📄 আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ আবু মানসুর ফজল
মুসতারশিদ বিল্লাহ ৪৮৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতার ইন্তেকালের পর ৫১২ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে সাতাশ বছর বয়সে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন।
মুসতারশিদ বিল্লাহ বিচক্ষণ, দুঃসাহসী, উচ্চাভিলাষী, সুভাষী ও সুহস্তলিপির অধিকারী ছিলেন। তিনি ফকিহ আলিম ছিলেন। হাদিসশাস্ত্রের বিখ্যাত ইমাম ইবনুস সালাহ রহ. শাফিয়ি মাজহাবের শ্রেষ্ঠতম আলিমদের তালিকায় তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনুস সালাহ-এর ন্যায় একজন বিদগ্ধ শাস্ত্রজ্ঞের এই স্বীকৃতিকে নিঃসন্দেহে খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা যায়। ঐতিহাসিক ইবনুল আছির তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন—তিনি তার পূর্বপুরুষের গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু তাকদির তার অনুকূলে ছিল না।
তার খিলাফত আমলের প্রথমদিকে ইরাকের সুলতান ছিলেন সুলতান মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহ। কিন্তু (সুলতান মাহমুদের চাচা) খোরাসান ও ট্রান্সঅক্সিয়ানাভুক্ত অন্যান্য অঞ্চলের শাসক সানজার বিন মালিক শাহ এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ইরাকের সুলতান হওয়ার অভিপ্রায়ে ইরাক অভিমুখে রওনা হলে সুলতান মাহমুদ তার বাহিনী নিয়ে প্রতিরোধে অগ্রসর হন। রায় অঞ্চলে উভয়ের বাহিনী মুখোমুখি হয় এবং চাচা সানজার বিজয়ী হন। ফলে মিম্বরসমূহে সুলতান হিসেবে তার নাম পাঠ করা হতে থাকে। সানজার তখন আহওয়াজে বসবাস করতেন। পরবর্তী সময়ে উভয়ের মধ্যে সন্ধিচুক্তি হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় যে, খুতবায় চাচার নামের পর মাহমুদের নামও পাঠ করা হবে। চাচা সানজার রায় ব্যতীত অন্য যেসব অঞ্চল মাহমুদের কাছ থেকে অধিকার করেছিলেন, সন্ধিচুক্তির পর সেগুলো মাহমুদকে ফিরিয়ে দেন। এরপর থেকে সুলতান মাহমুদ সন্ধিচুক্তির শর্ত অনুসারে চাচা সানজারের অধীনস্থ হিসেবে ইরাক শাসন করতে থাকেন।
৫১৪ হিজরি সনে মাহমুদের ভাই মাসউদ বিন মুহাম্মাদও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। মাসউদ তখন মসুল ও আজারবাইজান অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন। উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলে মাসউদের বাহিনী পরাজিত হয়। কিছুদিন পর সুলতান মাহমুদ তার ভাইয়ের সঙ্গেও সন্ধি করেন।
সেলজুক পরিবারের নেতৃস্থানীয় সদস্যদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত খলিফা মুসতারশিদকে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি এবার সুলতানদের দাপটে প্রথাগত পদে পরিণত হওয়া খিলাফত পদের হারানো প্রভাব ও ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তৎপর হন। বিরোধীদের মোকাবিলা করার জন্য তিনি নিজেই সেনাবাহিনীর পরিচালন-দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে এর কোনো দৃষ্টান্ত ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই খলিফার এই তৎপরতা সেলজুক শাসকদের পছন্দ হওয়ার কথা নয়। তারা বুঝতে পারছিল যে, এর মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষেত্র ও ভূমিকা সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি হুমকির মুখে পড়বে। সুলতান মাহমুদ আবহাওয়াজনিত অসুস্থতার কারণে বাগদাদে বসবাস করতেন না। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবার বাগদাদে ফিরে আসার মনস্থ করেন। খলিফা সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে তাকে বাধা দিতে চেষ্টা করলেও যখন দেখতে পান যে, নাছোড়বান্দা সুলতানকে কিছুতেই নিবৃত্ত করা যাবে না, তখন তিনি সমঝোতার পথকেই প্রাধান্য দেন। ৫২১ হিজরি সনে মাহমুদ বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং কয়েক মাস বাগদাদে অবস্থান করেন। অবশ্য পরে খলিফা কর্তৃক খেলাত (সম্মানসূচক পোশাক) ও প্রচুর সংখ্যক রাজকীয় বাহন প্রাপ্ত হয়ে তিনি বাগদাদ ত্যাগ করে হামাদানে চলে যান।
৫২৪ হিজরি সনে সুলতান মাহমুদ ইসমাইলি হাশাশিন সম্প্রদায়ের নেতা হাসান বিন সাবাহর কাছ থেকে আলমুত কেল্লা অধিকার করতে সক্ষম হন। (১২৯)
৬২৫ হিজরি সনে সুলতান মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বাগদাদের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সুলতান মাহমুদ যদিও মৃত্যুর পূর্বে তার শিশুপুত্র দাউদকে পরবর্তী সুলতান ঘোষণা করে গিয়েছিলেন; কিন্তু মাহমুদের ভাই মাসউদ, দ্বিতীয় তুগরুল বেগ ও সেলজুক শাহ এবং মাহমুদের চাচা সানজার ইরাকের সালতানাত লাভে অভিলাষী হয়ে ওঠেন। একে কেন্দ্র করে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে অব্যাহত সংঘাত ও যুদ্ধ চলতে থাকে এবং সুলতান পদেও পালাবদল চলতে থাকে। সুলতান মাহমুদের মৃত্যু-পরবর্তী তিন বছরে পর্যায়ক্রমে ইরাকের সুলতান পদে অধিষ্ঠিত হন দাউদ বিন মাহমুদ, মাসউদ বিন মুহাম্মাদ, তুগরুল বিন মুহাম্মাদ, এরপর আবার মাসউদ এবং তারপর আবার তুগরুল। (১৩০) অবশেষে ৬২৯ হিজরি সনের শুরুতে সুলতান তুগরুল ইন্তেকাল করার পর সুলতান মাসউদ সালতানাতের একচ্ছত্র অধিপতি হতে সক্ষম হন। তিনি গিয়াছুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন উপাধি ধারণ করেন।
এ সময় খলিফা মুসতারশিদ আরও একবার শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে খিলাফতের হারানো প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধার এবং সেলজুক প্রভাব হতে মুক্তিলাভের চেষ্টা চালান। একে কেন্দ্র করে সুলতান মাসউদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। খলিফা বাগদাদের মিম্বরসমূহে জুমার খুতবা হতে মাসউদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। এরপর খলিফা বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়ে মাসউদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অগ্রসর হন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো-খলিফার পতাকাতলে যারা যুদ্ধ করতে সমবেত হয়েছিল, তারা কোনো এক ও অভিন্ন (বংশ) পরিচয়ে আবদ্ধ ছিল না।
আর এরূপ না হলে লড়াইয়ের সঙ্গিন মুহূর্তে সাধারণত নিষ্ঠার পরিচয় পাওয়া যায় না। এ কারণেই উভয় বাহিনী মুখোমুখি হতেই খলিফার পক্ষে যুদ্ধ করতে আসা তুর্কি সৈন্যদের অনেকেই শিবির বদলে সুলতান মাসউদের পক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই খলিফার বাহিনী যুদ্ধে পরাজিত হয়। খliফা নিজে অটল-অবিচল থেকে যুদ্ধ করতে করতে একসময় প্রতিপক্ষের হাতে বন্দি হন। বন্দি খলিফা ৫২৯ হিজরি সনের ১৭ জিলকদ (১১৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট) বাতিনি গুপ্তঘাতকদের হাতে নিহত হন। (১৩১) এ সময় খলিফার বয়স ছিল পঁয়তাল্লিশ বছর।
টিকাঃ
১২৯. পেছনে 'শিয়া সম্প্রদায়ের পরিচিতি' শিরোনামের পরিচ্ছেদে ইসমাঈলি ফিরকার প্রধান শাখা নিযারিয়া ফিরকার কথা আলোচনা করা হয়েছে। নিযারিয়া ফিরকার পুরোধা নিযার আল-মুসতাফা বন্দি অবস্থায় আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করার পর তার পুত্র আল-হাদি পালিয়ে ইসমাইলি ধর্মপ্রচারক হাসান বিন সাবাহর কাছে আশ্রয় নেয়। এটি ৪৮৮ হিজরি সনের (১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দের) ঘটনা। হাসান সাবাহ এর পূর্ব থেকেই আলমুত দুর্গকে কেন্দ্র করে ইসমাইলি মতাদর্শ প্রচারণার ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। হাসান সাবাহ এবার আল-হাদিকে সঙ্গে নিয়ে (মুসতালিয়া ফিরকার অধিকারে থাকা) উবায়দি সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার এবং ইসমাইলি মতাদর্শের বিস্তারে এক সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। তার এই আন্দোলনের অনুসারীরাই ফিদায়িন ও হাশাশিন নামে পরিচিত ছিল। যেহেতু হাসান সাবাহ তার অনুসারীদের নেশাগ্রস্ত করে আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ উৎসর্গ করার জন্য গড়ে তুলত, তাই তাদেরকে হাশাশিন (হাশিশের নেশায় আক্রান্ত) ও ফিদায়িন (আত্মোৎসর্গকারী) বলা হতো।
হাশাশিন গোষ্ঠীর উদ্ভাবক হাসান সাবাহ ছিল শিয়া মতাদর্শের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ বিন সাবার বংশধর। সে প্রথমে ৪৮৩ হিজরি সনে (১০৯০ খ্রিষ্টাব্দে) পারস্যের দুর্ভেদ্য পাহাড়ি অঞ্চল 'মাযানদারান'-এ অবস্থিত আলমুত দুর্গ (বর্তমান ইরানের কাজবিন নগরী হতে ১০২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পাহাড়ি এলাকা) অধিকার করে সেখানে তার মতাদর্শের প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। এরপর সে আশেপাশের আরও চল্লিশটি দুর্গ দখল করে সেলজুক সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে হাশাশিন রাজ্য গড়ে তোলে। হাশাশিনরা ধীরে ধীরে তাদের রাজ্য বিস্তৃত করে এবং পারস্যের অভ্যন্তরেই মাযানদারানের পাশাপাশি জিবাল ও কুহিস্তানে হাশাশিন রাজ্যের আরও দুটি প্রদেশ গড়ে তোলে। পারস্যের বাইরে শামের নাসিরিয়া পার্বত্যাঞ্চলেও তারা আরেকটি হাশাশিন প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করে। ৫১৮ হিজরি সনে (১১২৪ খ্রিষ্টাব্দে) হাসান সাবাহর মৃত্যুর পর শামের হাশাশিন রাজ্য পারস্যের হাশাশিন রাজ্যের কর্তৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের অস্তিত্ব লাভ করে।
যেহেতু হাশাশিনদের মূল লক্ষ্য ছিল সারা বিশ্বে ইসমাইলি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা এবং উবায়দি রাষ্ট্র পুনরুদ্ধার করে পুরো বিশ্বকে উবায়দি শাসনের অধীনে নিয়ে আসা, তাই তারা মুসলিম বিশ্বকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিক থেকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে গুপ্তহত্যা ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে সমকালীন ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি শক্তি যথা আব্বাসি খিলাফত, শিয়া উবায়দি সাম্রাজ্য, সেলজুক, খোয়ারিজমি, জিনকি ও আইয়ুবি রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। তারা আব্বাসি খলিফা মুসতারশিদ ও রাশিদ, বাগদাদের সেলজুক উজির কিওয়ামুদ্দিন নিজামুল মুলক, সুলতান মুহাম্মাদ ঘুরি, মসুলের প্রশাসক মওদুদ বিন তুনতেকিন ও আক সুনকুর আল-বুরসুকি, হিমসের আমির জানাহুদ্দৌলা হুসাইন বিন মালাইব-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আলিমকে হত্যা করে এবং সেলজুক সুলতান মালিক শাহ, জিনকি সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদ ও আইয়ুবি সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবিকে হত্যা করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালায়।
বাগদাদের সেলজুক সুলতানগণসহ বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্রের শাসকগণ একাধিকবার হাশাশিনদের নিপাত করার উদ্দেশ্যে অভিযান চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। অবশেষে খোয়ারিজম রাষ্ট্রের শেষ শাসক জালালুদ্দিন শাহ (চেঙ্গিস খানের আগ্রাসন চলাকালীন শাসক আলাউদ্দিন মুহাম্মাদের পুত্র) আলমুত বাদে হাশাশিনদের সবকটি পারসিক দুর্গ ধ্বংস করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে জালালুদ্দিন শাহ নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে হাশাশিনরা পুনরায় সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করে। তখন তাতার সম্রাট হালাকু খান তাদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানেন এবং ৬৫৪ হিজরি সনে (১২৫৬ খ্রিষ্টাব্দে) পারস্যে হাশাশিনদের পুরোপুরি নিপাত করেন। এ সময় তৎকালীন হাশাশিন শাসক রুকনুদ্দিন খুরশাহের উজির নাসিরুদ্দিন তুসি হালাকু খানের চাটুকারিতা করে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয় এবং পরবর্তীকালে হালাকু খানের উপদেষ্টা উজিরে পরিণত হয়। এই নাসিরুদ্দিন তুসিই পরবর্তী সময়ে হালাকু খানকে বাগদাদে হামলা করতে প্ররোচিত করে। বাগদাদপতন ছিল দুই শিয়া উজির (আব্বাসি খলিফার উজির ইবনুল আলকামি ও হালাকু খানের উজির নাসিরুদ্দিন তুসি)-এর কূটকৌশলের ফসল।
শামের হাশাশিন রাজ্য এরপরও টিকে ছিল। বিখ্যাত আইয়ুবি সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহ. একবার শামের হাশাশিন রাজ্য অবরোধ করলেও শেষ পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। অবশেষে মামলুক সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্সের হাতে ৬৬৯ হিজরি সনে (১২৭০-৭১ খ্রিষ্টাব্দে) শামেও হাশাশিনদের পতন ঘটে।
১৩০. এ সময়কার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ড. রাগিব সারজানির ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস, ২/২৪৩-২৭৭।
১৩১. বাতিনি গুপ্তঘাতকদের হাতে খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর শাহাদাতের ঘটনাটি ঐতিহাসিক ইবনুল আছির রহ. তার 'আল-কামিল ফিত-তারিখ' গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। দ্রষ্টব্য: ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারিখ, ১০/৫৭২-৫৭৪।