📄 আল-মুনতানসির বিল্লাহ আবু জাফর মানসুর
যাহির বি আমরিল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুসতানসিরের নামে বায়আত গ্রহণ করা হয়। মুসতানসির বিল্লাহ ৫৮৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬২৩ হিজরি সনে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন।
খলিফা হয়ে তিনি জনগণের মাঝে ন্যায় ও কল্যাণের বিস্তার করেন, বিচারকার্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন, ইলম ও ধর্মীয় বিষয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করেন, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করেন। তিনিই বাগদাদে চার মাজহাবের জন্য মুসতানসিরিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এ মাদরাসায় তিনি দারুল হাদিস, স্নানাগার ও চিকিৎসালয়ও প্রতিষ্ঠা করেন।
খliফা মুসতানসির ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় সৈন্যসমাবেশ করতেন। তিনি নিজেও বীর সাহসী ছিলেন, সশরীরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। জনগণও তাকে ভালোবাসত। যে সময় পুরো পৃথিবী তাতার জাতির ভয়ে তটস্থ ছিল, তখন তিনি তাতার বাহিনীকে পরাজিত করেন। তার এক ভাইয়ের নাম ছিল খাফাজি। তিনিও সাহসী ও সুউচ্চ মনোবলের অধিকারী ছিলেন। তিনি বলতেন, 'আমাকে যদি খিলাফতের দায়িত্ব প্রদান করা হয়, তাহলে আমি সেনাবাহিনী নিয়ে আমু দরিয়া পাড়ি দেবো এবং তাতারদের সমূলে বিনাশ করে তাদের অধিকৃত অঞ্চলগুলো জয় করব।' অবশ্য তিনি খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করতে পারেননি। বরং মুসতানসির বিল্লাহর পর তার পুত্র মুসতাসিম খলিফা-পদ লাভ করেন।
খলিফা মুসতানসির সুদর্শন, নিষ্ঠাবান ও চরিত্রবান ছিলেন। তিনি আপন সামর্থ্য অনুযায়ী জনগণকে প্রচুর দান-সদকা করতেন। তিনি আব্বাসি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার পথেঘাটে প্রহরা-চৌকি, অশ্বশালা, সরাইখানা ও সেতু নির্মাণ করেন। বাগদাদের প্রতিটি মহল্লায় তিনি বিশেষ করে রমজান মাসসহ অন্যান্য সময় দরিদ্র জনসাধারণের জন্য লঙ্গরখানা চালু রাখতেন। মুসতানসিরিয়া মাদরাসায় তিনি মূল্যবান অনেক গ্রন্থ ওয়াকফ করেন। খলিফা মুসতানসির তিপ্পান্ন বছর বয়সে ৬৪০ হিজরি সনের ১০ জুমাদাল উখরা (১২৪২ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর) ইন্তেকাল করেন।