম্মাদই সেই সুবিশাল মাদরাসা-মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন, যা বিশালতা ও নির্মাণকুশলতায় সমকালীন বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসন লাভ করেছিল। সালাহুদ্দিন দুর্গের কাছেই অবস্থিত এই কমপ্লেক্সটি বর্তমানে সুলতান হাসান মসজিদ নামে প্রসিদ্ধ।
পরবর্তী সময়ে সার্কাসি মামলুকদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাহরি মামলুক রাষ্ট্রের পতন ঘটে।

টিকাঃ
১০৩. ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১৪/১৪৮।
১০৪. কানাত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন-মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত সবুজ পৃথিবী ও মুসলমানদের অবদান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00