📄 আযযাহির বি আমরিল্লাহ আবু নাসর মুহাম্মাদ
খলিফা যাহির বি আমরিল্লাহ ৫৭১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। ৬২২ হিজরিতে তার পিতা নাসির লি দ্বীনিল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে বায়ান্ন বছর বয়সে তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন।
খলিফা যাহির বি আমরিল্লাহ ন্যায়পরায়ণ ও সদাচারী ছিলেন। (১৩৮) ঐতিহাসিকগণ তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, তিনি উমরদ্বয়ের (দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. ও উমাইয়া খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ রহ.) আদর্শ পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
পূর্ববর্তী খলিফাদের রীতি অনুসারে যখন তাকেও জনসাধারণের বিভিন্ন তথ্য ও পরিস্থিতি জানানো হয়, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'মানুষের ঘরের খবর জেনে আমাদের কী লাভ? আমার কাছে কেউ বার্তার মাধ্যমে কিছু জানাতে চাইলে যেন কেবল রাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ই জানায়।' তাকে বলা হয়, এরূপ করা হলে তো জনসাধারণের অন্যায়- আচরণ বেড়ে যাবে। তিনি উত্তর দেন, 'আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব, তিনি যেন তাদেরকে সংশোধন করে দেন।' খলিফা যাহির বি আমরিল্লাহ প্রতিদিন পূর্বের দিনের তুলনায় আরও অধিক জনগণের প্রতি সদাচরণ করতেন, সমাজে চর্চিত ন্যায়পরায়ণতা অব্যাহত রাখতেন, বিরলগুলো পুনরুজ্জীবিত করতেন।
দায়িত্ব পালনের মাত্র নয় মাস পর ৬২৩ হিজরি সনের রজব মাসে (১২২৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে) তিনি ইন্তেকাল করেন।
টিকাঃ
১৩৮. প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির রহ. তার সমসাময়িক ছিলেন। তিনি লিখেছেন, আল্লাহ জানেন, তিনি যখন খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন, তখন থেকেই আমি কালের বিপর্যয় ও কালবাসীর মন্দাচারের কারণে তার শাসনকাল সংকীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা করেছি। আমি আমার অনেক বন্ধুবান্ধবকেও আমার এ আশঙ্কার কথা বলেছি। [ইবনুল আছির, আলকামিল ফিত তারিখ, ১০/৪১৪] আর বাস্তবেও তাই হয়েছিল। তার খিলাফতকাল এক বছরও স্থায়ী হয়নি।