📄 মুকতাফি লি আমরিল্লাহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ
মুকতাফি লি আমরিল্লাহ ৪৮৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। ৫৩০ হিজরি সনের জিলকদ মাসে খলিফা রাশিদ বিল্লাহ মসুলে চলে যাওয়ার পর সুলতান মাসউদ জনসাধারণকে অবহিত করেন যে, খলিফা রাশিদ স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দিয়ে চলে গেছেন। এরপর সুলতান মাসউদ আব্বাসি রাজপরিবারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে রাশিদের চাচা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদকে খলিফা নির্বাচিত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি 'আল-মুকতাফি লি-আমরিল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। এ সময় তার বয়স ছিল একচল্লিশ বছর।
মুকতাফির খিলাফত আমলেই ৫৪৭ হিজরি সনে সুলতান মাসউদ বিন মুহাম্মাদ হামাদানে ইন্তেকাল করেন। মাসউদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেলজুক পরিবারের সৌভাগ্যের সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। এরপর সেলজুক পরিবারের আর কোনো সদস্য আব্বাসি সাম্রাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
মাসউদের মৃত্যুর পর ইরাকের সুলতান পদ গ্রহণ করেন তার ভ্রাতুষ্পুত্র মুইনুদ্দিন মালিক শাহ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ। কিছুদিন পরই তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ভাই দ্বিতীয় মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ। ৫৫৪ হিজরি সনে তিনি হামাদানে ইন্তেকাল করেন। এরপর ইরাকের সেলজুক সালতানাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দ্বিতীয় মুহাম্মাদের চাচা সুলায়মান শাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহ। এর কিছুদিন পর ৫৫৫ হিজরি সনের ২ রবিউল আউয়াল (১১৬০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ মার্চ) খলিফা মুকতাফি লি আমরিল্লাহ ছেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
খলিফা মুকতাফিই প্রথম খলিফা, যিনি সেলজুক পরিবারের প্রভাবমুক্ত হয়ে অনেকটা স্বাধীনভাবে ইরাক শাসন করেন এবং খিলাফতের প্রকৃত অধিকার লাভ করেন। তিনি সাহসী ও নির্ভীক ছিলেন; সশরীরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও সচ্চরিত্র এবং সূক্ষ্ম চিন্তা ও প্রজ্ঞার অধিকারী।