📄 আল-মুসতানজিদ বিল্লাহ আবুল মুযাফফার ইউসুফ
মুসতানজিদ বিল্লাহ ৫১৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর ৫৫৫ হিজরিতে সাঁইত্রিশ বছর বয়সে তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন।
মুসতানজিদ বিল্লাহকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আব্বাসি খলিফা বিবেচনা করা হয়। তিনি তার শাসনামলে অতিরিক্ত কর ও জুলুম-উৎপীড়ন সম্পূর্ণ বাতিল করেন। সন্ত্রাসী ও চোর-ডাকাতদের প্রতি তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।
একবার তিনি জনৈক সন্ত্রাসীকে বন্দি করার নির্দেশ দেন। তখন তার এক অনুচর উক্ত সন্ত্রাসীকে মুক্তিদানের সুপারিশ করে এবং বিনিময়ে দশ হাজার দিনার প্রদানের প্রস্তাব দেয়। প্রত্যুত্তরে খলিফা তাকে বলেন, 'আমি তোমাকে দশ হাজার দিনার দিচ্ছি। তুমি আমাকে এমন আরেকজন সন্ত্রাসীর সন্ধান দাও। আমি তাকেও বন্দি করে জনসাধারণকে নিরাপত্তা প্রদানের চেষ্টা করব।'
খলিফা মুসতানজিদ বিল্লাহর আমলে ব্যাপক ও বিস্তৃত ক্ষেত্রজুড়ে মুসলিম-খ্রিষ্টান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। শাম ও মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে উভয় পক্ষ পরস্পর লড়াই করতে থাকে। তখন উভয় ফ্রন্টে মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন জিনকি রাষ্ট্রের সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদ রহ.। এ সময় উবায়দি রাষ্ট্র অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই মিশরের প্রতিরক্ষার দায়িত্বও নুরুদ্দিন মাহমুদই গ্রহণ করেন। এ সম্পর্কে সামনে যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
খলিফা মুসতানজিদের খিলাফত আমলের শুরুতে ইরাক অঞ্চলের সেলজুক সুলতান ছিলেন সুলায়মান শাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহ। ৫৫৬ হিজরি সনে তিনি নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ভ্রাতুষ্পুত্র আরসালান শাহ বিন দ্বিতীয় তুগরুল বিন মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহ। তবে ইরাকের চলমান ক্ষমতাপ্রবাহে তার উল্লেখযোগ্য কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।
খলিফা মুসতানজিদ ৫৬৬ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে (১১৭০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) আটচল্লিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।