📄 পঞ্চম ক্রুসেড
[৬১০-৬১৮ হিজরি/১২১৩-১২২১ খ্রিষ্টাব্দ]
৬১০ হিজরি সনে (১২১৩ খ্রিষ্টাব্দে) পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ট পঞ্চম ক্রুসেড অভিযানের ডাক দেন। চতুর্থ অভিযানের মতো এবারও লক্ষ্য ছিল আইয়ুবি রাষ্ট্রকে পরাভূত করে আল-কুদস পুনর্দখল করা। পোপের নির্দেশে পরবর্তী দু-বছর ক্যাথলিক ইউরোপজুড়ে ক্রুসেড অভিযানের প্রচারণা চালানো হয়। ৬১২ হিজরি সনের রজব মাসে (১২১৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে) রোমে পোপের নেতৃত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পুরো অভিযানের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অভিযানে রওনা হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয় ১২১৭ খ্রিষ্টাব্দ।
পঞ্চম ক্রুসেডে যেসব ইউরোপিয়ান শাসকগণ নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলো—
• ডিউক অব অস্ট্রিয়া ৬ষ্ঠ লিওপোল্ড (Leopold VI)।
• হাঙ্গেরির রাজা ২য় অ্যান্ড্রু (Andrew II)।
• সাইপ্রাসের শাসক ১ম হিয়ো (Hugh I)।
• কাউন্ট অব ত্রিপোলি ৪র্থ বোহেমন্ড (Bohemond IV of Antioch)।
অবশ্য অভিযান শুরু হওয়ার পূর্বেই ৬১৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে (১২১৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে) পোপ ৩য় ইনোসেন্ট ইহধাম ত্যাগ করেন। আর অভিযান শুরু হতে না হতেই হাঙ্গেরির রাজা ২য় অ্যান্ড্রু নিজ দেশে ফিরে যান।
ক্রুসেডাররা মিশরে পৌঁছার পূর্বেই ৬১৫ হিজরি সনে (১২১৮ খ্রিষ্টাব্দে) সুলতান আল-আদিল সাইফুদ্দিন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর আইয়ুবি রাষ্ট্রের হাল ধরেন তার পুত্র আল-কামিল মুহাম্মাদ।
ক্রুসেডার বাহিনী মিশর অভিমুখে অগ্রসর হয় এবং তুমুল লড়াইয়ের পর ১২১৯ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে দিমইয়াত দখল করে নেয়। আল-কামিল দিনরাত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখলেও তাদেরকে দিমইয়াত থেকে সরাতে ব্যর্থ হন। বাধ্য হয়ে তিনি ক্রুসেডার নেতৃবৃন্দকে দিমইয়াত ত্যাগের বিনিময়ে প্রলুব্ধকর সন্ধিচুক্তির প্রস্তাব দেন। কিন্তু নিজেদের সামরিক শক্তি ও সংখ্যাধিক্যের গর্বে অন্ধ ক্রুসেড শক্তি সরাসরি সন্ধিপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং কায়রো অভিমুখে অগ্রসর হয়।
ক্রুসেডার বাহিনী তিনদিক থেকে জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত একটি এলাকা দিয়ে কায়রোর দিকে অগ্রসর হয়। এলাকাটি পূর্ব দিক থেকে মানজালা হ্রদ (Lake Manzala), পশ্চিম দিক থেকে দিমইয়াত (শাখা) নদী এবং দক্ষিণ দিক থেকে আল-বাহরুস সাগির দ্বারা বেষ্টিত ছিল। ইসলামি নৌবহর তাদের প্রতিরোধের জন্য নীলনদে অবস্থান নিয়েছিল।
নীলনদে তখন ভরা জোয়ার চলছিল। মুসলমানরা নদীর বিভিন্ন বাধ কেটে দিলে উক্ত এলাকা পানিতে ডুবে যায় এবং ক্রুসেডারদের সামনে গমনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা দিমইয়াতে ফিরে যেতে উদ্যত হয়। কিন্তু দিমইয়াতে প্রত্যাবর্তনের একমাত্র সংকীর্ণ পথটিতে আল-কামিল তার সৈন্যদের মোতায়েন করে রেখেছিলেন। আল-কামিলের সৈন্যরা এবার ক্রুসেডারদের পথ আগলে দাঁড়ায়।
অবরুদ্ধ ও কোণঠাসা ক্রুসেডাররা এবার নিজেরাই সন্ধিচুক্তির আবেদন জানায়। আল-কামিল এই শর্তে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে সম্মত হন যে, তারা দিমইয়াত অঞ্চল মুসলমানদের কাছে সমর্পণের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধ্য হওয়ার জন্য আপাতত কয়েকজন খ্রিষ্টান রাজন্যকে জামানতস্বরূপ আল-কামিলের হাতে তুলে দেবে। অবশেষে ৬১৮ হিজরি সনের রজব (১২২১ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট) মাসে ক্রুসেডাররা দিমইয়াত ত্যাগ করে। আল্লাহর অনুগ্রহে আল-কামিল দিমইয়াতে প্রবেশ করেন। এভাবেই ইউরোপের খ্রিষ্টানশক্তির পঞ্চম ক্রুসেড অভিযানও পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
📄 ষষ্ঠ ক্রুসেড
[৬২৫-৬২৬ হিজরি/১২২৮-১২২৯ খ্রিষ্টাব্দ]
৬২৫ হিজরি সনে (১২২৮ খ্রিষ্টাব্দে) জার্মানির রাজা ২য় ফ্রেডেরিক (Frederick II) খ্রিষ্টরাজ্য বাইতুল মুকাদ্দাসের শাসনক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনার মনস্থ করেন। ইউরোপীয় সম্মিলিত বাহিনী তার সঙ্গে এ অভিযানে যোগ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ফ্রেডেরিকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের খ্রিষ্টান রাজন্যবর্গ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে ফ্রেডেরিক একাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
অন্যান্য খ্রিষ্টান রাজার তুলনায় ফ্রেডেরিকের মাঝে গোঁড়ামি কম থাকায় পোপ মনে করতেন যে, ফ্রেডেরিক বোধহয় মুসলমানই হয়ে গেছে! ফ্রেডেরিক মুসলমানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করতেন।
আইয়ুবি রাষ্ট্র তখন ভেতর-বাহির উভয় দিক থেকেই হুমকির সম্মুখীন ছিল। একদিকে সুলতান আল-কামিলের সঙ্গে তার ভাই মুআযযাম ও আশরাফের প্রচণ্ড বিরোধ চলছিল এবং একে কেন্দ্র করে পারস্পরিক লড়াইয়ের উপক্রম হয়েছিল, অপরদিকে বাইরে থেকে খোয়ারিজমিরাও আইয়ুবি সাম্রাজ্যের ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিল। চেঙ্গিস খানের আগ্রাসনে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া খোয়ারিজমিরা তখন ইস্পাহানে সমবেত হয়ে শক্তি সঞ্চয়ে সচেষ্ট ছিল এবং ধীরে ধীরে শাম ও ইরাকের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। দ্বিমুখী চাপে অস্থিরপ্রায় আইয়ুবি সুলতান আল-কামিল যখন জানতে পারেন যে, নতুন বিপদরূপে জার্মানির রাজা ফ্রেডেরিক আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন, তখন তিনি ফ্রেডেরিকের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করেন। চুক্তির শর্তের মধ্যে ছিল—আল-কামিল আল-কুদস, (তীর্থযাত্রীদের যাত্রাপথে অবস্থিত) আক্কা ও জাফার নিয়ন্ত্রণ ফ্রেডেরিকের হাতে ছেড়ে দেবেন এবং বন্দি ফিরিঙ্গিদের মুক্তি দেবেন। অপরদিকে আল-কামিল যখন যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, হোক সে খ্রিষ্টান, ফ্রেডেরিক তখন কামিলকে সহায়তা করবেন এবং পরবর্তী সাড়ে দশ বছর শামে অন্যান্য ক্রুসেড শাসকের কাছে কোনো ধরনের সামরিক সাহায্য পৌঁছতে বাধা প্রদান করবেন। এভাবে জার্মানির রাজা ফ্রেডেরিক বিনা যুদ্ধেই আল-কুদসের কর্তৃত্ব লাভ করেন। নিঃসন্দেহে এটি ছিল আইয়ুবি সুলতান আল-কামিলের জীবনের অন্যতম গর্হিত অন্যায়। তার এই নির্বুদ্ধিতার কারণে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি কর্তৃক পুনরুদ্ধারের মাত্র বিয়াল্লিশ বছর পর মুসলমানরা আবারও আল-কুদসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
ফ্রেডেরিকের সঙ্গে সমঝোতা করার পর সুলতান আল-কামিল এবার তার পূর্ণ শক্তি ব্যয় করেন নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে তাদের শাসনাধীন অঞ্চল কেড়ে নেওয়ার কাজে। অবশেষে আইয়ুবি পরিবারের সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাভূত করে তিনি পুরো অঞ্চল নিজের কর্তৃত্বে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় প্রায় নয় বছর তিনি ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে কোনো লড়াই করেননি। আল-কামিল মুহাম্মাদ তার শাসনামলের শেষদিকে ৬৩৫ হিজরি সনে দামেশক দখলের উদ্দেশ্যে অভিযানে বের হন এবং দামেশক জয় করেন। এ বিজয়ের কিছুদিন পরই তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর আইয়ুবি পরিবারের প্রশাসকদের পারস্পরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
সুলতান আল-কামিল একজন কর্মোদ্যমী শাসক ছিলেন। সেচব্যবস্থার সংস্কার ও কৃষিশিল্পে ব্যাপক কাজ করায় তার শাসনামলে মিশরে প্রভূত উন্নতি হয়। অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়। তিনি সালাহুদ্দিন দুর্গের(৯৮) নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন এবং প্রচুর ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন। আইয়ুবি রাজপরিবারের অধিকাংশ সদস্যের ন্যায় তিনিও জ্ঞানানুরাগী ও আলিমদের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। হাদিস শ্রবণ ও দ্বীনি আলোচনার জন্য প্রতি শুক্রবার রাতে তিনি উলামায়ে কেরামের মজলিসে শরিক হতেন।
কিন্তু নিজের ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য তিনি মুসলমানদের পবিত্র ভূমি রক্ষায় শিথিলতা করেছেন এবং আল-কুদস-সহ বিভিন্ন ইসলামি ভূখণ্ড খ্রিষ্টানদের হাতে তুলে দিতে দ্বিধা করেননি। তাহলে তার নাগরিক উন্নয়ন এবং জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞানপ্রীতির কী মূল্যই-বা আছে?! সুলতান আল-কামিলকে তার সেই সাধের ক্ষমতা ত্যাগ করতে হয়েছে, ত্যাগ করতে হয়েছে পৃথিবীর মায়া, ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি তার পরবর্তী আইয়ুবি প্রজন্মও; কিন্তু ইতিহাস আজও সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছে ইসলাম ও ইসলামি ভূখণ্ডের প্রতি তার সেই অবহেলা ও অন্যায় আচরণের দাস্তান।
আল-কামিলের মৃত্যুর পর তার পুত্র (২য় আদিল) সাইফুদ্দিন আবু বকর তার স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু তিনি শাসনকার্যে মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে খেল-তামাশায় মত্ত ছিলেন। ফলে প্রশাসকগণ মিলে দু-বছর পর ৬৩৭ হিজরি সনে তাকে অপসারণ করে।
এরপর আইয়ুবি রাষ্ট্রের হাল ধরেন আল-কামিলের আরেক পুত্র আল-মালিকুস সালিহ আইয়ুব। সালিহ আইয়ুব ছিলেন আইয়ুবি রাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক। তিনি সবধরনের ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা নির্মূল করে যথাযথভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। সুলতান আইয়ুব ৬৩৮ হিজরি সনে নীলনদের রওজা দ্বীপে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন এবং প্রচুর তুর্কি মামলুক (ক্রীতদাস) ক্রয় করে সেখানে জড়ো করেন। অষ্টম আব্বাসি খলিফা মুতাসিম যেমন সেনাবাহিনীতে প্রচুর পরিমাণ তুর্কি ক্রীতদাস অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তারাই তার সন্তানদের হাত থেকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কেড়ে নিয়েছিল, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে সুলতান আস-সালিহ আইয়ুবের ক্ষেত্রেও। তার সংগৃহীত এসব তুর্কি ক্রীতদাসই পরে তার বংশধরদের হাত থেকে আইয়ুবি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কেড়ে নেয় এবং মামলুক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। রওজা দ্বীপে সংগঠিত হওয়ায় ইতিহাসে তারা ‘বাহরি মামলুক’ নামে পরিচিত।
সুলতান আস-সালিহ আইয়ুবের চাচা সালিহ ইসমাইল ছিলেন তার অন্যতম প্রতিপক্ষ। তিনি দামেশক দখল করে নেন এবং ক্রুসেডারদের সঙ্গে আঁতাঁত করে তাদের হাতে বিভিন্ন অঞ্চল ছেড়ে দেন। পরে সুলতান আইয়ুব বিভিন্ন খোয়ারিজম গোত্রের সহায়তা নিয়ে শত্রুদের পরাভূত করেন।
দ্বিতীয়বার আল-কুদস পুনরুদ্ধার
সুলতান আস-সালিহ আইয়ুব ৬৪২ হিজরি সনে (১২৪৪ খ্রিষ্টাব্দে) আল-কুদস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন। তেরো হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে তিনি রওনা হন আল-কুদস অভিমুখে। সংবাদ পেয়ে শামের বিভিন্ন এলাকার ক্রুসেডাররা সমবেত হয়ে ব্যাপক সৈন্যসমাবেש ঘটায়। পরিতাপের বিষয়, এ সময় হিমস ও আলেপ্পোসহ শামের বিভিন্ন এলাকার আইয়ুবি প্রশাসকগণ ক্রুসেডারদের সমর্থন জানায় এবং আল-মালিকুস সালিহের বাহিনীর প্রতিরোধের লক্ষ্যে ক্রুসেডারদের সঙ্গে নিজ নিজ বাহিনী নিয়ে জড়ো হয়! সম্মিলিত বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় বিশ হাজার। আল-কুদসের পথে গাজার নিকটে আল-মালিকুস সালিহের বাহিনী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয় এবং তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। এরপর তারা সামনে অগ্রসর হয়ে আল-কুদস অবরোধ করে। মুসলিম বাহিনীর প্রবল আক্রমণে এগারো হাজার সৈন্যবিশিষ্ট আল-কুদসের স্থানীয় ক্রুসেডার বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে; পনেরো বছর পর আবারও আল-কুদসে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর থেকে একটানা ছয়শ তিরানব্বই বছর পবিত্র আল-কুদস নগরী ইসলামি শাসনাধীন ছিল। ১৩৩৫ হিজরি সনে (১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে) ব্রিটিশ বাহিনী আল-কুদস দখল করে নেয় এবং পরবর্তী সময়ে ইহুদিদের হাতে তুলে দেয়।
সুলতান আইয়ুব ৬৪৩ হিজরি সনে দামেশক এবং ৬৪৫ হিজরি সনে আসকালান পুনরুদ্ধার করেন। এভাবে আইয়ুবি রাষ্ট্র পুনরায় তার পিতামহ আল-মালিকুল আদিল সাইফুদ্দিনের শাসনামলের ন্যায় বিস্তৃতি লাভ করে।
টিকাঃ
৯৮. সালাহুদ্দিন দুর্গ: মিশরের কায়রোতে আল-মুকাত্তাম পাহাড়ের পাদদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি দুর্গ। এটি আল-জাবাল দুর্গ ও কায়রো দুর্গ (The Citadel of Cairo) নামেও পরিচিত। প্রথম আইয়ুবি সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি দুর্গটির নির্মাণকাজ শুরু করেন আর পঞ্চম আইয়ুবি সুলতান আল-কামিলের হাতে এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। আল-কামিলের শাসনকাল থেকে পরবর্তী ছয় শতকের অধিক কাল ধরে সালাহুদ্দিন দুর্গই ছিল মিশর শাসকের সরকারি বাসভবন। সালাহুদ্দিন দুর্গকে মধ্যযুগে নির্মিত অন্যতম দুর্ভেদ্য সামরিক দুর্গ মনে করা হয়।