📄 মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ বিন তুমারতের আত্মপ্রকাশ
মুহাম্মাদ বিন তুমাৰ্ত বার্বার মাছমুদা গোত্রীয় ছিলেন। অবশ্য আদি বংশবিচারে তিনি ছিলেন ইদরিসি আলাবিদের বংশধর। তার পূর্বপুরুষগণ ইদরিসিয়া রাষ্ট্রের পতনের পর বার্বারদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। সুতরাং বংশমূলের বিবেচনায় তিনি ছিলেন আরব আর জন্ম ও বেড়ে ওঠার বিবেচনায় বার্বার।
মুহাম্মাদ বিন তুমাক্ত জ্ঞানার্জনের উদ্দেশে প্রাচ্যে সফর করেন এবং ইবনে হাযমের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি আবু বকর শাশির সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং তার কাছে উসুলে ফিকহের সামান্য জ্ঞান অর্জন করেন। মুবারক বিন আবদুল জাব্বারের কাছ থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেন। ফিরতি পথে আলেকজান্দ্রিয়া অতিক্রমের সময়ে তিনি আবু বকর তারতুশির মজলিসেও শরিক হন।
মুহাম্মাদ বিন তুমাক্ত জ্ঞানার্জন শেষে মাগরিবে ফিরে এলে সর্বত্র তার জ্ঞানগরিমার কথা ছড়িয়ে পড়ে। মাগরিবে ফিরেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মুরাবিতি শাসকপরিবারের সমালোচনা ও বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন। তখন মুরাবিতি শাসক আমিরুল মুসলিমিন আলি বিন তাশফিন তাকে ডেকে পাঠান এবং উলামায়ে কেরামকেও সমবেত করেন। রাজদরবারে অনুষ্ঠিত বিতর্কে মুহাম্মাদ বিন তুমাক্ত সবাইকে পরাভূত করেন। মুহাম্মাদ বিন তুমাক্তের মেধার প্রখরতা লক্ষ করে এবং মাছমুদা গোত্রকে নিয়ে মুরাবিতি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহের আশঙ্কা করে আলি বিন তাশফিনের জনৈক উপদেষ্টা তাকে হত্যা করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আলি বিন তাশফিন তাকে হত্যা করার পরিবর্তে মুরাবিতি সাম্রাজ্য ছেড়ে অন্য যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে বলেন।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত রাজদরবার থেকে বের হয়ে আগমাত (Aghmat) চলে যান। তিনি সেখানকার গহিন পাহাড়ি এলাকার লোকদের সমবেত করে নসিহত করতে শুরু করেন। মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত তাদেরকে বেশি বেশি (হাদিসে বর্ণিত) মাহদির কথা শোনাতেন। দিনে দিনে তার অনুসারী বৃদ্ধি পেতে থাকে। আবদুল মুমিন বিন আলি আল-কুমি নামক তার জনৈক অনুসারী দশজন ব্যক্তিকে নিয়ে তার হাতে এ মর্মে বায়আত গ্রহণ করেন যে, তিনিই প্রতীক্ষিত মাহদি। এরপর মানুষ দলে দলে তার হাতে বায়আত গ্রহণ করতে থাকে। ফলে অল্প কদিনের মধ্যেই মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত মুরাবিতি সাম্রাজ্যের জন্য এক শক্তিশালী হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হন।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্তকে পরাভূত করার জন্য আন্দালুসের প্রশাসক একটি বাহিনী প্রেরণ করেন; কিন্তু তারা পরাজিত হয়। এর ফলে তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। ৫২৪ হিজরি সনে (১১৩০ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি মুরাবিতিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই শুরু করেন। তিনি বিশাল এক বাহিনী প্রস্তুত করে মুরাবিতি সাম্রাজ্যের রাজধানী মাররাকিশে প্রেরণ করেন। মুহাম্মাদ বিন তুমার্তের বাহিনী মাররাকিশ অবরোধ করে। কিন্তু সিজিলমাসার গভর্নর মাররাকিশের নিরাপত্তায় সহায়তা বাহিনী প্রেরণ করলে তার বাহিনী পরাজিত হয় এবং অবরোধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত তখন অসুস্থ থাকায় নিজে অভিযানে অংশগ্রহণ করেননি। এর কিছুদিন পরই তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আবদুল মুমিনের নাম ঘোষণা করেন এবং লোকেরা তার হাতে বায়আত গ্রহণ করে।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত যে স্বপ্ন পূরণ না করেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আবদুল মুমিন তা পূরণ করতে সক্ষম হন। তিনি মুরাবিতি সাম্রাজ্যের পতন ঘটান এবং ৫৩৮ হিজরি থেকে ৫৪১ হিজরি সনের (১১৪৩-১১৪৬ খ্রিষ্টাব্দের) মধ্যে মধ্য ও উচ্চ মাগরিব অঞ্চল জয় করেন। ৫৪১ হিজরি সনেই মুওয়াহহিদি বাহিনীর হাতে মাররাকিশের পতন ঘটে এবং মুরাবিতি শাসনের সমাপ্তি ঘটে।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্তের অনুসারীরা নিজেদের নাম রেখেছিল 'মুওয়াহহিদি' বা একত্ববাদী জামাত। তারা দাবি করত—পৃথিবীতে একমাত্র তারাই প্রকৃত অর্থে ঈমানদার জামাত, যারা আল্লাহ তাআলার তাওহিদ ও একত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে সৃষ্টিজীবের সঙ্গে উপমা থেকে পবিত্র ঘোষণা করে।
আন্দালুসের মুসলমানরা ইতিপূর্বে যেমন মুরাবিতি শাসকদের সাহায্য গ্রহণ করেছিল, তেমনই তারা মুওয়াহহিদি শাসকদের কাছেও সাহায্য প্রার্থনা করে। এর ফলে মুওয়াহহিদি প্রশাসনের সামনে আন্দালুসে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হয়। মুওয়াহহিদি শাসক আবদুল মুমিন ৫৪৩ হিজরি সনে (১১৪৮ খ্রিষ্টাব্দে) আন্দালুসে বাহিনী প্রেরণ করেন। পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যেই আন্দালুসের সমস্ত ইসলামি ভূখণ্ড মুওয়াহহিদিদের কর্তৃত্বে চলে আসে।
মুরাবিতি শাসকগণ যেমন আন্দালুসে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, মুওয়াহহিদি শাসকরা তেমনটি করার চিন্তা করেনি। মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের সামরিক ঘাঁটি মাররাকিশেই ছিল। তারা আন্দালুসে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি প্রেরণ করত আর প্রতিনিধিরা তাদের নামে আন্দালুস শাসন করত।
মুহাম্মাদ বিন তুমাৰ্ত বার্বার মাছমুদা গোত্রীয় ছিলেন। অবশ্য আদি বংশবিচারে তিনি ছিলেন ইদরিসি আলাবিদের বংশধর। তার পূর্বপুরুষগণ ইদরিসিয়া রাষ্ট্রের পতনের পর বার্বারদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। সুতরাং বংশমূলের বিবেচনায় তিনি ছিলেন আরব আর জন্ম ও বেড়ে ওঠার বিবেচনায় বার্বার।
মুহাম্মাদ বিন তুমাক্ত জ্ঞানার্জনের উদ্দেশে প্রাচ্যে সফর করেন এবং ইবনে হাযমের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি আবু বকর শাশির সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং তার কাছে উসুলে ফিকহের সামান্য জ্ঞান অর্জন করেন। মুবারক বিন আবদুল জাব্বারের কাছ থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেন। ফিরতি পথে আলেকজান্দ্রিয়া অতিক্রমের সময়ে তিনি আবু বকর তারতুশির মজলিসেও শরিক হন।
মুহাম্মাদ বিন তুমাক্ত জ্ঞানার্জন শেষে মাগরিবে ফিরে এলে সর্বত্র তার জ্ঞানগরিমার কথা ছড়িয়ে পড়ে। মাগরিবে ফিরেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মুরাবিতি শাসকপরিবারের সমালোচনা ও বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন। তখন মুরাবিতি শাসক আমিরুল মুসলিমিন আলি বিন তাশফিন তাকে ডেকে পাঠান এবং উলামায়ে কেরামকেও সমবেত করেন। রাজদরবারে অনুষ্ঠিত বিতর্কে মুহাম্মাদ বিন তুমাক্ত সবাইকে পরাভূত করেন। মুহাম্মাদ বিন তুমাক্তের মেধার প্রখরতা লক্ষ করে এবং মাছমুদা গোত্রকে নিয়ে মুরাবিতি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহের আশঙ্কা করে আলি বিন তাশফিনের জনৈক উপদেষ্টা তাকে হত্যা করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আলি বিন তাশফিন তাকে হত্যা করার পরিবর্তে মুরাবিতি সাম্রাজ্য ছেড়ে অন্য যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে বলেন।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত রাজদরবার থেকে বের হয়ে আগমাত (Aghmat) চলে যান। তিনি সেখানকার গহিন পাহাড়ি এলাকার লোকদের সমবেত করে নসিহত করতে শুরু করেন। মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত তাদেরকে বেশি বেশি (হাদিসে বর্ণিত) মাহদির কথা শোনাতেন। দিনে দিনে তার অনুসারী বৃদ্ধি পেতে থাকে। আবদুল মুমিন বিন আলি আল-কুমি নামক তার জনৈক অনুসারী দশজন ব্যক্তিকে নিয়ে তার হাতে এ মর্মে বায়আত গ্রহণ করেন যে, তিনিই প্রতীক্ষিত মাহদি। এরপর মানুষ দলে দলে তার হাতে বায়আত গ্রহণ করতে থাকে। ফলে অল্প কদিনের মধ্যেই মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত মুরাবিতি সাম্রাজ্যের জন্য এক শক্তিশালী হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হন।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্তকে পরাভূত করার জন্য আন্দালুসের প্রশাসক একটি বাহিনী প্রেরণ করেন; কিন্তু তারা পরাজিত হয়। এর ফলে তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। ৫২৪ হিজরি সনে (১১৩০ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি মুরাবিতিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই শুরু করেন। তিনি বিশাল এক বাহিনী প্রস্তুত করে মুরাবিতি সাম্রাজ্যের রাজধানী মাররাকিশে প্রেরণ করেন। মুহাম্মাদ বিন তুমার্তের বাহিনী মাররাকিশ অবরোধ করে। কিন্তু সিজিলমাসার গভর্নর মাররাকিশের নিরাপত্তায় সহায়তা বাহিনী প্রেরণ করলে তার বাহিনী পরাজিত হয় এবং অবরোধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত তখন অসুস্থ থাকায় নিজে অভিযানে অংশগ্রহণ করেননি। এর কিছুদিন পরই তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আবদুল মুমিনের নাম ঘোষণা করেন এবং লোকেরা তার হাতে বায়আত গ্রহণ করে।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্ত যে স্বপ্ন পূরণ না করেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আবদুল মুমিন তা পূরণ করতে সক্ষম হন। তিনি মুরাবিতি সাম্রাজ্যের পতন ঘটান এবং ৫৩৮ হিজরি থেকে ৫৪১ হিজরি সনের (১১৪৩-১১৪৬ খ্রিষ্টাব্দের) মধ্যে মধ্য ও উচ্চ মাগরিব অঞ্চল জয় করেন। ৫৪১ হিজরি সনেই মুওয়াহহিদি বাহিনীর হাতে মাররাকিশের পতন ঘটে এবং মুরাবিতি শাসনের সমাপ্তি ঘটে।
মুহাম্মাদ বিন তুমার্তের অনুসারীরা নিজেদের নাম রেখেছিল 'মুওয়াহহিদি' বা একত্ববাদী জামাত। তারা দাবি করত—পৃথিবীতে একমাত্র তারাই প্রকৃত অর্থে ঈমানদার জামাত, যারা আল্লাহ তাআলার তাওহিদ ও একত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে সৃষ্টিজীবের সঙ্গে উপমা থেকে পবিত্র ঘোষণা করে।
আন্দালুসের মুসলমানরা ইতিপূর্বে যেমন মুরাবিতি শাসকদের সাহায্য গ্রহণ করেছিল, তেমনই তারা মুওয়াহহিদি শাসকদের কাছেও সাহায্য প্রার্থনা করে। এর ফলে মুওয়াহহিদি প্রশাসনের সামনে আন্দালুসে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হয়। মুওয়াহহিদি শাসক আবদুল মুমিন ৫৪৩ হিজরি সনে (১১৪৮ খ্রিষ্টাব্দে) আন্দালুসে বাহিনী প্রেরণ করেন। পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যেই আন্দালুসের সমস্ত ইসলামি ভূখণ্ড মুওয়াহহিদিদের কর্তৃত্বে চলে আসে।
মুরাবিতি শাসকগণ যেমন আন্দালুসে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, মুওয়াহহিদি শাসকরা তেমনটি করার চিন্তা করেনি। মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের সামরিক ঘাঁটি মাররাকিশেই ছিল। তারা আন্দালুসে তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি প্রেরণ করত আর প্রতিনিধিরা তাদের নামে আন্দালুস শাসন করত।
📄 আলারেকর যুদ্ধ (Battle of Alarcos)
[শাবান ৫৯১ হিজরি] [জুলাই ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দ]
৫৮০ হিজরি সনে মানসুর বিল্লাহ ইয়াকুব বিন ইউসুফ বিন আবদুল মুমিন মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তৃতীয় মুওয়াহহিদি শাসক। তার শাসনকাল ছিল ৫৮০ হিজরি থেকে ৫৯৫ হিজরি সন (১১৮৪-১১৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত।
৫৯১ হিজরি সনে (১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইয়াকুব বিন ইউসুফ বাতালইয়ুস-এর নিকটবর্তী আরিকের প্রান্তরে (৪৮) খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাভূত করেন। জাল্লাকার প্রান্তরে মুরাবিতিরা যে বিজয় অর্জন করেছিল, তার তুলনায় আরিকের বিজয় মোটেও কম তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না।
টিকাঃ
৪৮. আরিক: রাবাহ দুর্গ হতে উত্তর-পশ্চিমে বিশ কিলোমিটার দূরে ওয়াদিয়ে আনা নদীর একটি শাখার তীরে অবস্থিত এক দুর্গের নাম। বর্তমানে এর অবস্থান আধুনিক স্পেনের সিউডাড রিয়াল (Ciudad Real) নগরীর পশ্চিমে স্ট্যা মারিয়া ডি অ্যালারকোস (Sta Maria de Alarcos) অঞ্চলে। তৎকালে আরিক ছিল আন্দালুস ও ক্যাস্টোলা রাষ্ট্রের সীমান্তরেখায় অবস্থিত একটি এলাকা।
[শাবান ৫৯১ হিজরি] [জুলাই ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দ]
৫৮০ হিজরি সনে মানসুর বিল্লাহ ইয়াকুব বিন ইউসুফ বিন আবদুল মুমিন মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তৃতীয় মুওয়াহহিদি শাসক। তার শাসনকাল ছিল ৫৮০ হিজরি থেকে ৫৯৫ হিজরি সন (১১৮৪-১১৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত।
৫৯১ হিজরি সনে (১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইয়াকুব বিন ইউসুফ বাতালইয়ুস-এর নিকটবর্তী আরিকের প্রান্তরে (৪৮) খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাভূত করেন। জাল্লাকার প্রান্তরে মুরাবিতিরা যে বিজয় অর্জন করেছিল, তার তুলনায় আরিকের বিজয় মোটেও কম তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না।
টিকাঃ
৪৮. আরিক: রাবাহ দুর্গ হতে উত্তর-পশ্চিমে বিশ কিলোমিটার দূরে ওয়াদিয়ে আনা নদীর একটি শাখার তীরে অবস্থিত এক দুর্গের নাম। বর্তমানে এর অবস্থান আধুনিক স্পেনের সিউডাড রিয়াল (Ciudad Real) নগরীর পশ্চিমে স্ট্যা মারিয়া ডি অ্যালারকোস (Sta Maria de Alarcos) অঞ্চলে। তৎকালে আরিক ছিল আন্দালুস ও ক্যাস্টোলা রাষ্ট্রের সীমান্তরেখায় অবস্থিত একটি এলাকা।
📄 ইকাবের যুদ্ধ
[সফর ৬০৯ হিজরি] [জুলাই ১২১২ খ্রিষ্টাব্দ]
৬০৯ হিজরি সনে (১২১২ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান ক্রুসেড শক্তি আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক ও বিস্তৃত যুদ্ধের ঘোষণা করে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ইতালি থেকে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য খ্রিষ্টান বাহিনীতে যোগ দেয়। মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দেন আরিক যুদ্ধের মহানায়ক ইয়াকুব বিন ইউসুফের পুত্র মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসির। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ।
মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসিরের অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং অদক্ষ যুদ্ধনীতির কারণে ইকাবের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অধিকাংশ মুসলিম সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়।
বরং প্রকৃতপক্ষে ইকাবের যুদ্ধ ছিল আন্দালুসে মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের সমাপ্তির সূচনা। এর পরপরই খ্রিষ্টানদের হাতে একের পর এক আন্দালুসের নগরীগুলোর পতন ঘটতে থাকে। এ সময় আফ্রিকায় বসবাসরত বার্বার গোত্রসমূহের মাঝে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারস্পরিক সংঘাত ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন অব্যাহত থাকে। ফলে তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায় এবং আন্দালুসের প্রশাসকগণ তাদেরকে আন্দালুস থেকে বিতাড়িত করে দেয়। এ সময় ইবনে হুদ নিজেকে আন্দালুসের দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার শাসক ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর ৬২০ হিজরি সনে (১২২৪ খ্রিষ্টাব্দে) আন্দালুসের শাসনক্ষমতা চলে যায় গ্রানাডার শাসকপরিবার বনু নাসরের হাতে।
[সফর ৬০৯ হিজরি] [জুলাই ১২১২ খ্রিষ্টাব্দ]
৬০৯ হিজরি সনে (১২১২ খ্রিষ্টাব্দে) খ্রিষ্টান ক্রুসেড শক্তি আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক ও বিস্তৃত যুদ্ধের ঘোষণা করে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ইতালি থেকে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য খ্রিষ্টান বাহিনীতে যোগ দেয়। মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দেন আরিক যুদ্ধের মহানায়ক ইয়াকুব বিন ইউসুফের পুত্র মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসির। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ।
মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আন-নাসিরের অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং অদক্ষ যুদ্ধনীতির কারণে ইকাবের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অধিকাংশ মুসলিম সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়।
বরং প্রকৃতপক্ষে ইকাবের যুদ্ধ ছিল আন্দালুসে মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের সমাপ্তির সূচনা। এর পরপরই খ্রিষ্টানদের হাতে একের পর এক আন্দালুসের নগরীগুলোর পতন ঘটতে থাকে। এ সময় আফ্রিকায় বসবাসরত বার্বার গোত্রসমূহের মাঝে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি মুওয়াহহিদি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারস্পরিক সংঘাত ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন অব্যাহত থাকে। ফলে তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায় এবং আন্দালুসের প্রশাসকগণ তাদেরকে আন্দালুস থেকে বিতাড়িত করে দেয়। এ সময় ইবনে হুদ নিজেকে আন্দালুসের দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার শাসক ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর ৬২০ হিজরি সনে (১২২৪ খ্রিষ্টাব্দে) আন্দালুসের শাসনক্ষমতা চলে যায় গ্রানাডার শাসকপরিবার বনু নাসরের হাতে।
📄 মুওয়াহহিদি শাসকদের তালিকা
১. আবদুল মুমিন বিন আলি : ৫২৪-৫৫৮ হি. ১১২৯-১১৬৩ খ্রি.
২. আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর বিন আবদুল মুমিন : ৫৫৮-৫৮০ হি. ১১৬৩-১১৮৪ খ্রি.
৩. আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৫৮০-৫৯৫ হি. ১১৮৪-১১৯৯ খ্রি.
৪. আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আন-নাসির বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৫৯৫-৬১০ হি. ১১৯৯-১২১৩ খ্রি.
আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মুসতানসির
৫. (২য় ইউসুফ) বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬১১-৬২০ হি. ১২১৩-১২২৪ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ
৬. বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৬২০-৬২১ হি. ১২২৪-১২২৪ খ্রি.
আবু আবদুল্লাহ আল-আদিল
৭. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২১-৬২৪ হি. ১২২৪-১২২৭ খ্রি.
ইয়াহইয়া আল-মুতাসিম
৮. বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬২৪-৬২৭ হি. ১২২৭-১২৩০ খ্রি.
ইদরিস আল-মামুন
৯. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২৭-৬৩০ হি. ১২৩০-১২৩২ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ রাশিদ
১০. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৩০-৬৪০ হি. ১২৩২-১২৪২ খ্রি.
আলি সাইদ আবুল হাসান
১১. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৪০-৬৪৬ হি. ১২৪২-১২৪৮ খ্রি.
উমর আল-মুরতাযা বিন আবু ইবরাহিম
১২. ইসহাক বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ : ৬৪৬-৬৬৫ হি. ১২৪৮-১২৬৬ খ্রি.
আবু দাবুস ওয়াসিক বিন মুহাম্মাদ উমর
১৩. বিন আবদুল মুমিন : ৬৬৫-৬৬৮ হি. ১২৬৬-১২৬৯ খ্রি.
১. আবদুল মুমিন বিন আলি : ৫২৪-৫৫৮ হি. ১১২৯-১১৬৩ খ্রি.
২. আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর বিন আবদুল মুমিন : ৫৫৮-৫৮০ হি. ১১৬৩-১১৮৪ খ্রি.
৩. আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৫৮০-৫৯৫ হি. ১১৮৪-১১৯৯ খ্রি.
৪. আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আন-নাসির বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৫৯৫-৬১০ হি. ১১৯৯-১২১৩ খ্রি.
আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মুসতানসির
৫. (২য় ইউসুফ) বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬১১-৬২০ হি. ১২১৩-১২২৪ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ
৬. বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-মানসুর : ৬২০-৬২১ হি. ১২২৪-১২২৪ খ্রি.
আবু আবদুল্লাহ আল-আদিল
৭. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২১-৬২৪ হি. ১২২৪-১২২৭ খ্রি.
ইয়াহইয়া আল-মুতাসিম
৮. বিন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : ৬২৪-৬২৭ হি. ১২২৭-১২৩০ খ্রি.
ইদরিস আল-মামুন
৯. বিন আবু ইউসুফ ইয়াকুব : ৬২৭-৬৩০ হি. ১২৩০-১২৩২ খ্রি.
আবদুল ওয়াহিদ রাশিদ
১০. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৩০-৬৪০ হি. ১২৩২-১২৪২ খ্রি.
আলি সাইদ আবুল হাসান
১১. বিন ইদরিস আল-মামুন : ৬৪০-৬৪৬ হি. ১২৪২-১২৪৮ খ্রি.
উমর আল-মুরতাযা বিন আবু ইবরাহিম
১২. ইসহাক বিন আবু ইয়াকুব ইউসুফ : ৬৪৬-৬৬৫ হি. ১২৪৮-১২৬৬ খ্রি.
আবু দাবুস ওয়াসিক বিন মুহাম্মাদ উমর
১৩. বিন আবদুল মুমিন : ৬৬৫-৬৬৮ হি. ১২৬৬-১২৬৯ খ্রি.