📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 সাইফুদ্দিন কুতুজের দায়িত্বগ্রহণ

📄 সাইফুদ্দিন কুতুজের দায়িত্বগ্রহণ


নতুন সুলতান অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সেনাপতি সাইফুদ্দিন কুতুজ তার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন। তার শাসনামলেই ৬৫৬ হিজরি সনে সমকালীন মুসলিম উম্মাহর জীবনে এক বিরাট বিপর্যয় সংঘটিত হয়—তাতারদের হাতে বাগদাদের পতন ঘটে এবং খিলাফতব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটে। পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুদ্দিন কুতুজ মিশরের আলিম-উলামা ও কাজিদেরকে সমবেত করেন। সকলে কিশোর সুলতানকে অপসারণ করে তাকে দায়িত্বগ্রহণের ফতোয়া প্রদান করে। অবশেষে ৬৫৭ হিজরি সনে (১২৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) সাইফুদ্দিন কুতুজ 'আল-মালিকুল মুযাফফার' উপাধি ধারণ করে মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন।
আমরা যদি ৬৫৮ হিজরি সনের ইসলামি বিশ্বের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, তাহলে দেখতে পাব—উত্তর আফ্রিকা বাদে অবশিষ্ট ইসলামি বিশ্বে চারজন শাসকের শাসন চলছে।
* উত্তর এশিয়া (মাওয়ারাউন নাহার, আজারবাইজান, সমরকন্দ, খোরাসান ইত্যাদি) অঞ্চলে চলছিল তাতারি শাসক হালাকু খানের শাসন।
* শাম অঞ্চলের শাসক ছিলেন নাসির বিন আজিজ।
* কারাক অঞ্চলের শাসক ছিলেন মুগিছ বিন আদিল।
* মিশরের শাসক ছিলেন সাইফুদ্দিন কুতুজ।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 শাসকদের অপরিণামদর্শী আচরণ, ক্ষমতা রক্ষার জন্য পারস্পরিক লড়াই এবং শত্রুর বিষয়ে উদাসীনতা

📄 শাসকদের অপরিণামদর্শী আচরণ, ক্ষমতা রক্ষার জন্য পারস্পরিক লড়াই এবং শত্রুর বিষয়ে উদাসীনতা


এ সময় শাম অঞ্চলের শাসক নাসির বিন আজিজ কারাকের শাসক মুগিছ বিন আদিলের সহায়তা নিয়ে সাইফুদ্দিন কুতুজের বিরুদ্ধে লড়াই করে জোরপূর্বক মিশর দখলের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারেন যে, বাগদাদে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর হালাকু খান এবার শাম দখলের পরিকল্পনা করছেন, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে যায়। ৬৫৮ হিজরি সনে হালাকু খান সাত দিনের অবরোধের পর আলেপ্পোতে প্রবেশ করে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান। আলেপ্পোতে বাগদাদের চেয়েও অধিক মানুষ হালাকু-বাহিনীর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। কেবল খ্রিষ্টান নাগরিকরা গণহত্যা হতে রেহাই পায়। এ সময় তাতারদের আগ্রাসনের সংবাদ পেয়ে পার্শ্ববর্তী হামা (Hama) অঞ্চলের প্রশাসক মানসুর ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং হালাকু বাহিনী সেদিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বেই নগরদ্বারের চাবি হালাকু খানের কাছে পাঠিয়ে দেন।
৬৫৮ হিজরি সনের সফর মাসের শেষদিকে (১২৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে) মোঙ্গল বাহিনী কোনোরূপ বাধাবিপত্তি ছাড়াই দামেশকে প্রবেশ করে। দামেশকের দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত দুর্গ জয় করার জন্য তাতাররা উপর্যুপরি মিনজানিকের গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। একসময় দুর্গের অধিবাসীরা নতি স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। হালাকু খান ইবিল সিয়ান নামক জনৈক তাতারকে দামেশক নগরী ও দুর্গের শাসনভার প্রদান করে।
এই ইবিল সিয়ান খ্রিষ্টানদের প্রতি অনুরাগী ছিল এবং খ্রিষ্টধর্মকে সম্মানের চোখে দেখত। ইবিল সিয়ান দায়িত্ব গ্রহণ করায় খ্রিষ্টানরা দামেশকে অবাধ কর্তৃত্ব লাভ করে এবং নগরীজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা সমবেত হয়ে রাজপথে 'বিশুদ্ধ ধর্ম খ্রিষ্টধর্ম বিজয় লাভ করেছে' বলে শ্লোগান দিতে থাকে, ইসলাম ও মুসলমানদের নিন্দা করতে থাকে এবং ক্রুশ উত্তোলন করে জনসাধারণকে ক্রুশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে বাধ্য করে। মুসলমানরা তাতার প্রশাসকের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে সে মুসলমানদের অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।
হালাকু খানের প্রধান সহকারী ছিল কিতবুগা। চরম ধূর্ত কিতবুগা مسلمانوں বিরুদ্ধে যুদ্ধে অত্যন্ত নিকৃষ্ট বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করত। কিতবুগা কোনো অঞ্চল জয় করার পর তার পার্শ্ববর্তী এলাকা অবরোধ করত এবং বিজিত এলাকার বন্দি যোদ্ধাদেরকে অবরুদ্ধ এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিত। অবরুদ্ধ এলাকার অধিবাসীরা তখন পড়ত উভয় সংকটে। তারা যদি প্রতিবেশী বন্দিদের আশ্রয় দিত, স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত লোক যুক্ত হওয়ায় সঞ্চিত খাদ্য-পানীয় ও রসদসামগ্রী অল্পদিনেই শেষ হয়ে যেত এবং বাধ্য হয়ে তাতারদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করতে হতো। আর যদি তারা তাদেরকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানাত, তাহলে কিতবুগা প্রথমে বিজিত এলাকার যোদ্ধাদেরকে নিয়ে অবরুদ্ধদের বিরুদ্ধে লড়াই করত। এরপরও বিজয় অর্জিত না হলে যখন অবরুদ্ধ অঞ্চলের সৈন্যরা ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ত, তখন সে তার নিজস্ব তাজাদম সৈন্যদের নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হতো এবং সহজেই বিজয় ছিনিয়ে নিত।
ধূর্ত কিতবুগার আরেকটি নিকৃষ্ট কৌশল ছিল—সে কোনো দুর্গ অবরোধ করার পর সেখানকার নেতৃবৃন্দের কাছে বার্তা পাঠাত যে, তোমাদের সঞ্চিত পানি কমে গেছে। তোমরা যদি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ না করো, তাহলে আমরা জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে তোমাদের সকলকে হত্যা করব এবং নারী ও শিশুদের বন্দি করব। পানি শেষ হয়ে গেলে তোমরা কীভাবে টিকে থাকবে? সুতরাং আমরা জোরপূর্বক প্রবেশ করার পূর্বেই তোমরা সন্ধি করে নাও। উত্তরে যদি দুর্গবাসী জানাত যে, 'আমাদের যথেষ্ট পানি মজুদ আছে; পানি নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই।' তাহলে কিতবুগা বলত, 'আমি তোমাদের দাবি বিশ্বাস করি না। আচ্ছা, আমাদের কয়েকজন প্রতিনিধি ভেতরে গিয়ে দেখে আসবে যে, সত্যিই তোমাদের কাছে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না? বাস্তবেই যদি পর্যাপ্ত পানি থাকে, তাহলে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করে ফিরে যাব।' দুর্গবাসী ফাঁদে পা দিয়ে সম্মতি জানালে কিতবুগার বাহিনীর কয়েকজন সৈন্য পানির পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য দুর্গের ভেতরে যেত। তারা সঙ্গে নিয়ে যেত একধরনের ফাঁপা বর্শা, যার ভেতরে বিষ ভরা থাকত। দুর্গে প্রবেশ করার পর তারা বিষাক্ত বর্শা দিয়ে পানির গভীরতা মাপার ভান করত আর পুরো পানি বিষাক্ত হয়ে যেত। ফলে দুর্গবাসী নিজেদের অজান্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত।
তৎকালীন ইসলামি প্রাচ্যের তিন বৃহৎ নগরী বাগদাদ, আলেপ্পো ও দামেশকে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর তাতাররা বালাবাক্কু, আজালুন (Ajloun), সান্ত (Al-Salt), হাওরান (The Hauran), নাবলুস, গাজা, জেবরিন ও হেবরন (Hebron)-সহ পুরো শাম অঞ্চল দখল করে নেয় এবং তাতার রীতি অনুযায়ী প্রতিটি অঞ্চলে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। শামে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর তাতাররা এবার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মামলুক নিয়ন্ত্রিত মিশরের প্রতি। মিশরের পর হালাকু খানের পরবর্তী টার্গেট ছিল মক্কা ও মদিনা।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম

📄 ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম


বাগদাদ ও শামে তাতারদের আগ্রাসনের সংবাদ মিশরে পৌঁছলে করণীয় নির্ণয়ের জন্য মামলুক রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় আলিম-উলামা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পরামর্শে বসে। পরামর্শে কাজি বদরুদ্দিন সানজাওয়ি ও শায়খুল ইসলাম ইযযুদ্দিন বিন আবদুস সালামও উপস্থিত ছিলেন। পরামর্শে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি যুদ্ধব্যয় নির্বাহের জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে কিছু অর্থ গ্রহণের মত পেশ করলে শায়খ ইযযুদ্দিন দাঁড়িয়ে বলেন, 'যখন বাইতুল মালে কোনো সম্পদ থাকবে না, এরপর আপনারা নিজেদের সঞ্চিত স্বর্ণ-রুপা-অলংকার ইত্যাদিও খরচ করে ফেলবেন এবং যুদ্ধাস্ত্র বাদ দিয়ে বাকি আর্থিক বিবেচনায় জনসাধারণ ও আপনারা সমপর্যায়ে পরিণত হবেন আর সৈন্যদের কাছে আরোহণের ঘোড়া ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না, কেবল তখন শাসকের জন্য শত্রুর মোকাবিলায় জনগণের সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ হবে। কারণ, শত্রু যখন আক্রমণ করে বসে, তখন আপন আপন জানমাল দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করা সকলের ওপর অপরিহার্য হয়ে যায়।'

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তাতার আগ্রাসন মোকাবিলায় মুসলমানদের অভিযান

📄 তাতার আগ্রাসন মোকাবিলায় মুসলমানদের অভিযান


মিশরের সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাতাররা মিশরে আগমনের পূর্বে নিজেই অগ্রসর হয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার বাহিনী প্রস্তুত করে শাম অভিমুখে রওনা হন। সংবাদ পেয়ে কিতবুগার নেতৃত্বে বিশাল তাতার বাহিনী কুতুজের বাহিনীর দফারফা করতে অগ্রসর হয়।
৬৫৮ হিজরি সনের রমজান মাসে (১২৬০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে) আইনে জালুতের প্রান্তরে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে তাতার বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, তাদের সেনাপতি কিতবুগা ও বহু সৈন্য নিহত হয়। সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ সেনাপতি রুকনুদ্দিন বাইবার্স বুনদুকদারিকে পরাজিত তাতার বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবনের নির্দেশ দিলে তিনি আলেপ্পো পর্যন্ত তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেন।
আইনে জালুতের যুদ্ধের এক বিস্ময়কর দৃশ্যপট
আইনে জালুতের যুদ্ধ চলাকালে সুলতান কুতুজের ঘোড়াটি প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত তিরের আঘাতে মারা যায়। তিনি তৎক্ষণাৎ অতিরিক্ত ঘোড়ার দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে পদব্রজেই যুদ্ধ করতে থাকেন। তার চারপাশে তখন প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল। মুসলিম সুলতান হিসেবে তিনি যুদ্ধের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
জনৈক মুসলিম সেনাপতি সুলতানকে পদব্রজে লড়াইরত দেখতে পেয়ে নিজ ঘোড়া থেকে নেমে পড়েন এবং আল্লাহর শপথ দিয়ে সুলতানকে তার অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণের অনুরোধ করেন। কিন্তু সুলতান কুতুজ তাকে বাধা দিয়ে বলেন, 'আমি মুসলমানদেরকে তোমার কল্যাণ-অবদান থেকে বঞ্চিত করতে পারি না।' এরপর তিনি পদব্রজেই লড়াই করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর দায়িত্বশীলগণ অতিরিক্ত ঘোড়া নিয়ে এলে তিনি তাতে আরোহণ করেন।
পরবর্তী সময়ে জনৈক প্রশাসক তাকে বলেন, 'সুলতান, আপনি অমুকের ঘোড়ায় কেন আরোহণ করলেন না? শত্রুরা আপনাকে অশ্বহীন অবস্থায় লক্ষ করলে তো আপনাকে হত্যা করে ফেলত আর আপনার অবর্তমানে ইসলাম ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।' তখন তিনি উত্তর দেন, 'আমাকে হত্যা করা হলে তো আমি জান্নাতে চলে যেতাম। আর ইসলামের কথা বলছ?! ইসলামের এক মহান রব আছেন; যিনি ইসলামকে কখনো নিশ্চিহ্ন হতে দেবেন না। ইসলামি ইতিহাসে কত-শত মহান ব্যক্তি নিহত হয়েছেন; অমুক, অমুক শাসক শহিদ হয়েছেন; কিন্তু তাদের অবর্তমানে আল্লাহ তাআলা এমন সব ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন, যারা ইসলামের প্রতিরক্ষায় কাজ করেছেন এবং ইসলামকে নিশ্চিহ্ন হতে দেননি।'
আইনে জালুতে তাতার বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ দামেশকে পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত তাতাররা পালিয়ে যায়। দামেশকের মুসলিম অধিবাসীগণ তাদের পিছু নিয়ে তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের হাতে বন্দি মুসলমানদের মুক্ত করে। এই আকস্মিক পট পরিবর্তনে তাতারদের সহায়তাকারী খ্রিষ্টানরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। খ্রিষ্টানরা যে গির্জা থেকে ক্রুশ বের করে সড়কে সড়কে প্রদক্ষিণ করত, মুসলমানরা আক্রমণ চালিয়ে সে গির্জায় আগুন লাগিয়ে দেয়। যেসব খ্রিষ্টান মুসলমানদেরকে ক্রুশের সম্মানে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করত, মুসলমানরা তাদের বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দেয়। জনৈক শিয়া রাফিজি মুসলমানদের সম্পদ আত্মসাৎ করতে তাতারদের সহায়তা করেছিল। বিক্ষুব্ধ মুসলমানরা তাকে হত্যা করে।
সেনাপতি রুকনুদ্দিন বাইবার্স শামের অধিকাংশ এলাকা আইয়ুবি পরিবারের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মামলুক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হন। রুকনুদ্দিনের সাফল্যে খুশি হয়ে সুলতান কুতুজ তাকে আলেপ্পোর প্রশাসক নিযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সক্ষম হননি। মিশরে ফেরার পর বাইবার্স তাকে হত্যা করে মিশরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রুকনুদ্দিন বাইবার্সের দায়িত্বগ্রহণের মধ্য দিয়েই মূলত বাহরি মামলুক রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়।

টিকাঃ
১০০. আইনে জালুতের যুদ্ধের পঞ্চাশ দিন পরই দামেশক থেকে মিশরে ফেরার পথে সালিহিয়া নামক এলাকায় সাইফুদ্দিন কুতুজ নিহত হন। তবে তার হত্যাকারী ও হত্যার কারণ নির্ণয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। অগ্রগণ্য মতানুসারে রুকনুদ্দিন বাইবার্সই তাকে হত্যা করেন। ঐতিহাসিক ইবনে খালদুনের মতে সাইফুদ্দিন কুতুজ ইতিপূর্বে মামলুক সেনাপতি ফারিসুদ্দিন আকতাইকে হত্যা করেছিলেন বলে মামলুকরা তার প্রতি বিক্ষুব্ধ ছিল। তাকে হত্যা করা ছিল সেই অতীত হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ। অপরদিকে জালালুদ্দিন সুযুতি রহ. তারিখুল খুলাফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কুতুজ বাইবার্সকে আলেপ্পোর প্রশাসনদায়িত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরে তা ভঙ্গ করেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বাইবার্স তাকে হত্যা করেন। এ ছাড়া আরও কিছু কারণ ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00