📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্রষ্টব্য : একক খিলাফতব্যবস্থা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের সেতুবন্ধন

📄 দ্রষ্টব্য : একক খিলাফতব্যবস্থা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের সেতুবন্ধন


মুসলিম উম্মাহর অবিচ্ছিন্নতা ও কাফিরশক্তির মোকাবিলায় দৃঢ়তার ক্ষেত্রে একক খিলাফতব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর থেকে পৃথিবীর সকল ভূখণ্ডের মুসলমান এক ও অভিন্ন জাতি হিসেবে এক খলিফার অধীনে বসবাস করত। স্থান-বর্ণ ও জাতি-পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও কখনোই মুসলিমবিশ্বে একাধিক খলিফার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। বনু উমাইয়ার শাসনামলে যদিও সীমিত কিছু সময় দুই খলিফার অস্তিত্ব ছিল; কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর মতাদর্শ অনুসারে তখন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি. ছিলেন একমাত্র বৈধ খলিফা। উমাইয়া শাসনব্যবস্থার পতন ও আব্বাসি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পর ইসলামি বিশ্বের নানা অংশে বিভিন্ন স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও আব্বাসি খলিফা ব্যতীত অন্য কেউ নিজেকে খলিফা বলে দাবি করেনি। ২৯৭ হিজরি সনে যখন উবায়দি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উবায়দুল্লাহ আল-মাহদি নিজেকে খলিফা ও আমিরুল মুমিনিন দাবি করেন, মূলত তখনই মুসলিমবিশ্ব প্রথমবারের মতো খিলাফত প্রশ্নে বিভক্তির শিকার হয়। উনিশ বছর পর ৩১৬ হিজরি সনে যখন আন্দালুসে আবদুর রহমান আন-নাসিরও নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন, তখন মুসলিমবিশ্ব খিলাফতের ক্ষেত্রে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সাতাশি বছর পর ৪০৩ হিজরি সনে কর্ডোভাকেন্দ্রিক খিলাফতব্যবস্থার পতন ঘটলে মুসলিমবিশ্ব আবারও দুই খলিফার যুগে প্রবেশ করে। এরও একশ চৌষট্টি বছর পর ৫৬৭ হিজরি সনে উবায়দি সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে আবারও মুসলিমবিশ্ব এক-অভিন্ন খিলাফতব্যবস্থায় ফিরে আসে। যদিও এ সময় আব্বাসি খিলাফতের ভঙ্গুর অবস্থার কারণে বিভিন্ন রাষ্ট্র আব্বাসি খলিফার কর্তৃত্ব শিকার করত না; কিন্তু তারা আব্বাসি খলিফার মোকাবিলায় ভিন্ন খলিফা দাঁড় করানোর চিন্তাও করেনি। ৬৫৬ হিজরি সনে তাতার আগ্রাসন-পরবর্তী সময়ে অল্প কিছুদিন মুসলিমবিশ্ব খিলাফতশূন্য থাকলেও ৬৫৯ হিজরি সনে মিশরে আবারও আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উবায়দি (ফাতিমি) সাম্রাজ্যের খলিফাগণের তালিকা

📄 উবায়দি (ফাতিমি) সাম্রাজ্যের খলিফাগণের তালিকা


১. আল-মাহদি উবায়দুল্লাহ : ২৯৭-৩২২ হি. (৯০৯-৯৩৪ খ্রি.)
২. আল-কায়িম মুহাম্মাদ আবুল কাসিম : ৩২২-৩৩৪ হি. (৯৩৪-৯৪৫ খ্রি.)
৩. আল-মানসুর ইসমাইল আবু তাহির : ৩৩৪-৩৪১ হি. (৯৪৫-৯৫২ খ্রি.)
৪. আল-মুইয লি দ্বীনিল্লাহ মাআদ(৬৪) : ৩৪১-৩৬৫ হি. (৯৫২-৯৭৫ খ্রি.)
৫. আল-আজিজ বিল্লাহ নিযার আবু মানসুর : ৩৬৫-৩৮৬ হি. (৯৭৫-৯৯৬ খ্রি.)
৬. আল-হাকিম বি আমরিল্লাহ আবু আলি মানসুর : ৩৮৬-৪১১ হি. (৯৯৬-১০২০ খ্রি.)
৭. আয-যাহির আলি আবুল হাসান : ৪১১-৪২৭ হি. (১০২০-১০৩৫ খ্রি.)
৮. আল-মুসতানসির বিল্লাহ আবু তামিম : ৪২৭-৪৮৭ হি. (১০৩৫-১০৯৪ খ্রি.)
৯. আল-মুসতালি আহমাদ আবুল কাসিম : ৪৮৭-৪৯৫ হি. (১০৯৪-১১০১ খ্রি.)
১০. আল-আমির মানসুর আবু আলি : ৪৯৫-৫২৪ হি. (১১০১-১১৩০ খ্রি.)
১১. আল-হাফিজ আবদুল মজিদ আবুল মায়মুন : ৫২৪-৫৪৪ হি. (১১৩০-১১৪৯ খ্রি.)
১২. আয-যাফির ইসমাইল আবুল মানসুর : ৫৪৪-৫৪৯ হি. (১১৪৯-১১৫৪ খ্রি.)
১৩. আল-ফায়িয ঈসা আবুল কাসিম : ৫৪৯-৫৫৫ হি. (১১৫৪-১১৬০ খ্রি.)
১৪. আল-আযিদ আবদুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ : ৫৫৫-৫৬৭ হি. (১১৬০-১১৭১ খ্রি.)

টিকাঃ
৬৪. ৩৫৮ হিজরি সনে (৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে) আল-মুইয লি দ্বীনিল্লাহর শাসনামলে মিশর বিজিত হয় এবং ৩৬২ হিজরি সনে (৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে) উবায়দি সাম্রাজ্যের রাজধানী মাগরিবের মানসুরিয়া থেকে মিশরের কায়রোতে স্থানান্তরিত হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উবায়দি (ফাতিমি) সাম্রাজ্যের খলিফাগণের বংশলতিকা

📄 উবায়দি (ফাতিমি) সাম্রাজ্যের খলিফাগণের বংশলতিকা


[নামের পাশে বন্ধনীতে খলিফাদের ক্রমধারা উল্লেখ করা হয়েছে]
আল-মাহদি উবায়দুল্লাহ (১) (২৯৭-৩২২ হি./৯০৯-৯৩৪ খ্রি.)
আল-কায়িম মুহাম্মাদ আবুল কাসিম (২) (৩২২-৩৩৪ হি./৯৩৪-৯৪৫ খ্রি.)
আল-মানসুর ইসমাইল আবু তাহির (৩) (৩৩৪-৩৪১ হি./৯৪৫-৯৫২ খ্রি.)
আল-মুইয লি দ্বীনিল্লাহ মাআদ (৪) (৩৪১-৩৬৫ হি./৯৫২-৯৭৫ খ্রি.)
আল-আজিজ বিল্লাহ নিযার আবু মানসুর (৫) (৩৬৫-৩৮৬ হি./৯৭৫-৯৯৬ খ্রি.)
আল-হাকিম বি আমরিল্লাহ আবু আলি মানসুর (৬) (৩৮৬-৪১১ হি./৯৯৬-১০২০ খ্রি.)
আয-যাহির আলি আবুল হাসান (৭) (৪১১-৪২৭ হি./১০২০-১০৩৫ খ্রি.)
আল-মুসতানসির বিল্লাহ আবু তামিম (৮) (৪২৭-৪৮৭ হি./১০৩৫-১০৯৪ খ্রি.)
শাখা-১:
আল-মুসতালি আহমাদ আবুল কাসিম (৯) (৪৮৭-৪৯৫ হি./১০৯৪-১১০১ খ্রি.)
আল-আমির মানসুর আবু আলি (১০) (৪৯৫-৫২৪ হি./১১০১-১১৩০ খ্রি.)
আবুল কাসিম তায়্যিব
শাখা-২:
মুহাম্মাদ
আল-হাফিজ আবদুল মাজিদ আবুল মায়মুন (১১) (৫২৪-৫৪৪ হি./১১৩০-১১৪৯ খ্রি.)
ইউসুফ
আয-যাফির ইসমাইল আবুল মানসুর (১২) (৫৪৪-৫৪৯ হি./১১৪৯-১১৫৪ খ্রি.)
আল-ফায়িয ঈসা আবুল কাসিম (১৩) (৫৪৯-৫৫৫ হি./১১৫৪-১১৬০ খ্রি.)
আল-আযিদ আবদুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ (১৪) (৫৫৫-৫৬৭ হি./১১৬০-১১৭১ খ্রি.)
(সালাহুদ্দিন আইয়ুবির হাতে পতন ঘটে।)
শাখা-৩:
আবদুল্লাহ নিযার
শাখা-৪:
ইসমাইল

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00