📄 ইকাবের যুদ্ধ
[সফর ৬০৯ হিজরি] [জুলাই ১২১২ খ্রিষ্টাব্দ]
৬০৯ হিজরি সনে (১২১২ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান ক্রুসেড শক্তি আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক ও বিস্তৃত যুদ্ধের ঘোষণা করে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ইতালি থেকে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য খ্রিষ্টান বাহিনীতে যোগ দেয়। মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দেন আরিক যুদ্ধের মহানায়ক ইয়াকুব বিন ইউসুফের পুত্র মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসির। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ।
মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসিরের অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং অদক্ষ যুদ্ধনীতির কারণে ইকাবের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অধিকাংশ মুসলিম সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়।
বরং প্রকৃতপক্ষে ইকাবের যুদ্ধ ছিল আন্দালুসে মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের সমাপ্তির সূচনা। এর পরপরই খ্রিষ্টানদের হাতে একের পর এক আন্দালুসের নগরীগুলোর পতন ঘটতে থাকে। এ সময় আফ্রিকায় বসবাসরত বার্বার গোত্রসমূহের মাঝে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারস্পরিক সংঘাত ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন অব্যাহত থাকে। ফলে তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায় এবং আন্দালুসের প্রশাসকগণ তাদেরকে আন্দালুস থেকে বিতাড়িত করে দেয়। এ সময় ইবনে হুদ নিজেকে আন্দালুসের দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার শাসক ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর ৬২০ হিজরি সনে (১২২৪ খ্রিষ্টাব্দে) আন্দালুসের শাসনক্ষমতা চলে যায় গ্রানাডার শাসকপরিবার বনু নাসরের হাতে।
[সফর ৬০৯ হিজরি] [জুলাই ১২১২ খ্রিষ্টাব্দ]
৬০৯ হিজরি সনে (১২১২ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান ক্রুসেড শক্তি আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক ও বিস্তৃত যুদ্ধের ঘোষণা করে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ইতালি থেকে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য খ্রিষ্টান বাহিনীতে যোগ দেয়। মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দেন আরিক যুদ্ধের মহানায়ক ইয়াকুব বিন ইউসুফের পুত্র মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসির। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ।
মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসিরের অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং অদক্ষ যুদ্ধনীতির কারণে ইকাবের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অধিকাংশ মুসলিম সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়।
বরং প্রকৃতপক্ষে ইকাবের যুদ্ধ ছিল আন্দালুসে মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের সমাপ্তির সূচনা। এর পরপরই খ্রিষ্টানদের হাতে একের পর এক আন্দালুসের নগরীগুলোর পতন ঘটতে থাকে। এ সময় আফ্রিকায় বসবাসরত বার্বার গোত্রসমূহের মাঝে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারস্পরিক সংঘাত ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন অব্যাহত থাকে। ফলে তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায় এবং আন্দালুসের প্রশাসকগণ তাদেরকে আন্দালুস থেকে বিতাড়িত করে দেয়। এ সময় ইবনে হুদ নিজেকে আন্দালুসের দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার শাসক ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর ৬২০ হিজরি সনে (১২২৪ খ্রিষ্টাব্দে) আন্দালুসের শাসনক্ষমতা চলে যায় গ্রানাডার শাসকপরিবার বনু নাসরের হাতে।
📄 মুওয়াহহিদি শাসকদের তালিকা
১. আবদুল মুমিন বিন আলি : ৫২৪-৫৫৮ হি. ১১২৯-১১৬৩ খ্রি.
২. আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর বিন আবদুল মুমিন : ৫৫৮-৫৮০ হি. ১১৬৩-১১৮৪ খ্রি.
৩. আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৫৮০-৫৯৫ হি. ১১৮৪-১১৯৯ খ্রি.
৪. আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আন-নাসির বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৫৯৫-৬১০ হি. ১১৯৯-১২১৩ খ্রি.
আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মুসতানসির
৫. (২য় ইউসুফ) বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬১১-৬২০ হি. ১২১৩-১২২৪ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ
৬. বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৬২০-৬২১ হি. ১২২৪-১২২৪ খ্রি.
আবু আবদুল্লাহ আল-আদিল
৭. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২১-৬২৪ হি. ১২২৪-১২২৭ খ্রি.
ইয়াহইয়া আল-মুতাসিম
৮. বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬২৪-৬২৭ হি. ১২২৭-১২৩০ খ্রি.
ইদরিস আল-মামুন
৯. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২৭-৬৩০ হি. ১২৩০-১২৩২ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ রাশিদ
১০. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৩০-৬৪০ হি. ১২৩২-১২৪২ খ্রি.
আলি সাইদ আবুল হাসান
১১. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৪০-৬৪৬ হি. ১২৪২-১২৪৮ খ্রি.
উমর আল-মুরতাযা বিন আবু ইবরাহিম
১২. ইসহাক বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ : ৬৪৬-৬৬৫ হি. ১২৪৮-১২৬৬ খ্রি.
আবু দাবুস ওয়াসিক বিন মুহাম্মাদ উমর
১৩. বিন আবদুল মুমিন : ৬৬৫-৬৬৮ হি. ১২৬৬-১২৬৯ খ্রি.
১. আবদুল মুমিন বিন আলি : ৫২৪-৫৫৮ হি. ১১২৯-১১৬৩ খ্রি.
২. আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর বিন আবদুল মুমিন : ৫৫৮-৫৮০ হি. ১১৬৩-১১৮৪ খ্রি.
৩. আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৫৮০-৫৯৫ হি. ১১৮৪-১১৯৯ খ্রি.
৪. আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আন-নাসির বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৫৯৫-৬১০ হি. ১১৯৯-১২১৩ খ্রি.
আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মুসতানসির
৫. (২য় ইউসুফ) বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬১১-৬২০ হি. ১২১৩-১২২৪ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ
৬. বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৬২০-৬২১ হি. ১২২৪-১২২৪ খ্রি.
আবু আবদুল্লাহ আল-আদিল
৭. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২১-৬২৪ হি. ১২২৪-১২২৭ খ্রি.
ইয়াহইয়া আল-মুতাসিম
৮. বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬২৪-৬২৭ হি. ১২২৭-১২৩০ খ্রি.
ইদরিস আল-মামুন
৯. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২৭-৬৩০ হি. ১২৩০-১২৩২ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ রাশিদ
১০. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৩০-৬৪০ হি. ১২৩২-১২৪২ খ্রি.
আলি সাইদ আবুল হাসান
১১. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৪০-৬৪৬ হি. ১২৪২-১২৪৮ খ্রি.
উমর আল-মুরতাযা বিন আবু ইবরাহিম
১২. ইসহাক বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ : ৬৪৬-৬৬৫ হি. ১২৪৮-১২৬৬ খ্রি.
আবু দাবুস ওয়াসিক বিন মুহাম্মাদ উমর
১৩. বিন আবদুল মুমিন : ৬৬৫-৬৬৮ হি. ১২৬৬-১২৬৯ খ্রি.