📄 তাতার ও মোঙ্গল : ভিন্ন নাকি অভিন্ন?!
মোঙ্গল, তুর্কি, সেলজুক ইত্যাদি ঐতিহাসিক পরিবার মূলত তাতার গোত্রেরই শাখা। তবে ইতিহাসের পরিক্রমায় কোনো কালে পুরো তাতার জাতিগোষ্ঠীর ওপর মোঙ্গল পরিবার প্রতিপত্তি বিস্তার করায় তাতারদের সকল শাখাগোত্রকে মোঙ্গল নামেও অভিহিত করা হয়। অবশ্য একদল ঐতিহাসিকের ভাষ্যমতে তাতার ও মোঙ্গল মূলত তাতার গোত্রের পূর্বপুরুষ দুই ভাইয়ের নাম।
চেঙ্গিস খান ছিলেন মোঙ্গল গোত্রীয়। তার নেতৃত্বে তাতাররা যখন বহির্বিশ্বে আগ্রাসন শুরু করে, মূলত তখন থেকেই মোঙ্গল শাখাগোত্র অন্যান্য তাতার শাখাগোত্রের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তাই তখন মোঙ্গল নামটিই সকল গোত্রের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে তৈমুর লং-এর আমলে তাতাররা প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং সকল শাখাগোত্র তাতার নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
বর্তমানে রাশিয়া, সাইবেরিয়া ও ক্রিমিয়া উপদ্বীপে বসবাসকারী গোত্রসমূহকে তাতার বলা হয় আর চীন ও আফগানিস্তানে বিদ্যমান গোত্রসমূহকে বলা হয় মোঙ্গল।
📄 চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে ইসলামি ভূখণ্ডে তাতারি আগ্রাসন
চেঙ্গিস খান ছিলেন সুউচ্চ মনোবলের অধিকারী। তিনিই প্রথম তাতার গোত্রের অন্যান্য শাখার সঙ্গে আবহমানকাল ধরে চলমান সংঘাতে পরাজিত ও বিধ্বস্ত মোঙ্গল গোত্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি অন্যান্য সকল তুর্কি গোত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর তাদেরকে পরাজিত করেন। এভাবে তিনি এমন এক সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিপতি হন, যার অধিবাসীর সংখ্যা একমাত্র আল্লাহ তাআলা জানেন। তার সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল বর্তমান মঙ্গোলিয়ার অন্তর্গত কারাকোরাম (Karakorum) নগরী।
চেঙ্গিস খান তার সুবিশাল জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য এমন একটি সংবিধান প্রণয়নের চিন্তা করেন, যার দাবি অনুযায়ী পুরো জাতি চলবে। এ উদ্দেশ্যে তিনি ইয়াসাক বা ইয়াসা নামক একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। মোঙ্গলরা তাদের লেনদেন, জীবনাচারসহ সকল ক্ষেত্রে এই গ্রন্থেরই অনুসরণ করত। মুসলিম জাতির কাছে কুরআন যেমন অকাট্য জীবনবিধান, তাদের কাছেও তেমনই জীবনবিধান হিসেবে এ গ্রন্থ সমাদৃত ছিল।
ঐতিহাসিকগণ লিখেছেন, খোয়ারিজমের শাহ (সুলতান) আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের জের ধরে খলিফা নাসির লি দ্বীনিল্লাহই চেঙ্গিস খানকে খোয়ারিজম রাষ্ট্রে আক্রমণ করতে প্ররোচিত করেন। (১৩৪) খলিফা ভেবেছিলেন, এর ফলে আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ ইরাকের সুলতান হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে তাতারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত থাকবেন। খলিফা চেয়েছিলেন, সেলজুকদের পতনের পর আব্বাসি খিলাফতের ওপর নতুন করে যেন কারও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে। স্বীকার করতেই হবে যে, আব্বাসি খলিফা তাতার জাতির শক্তিমত্তা ও তাতারদের মোকাবিলায় খোয়ারিজমের সুলতানের দুর্বলতার বিষয়টি মোটেও ধারণা করতে পারেননি। এই অদূরদর্শিতার ফলাফল যা হয়েছিল, তা সম্ভবত খলিফার চাওয়া ও কল্পনায় ছিল না।
অবশ্য চেঙ্গিস খানও কেবল আব্বাসি খলিফার প্ররোচনাকে খোয়ারিজম রাষ্ট্রে হামলা চালানোর জন্য উপযুক্ত ও যথেষ্ট কারণ বিবেচনা করেননি। কারণ, আগে থেকেই আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের সঙ্গে চেঙ্গিস খানের সমঝোতা-চুক্তি ছিল।
৬১৫ হিজরি সনে (১২১৮ খ্রিষ্টাব্দে) একদল মোঙ্গল ব্যবসায়ী প্রচুর মালামাল নিয়ে খোয়ারিজম রাষ্ট্রের (বর্তমান কাজাখস্তানের অন্তর্গত) উতরার (ফারাব) নগরীতে গমন করে। বণিক কাফেলার সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় চারশ। নগরীটির খোয়ারিজমি গভর্নর এত বিপুল সম্পদ দেখে তাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং সুলতান আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানায় যে, চেঙ্গিস খানের কিছু গুপ্তচর বণিক বেশে আমাদের এলাকায় আগমন করেছে। তখন আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ তাদেরকে হত্যা করে সঙ্গে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। গভর্নর কালবিলম্ব না করে সুলতানের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। (১৩৫)
চেঙ্গিস খান এ সংবাদ জানতে পেরে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন এবং উক্ত গভর্নরকে তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের কাছে দাবি জানান। খোয়ারিজমের সুলতান আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ চেঙ্গিস খানের দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তার বার্তাবাহককে হত্যা করেন। ক্রুদ্ধ চেঙ্গিস খান এবার আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অগ্রসর হন।
চেঙ্গিস খানের আগমন-সংবাদ জানতে পেরে আলাউদ্দিন মুহাম্মাদই প্রথম আক্রমণের সূচনা করেন। তিনি মোঙ্গল রাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে হামলা চালান। সেখানে প্রতিপক্ষের সামান্য কিছু যোদ্ধা উপস্থিত ছিল। আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ সেখানকার শিশুদের হত্যা করেন এবং নারীদের বন্দি করেন। সংবাদ পেয়ে তাতাররা দ্রুত অগ্রসর হয়। তারা এসে আলাউদ্দিন মুহাম্মাদকে সেখানেই পেয়ে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘটিত হয় প্রচণ্ড ও রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ। কেউ কাউকে এক চুল ছাড় দিতে নারাজ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, উভয় পক্ষই সমূলে শেষ হয়ে যাবে। অবশেষে উভয় পক্ষ যখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং যুদ্ধস্পৃহা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ বুখারায় ফিরে আসেন এবং পুনরায় যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু করেন। তিনি বুখারা ও সমরকন্দে সুদৃঢ় দুর্গ গড়ে তুলে খোয়ারিজম ও খোরাসান থেকে সৈন্য সমবেত করা শুরু করেন।
চেঙ্গিস খানের মোঙ্গল বাহিনী ঝড়ের বেগে অগ্রসর হতে থাকে। চেঙ্গিস খান সির দরিয়া পাড়ি দিয়ে পথচলা অব্যাহত রেখে বুখারায় পৌঁছেন। বুখারায় তখন বিশ হাজার খোয়ারিজমি সৈন্য অবস্থান করছিল। আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ নিজে যুদ্ধপ্রস্তুতির কারণে বুখারায় অনুপস্থিত ছিলেন। তাতার বাহিনীর আগমন সংবাদ পেয়ে খোয়ারিজমি সৈন্যরা বুখারা নগরীকে অরক্ষিত রেখেই পালিয়ে চলে যায়।
৬১৬ হিজরি সনের ৪ জিলহজ (১২২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি) তাতাররা বুখারায় প্রবেশ করে। চেঙ্গিস খান সঙ্গে থাকা মোঙ্গল বণিকদেরকে নির্দেশ দেন যে, ইতিপূর্বে মোঙ্গল বণিক কাফেলার যেসব সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তারা যেন তা বের করে নিয়ে আসে। এরপর চেঙ্গিস খান বুখারার নেতৃবৃন্দকে নগরী থেকে বের করে করে দেন। অবশিষ্ট নাগরিকদের সৈন্যদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়। সকল সম্পদ লুট করা হয়। দুদিন আগের সুবিশাল ও সুসমৃদ্ধ বুখারা নগরী পরিণত হয় বিধ্বস্ত এক ধ্বংসস্তূপে, যেন গতকালও সেখানে কিছুই ছিল না! ৬১৭ হিজরি সনের মুহাররম মাসে (১২২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে) একইভাবে সমরকন্দকেও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়। (১৩৬)
এরপর চেঙ্গিস খান তার সবচেয়ে দক্ষ ও শক্তিশালী বিশ হাজার সৈন্যকে বাছাই করেন। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন, আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ যেখানেই থাকুক, এমনকি আসমানে ঝুলে থাকলেও তাকে খুঁজে বের করতে হবে। নেতার নির্দেশ যথার্থভাবে পালন করতে তাতার বাহিনী বেরিয়ে পড়ে। তাতার বাহিনী যেখানেই আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের নাগাল পেতে উদ্যত হয়, তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আরেক নগরীতে আশ্রয় নেন। খোয়ারিজমের প্রতাপশালী সুলতান আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ তখন তাতার-ভীতিতে আক্রান্ত হয়ে ভীরু ও সাহসহারা এক পলাতক শাসক। অবশেষে তিনি কাস্পিয়ান হ্রদের এক দ্বীপ-দুর্গে আশ্রয় নেন। আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ ও তার সঙ্গীগণ যখন নৌযানে উঠে সেই দুর্গের উদ্দেশে রওনা হন, তখন তাতাররা তাকে ধরার আশা ছেড়ে দিয়ে প্রত্যাবর্তন করে। এর কিছুদিন পর ৬১৭ হিজরি সনেই (১২২০ খ্রিষ্টাব্দে) রিক্ত ও বিধ্বস্ত আলাউদ্দিন মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেন।
প্রত্যাবর্তনের পথে তাতার বিশেষ বাহিনীটি আশেপাশের প্রতিটি অঞ্চল জয় করতে থাকে। তারা একে একে মাজানদারান (Mazandaran), রায়, হামাদান ও কাযবিন (Qazvin) নগরী জয় করে উত্তরে কুমানিয়া (১৩৭) (Cumania) অঞ্চলে পৌঁছে যায়। কুমানিয়ায় 'কিপচাক' নামক একটি তুর্কি উপজাতি বসবাস করত। তাদের একটি শাখার নাম ছিল 'কুমান'। যাযাবর কুমান-কিপচাক জাতি ধর্মপরিচয়ে মুসলিম ছিল। তাতাররা কুমানিয়াতেও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তাতারি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত কিপচাক জাতি বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই প্রথমবারের মতো কুমান-কিপচাক দাসদের মিশরে আগমন শুরু হয়। পরবর্তীকালে মিশরের আইয়ুবি সুলতান সালিহ নাজুমদ্দিন আইয়ুব এদের মধ্য হতেই বাহরি মামলুকদের ক্রয় করেন, যারা (আইয়ুবি সালতানাতের পর) মিশরে মামলুক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রুকনুদ্দিন বাইবার্স, মুইযুদ্দিন আইবেক, সাইফুদ্দিন কুতুজ, মানসুর কালাউন প্রমুখ।
এরপর তাতার বাহিনী পর্যায়ক্রমে রাশিয়া ও বুলগেরিয়ায় প্রবেশ করে। কিন্তু ৬২০ হিজরি সনে বুলগেরিয়ায় তাতার বাহিনী প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় এবং বহু তাতার সৈন্য বুলগেরিয়ানদের হাতে নিহত হয়।
এভাবেই খোয়ারিজমের শাসক আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের সন্ধানে বের হওয়া সীমিত সংখ্যক সৈন্যের তাতার বাহিনীটি বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এরপর চেঙ্গিস খান তার বাহিনীকে পাঠিয়ে একের পর এক অঞ্চল জয় করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি পরিণত হন এক সুবিশাল ও সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিপতিতে, যার বিস্তৃতি ছিল পূর্বে চীন থেকে পশ্চিমে ইরাক, কাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়া পর্যন্ত এবং দক্ষিণে ভারতবর্ষ হতে উত্তরে উত্তর মহাসাগর পর্যন্ত। ৬১৬ হিজরি সন হতে ৬২৩ হিজরি সন—মাত্র আট বছরে চেঙ্গিস খান এই বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন।
চেঙ্গিস খান যখন অনুভব করেন যে, তার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তখন তিনি তার সুবিশাল রাষ্ট্রকে চার ভাগে বিভক্ত করে তার চার পুত্রকে বণ্টন করে দেন। এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
চেঙ্গিস খান ৬২৪ হিজরি সনে (১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করেন। জীবনের শেষ তিন বছর তিনি চলৎশক্তিহীন ছিলেন। এ সময় তার এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, অপর চোখেও তিনি সামান্য দেখতে পেতেন। এ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। নির্বিচারে অগণিত মানুষ হত্যা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিনাশ সাধনসহ গর্হিত নানাবিধ কর্মকাণ্ডের কারণে চেঙ্গিস খান ইতিহাসে কুখ্যাত হয়েই থাকবেন।
চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে তাতাররা যখন মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল, মুসলিম বিশ্বের অভিভাবক আব্বাসি খলিফা নাসির লি দ্বীনিল্লাহ তখন ব্যস্ত জনসাধারণের ওপর জুলুম করে তাদের সম্পদ লুণ্ঠনে এবং ভোগবিলাসের মাধ্যমে প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে! তিনি যদিও 'নাসির লি দ্বীনিল্লাহ' বা আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী উপাধি ধারণ করেছিলেন; কিন্তু ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের দুর্দশার প্রতি তার কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর দু-বছর পূর্বে ৬২২ হিজরির রমজান (১২২৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর) মাসে খলিফা নাসির লি দ্বীনিল্লাহ উনসত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘ সাতচল্লিশ বছর খলিফা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
টিকাঃ
১৩৪. খোয়ারিজম রাষ্ট্র তখন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি ছিল। বর্তমান পাকিস্তানের অংশবিশেষসহ পুরো আফগানিস্তান এবং মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল খোয়ারিজম রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। খোয়ারিজমের বাহিনীর অশ্বারোহী সদস্যের সংখ্যাই ছিল পাঁচ লক্ষ। তাতার শাসক চেঙ্গিস খান ততদিনে বিভিন্ন ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালালেও তার মনে মুসলিম ভীতি ছিল প্রবল। এ কারণেই তিনি খোয়ারিজমের সুলতান আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন এবং চুক্তি মেনে চলছিলেন। কিন্তু খলিফা নাসির লি দ্বীনিল্লাহ নিজের প্রতিপত্তি রক্ষার্থে চেঙ্গিস খানের কাছে দূত পাঠিয়ে তাকে খোয়ারিজমে হামলা চালাতে প্ররোচিত করেন। চেঙ্গিস খান যদিও তৎক্ষণাৎ খলিফার প্রস্তাবে রাজি হননি; কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই মুসলিম জাতি সেই মুসলিম জাতি নয়।
১৩৫. ঠিক কী কারণে খোয়ারিজমি সুলতানের গভর্নর মোঙ্গল বণিকদের হত্যা করেছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ড. রাগিব সারজানির তাতারদের ইতিহাস, পৃষ্ঠা: ৪০-৪১।
১৩৬. বুখারা ও সমরকন্দে তাতার বাহিনীর ধ্বংসাত্মক আগ্রাসনের বিস্তারিত বিবরণ জানতে দ্রষ্টব্য মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ড. রাগিব সারজানির তাতারদের ইতিহাস।
১৩৭. কুমানিয়া: আধুনিক কাজাখস্তানের অন্তর্ভুক্ত একটি অঞ্চল।