📄 দ্বিতীয়বার বিভক্তি এবং আন্দালুসে উমাইয়া শাসনের পতনের কাল
বিগত প্রায় তিন শতাব্দীকালে যে কজন শাসক আন্দালুস শাসন করেছেন, তাদের চেয়েও অধিক সংখ্যক উমাইয়া খলিফা মাত্র তেইশ বছরের এই সময়কালে আন্দালুসের খিলাফত দায়িত্ব পালন করেন। এ তথ্য দ্বারাই অনুমান করা যায় যে, আন্দালুস তখন চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছিল এবং আসন্ন দুর্যোগের প্রহর গুনছিল। বারবার খলিফা পরিবর্তনে একদিকে যেমন খিলাফতের প্রভাবশক্তি বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল, অপরদিকে আন্দালুসের ইসলামি সাম্রাজ্য আবারও বিভক্তি ও ভাঙনের শিকার হয়েছিল। ধ্বংসাত্মক সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও গোত্রকেন্দ্রিক চেতনা এ সময় সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ পেতে থাকে।
এরচেয়েও নিকৃষ্ট ও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে-বিভক্ত প্রতিটি গোত্র ও গোষ্ঠী এ সময় প্রতিপক্ষকে পরাভূত করার জন্য উত্তরের খ্রিষ্টান রাজ্যগুলোর সাহায্যপ্রার্থনা করত। খ্রিষ্টানরাও সোৎসাহে তাদের আহ্বানে সাড়া দিত এবং এর বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ভূখণ্ড ও সামরিক দুর্গের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিত।
অবশেষে ৪২২ হিজরি সনে (১০৩১ খ্রিষ্টাব্দে) খলিফা মুতামিদ বিল্লাহর পতনের মধ্য দিয়ে আন্দালুসে উমাইয়া সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন ঘটে।
মুতামিদ বিল্লাহর অন্তর্ধানের পর উমাইয়া রাজপরিবারে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত কেউ না থাকায় তৎকালীন উজির ও বিচারপতি আবুল হায্য ইবনুল জাহওয়ার আন্দালুসে খিলাফতব্যবস্থার সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে, এখন থেকে একটি উজিরপর্ষদ রাষ্ট্রের প্রশাসনদায়িত্ব পালন করবে। ইবনুল জাহওয়ার কর্তৃক গৃহীত এই শুরাভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ছিল অনেকটা আধুনিক যুগের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কাছাকাছি।
আন্দালুস ইতিহাসের এই স্তরের সমাপ্তি ঘটতেই আন্দালুস রাষ্ট্র আবারও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একেকটি অঞ্চলের প্রশাসক নিজেকে স্বাধীন শাসক দাবি করে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। আন্দালুস প্রবেশ করে এক নতুন যুগে; যে যুগের নাম— তাইফা (বিভক্ত) শাসকদের যুগ।