📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আল-মুসতাযহির বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ

📄 আল-মুসতাযহির বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ


মুসতাযহির বিল্লাহ ৪৭০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং পিতা মুকতাদি বি আমরিল্লাহর মৃত্যুর পর ৪৮৭ হিজরি সনে সতেরো বছর বয়সে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মুসতাযহির বিল্লাহ সচ্চরিত্র ও কোমল স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি কল্যাণকর্মে উদ্যমী ও অগ্রগামী ছিলেন। তার শাসনামল জনসাধারণের জন্য শান্তি ও আনন্দের কাল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
খলিফা মুসতাযহির বিল্লাহর শাসনামলে ইরাকের সুলতান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন বারকিয়ারুক বিন মালিক শাহ। বারকিয়ারুক আপন সহকর্মী ও অধীনস্থ নির্বাচনে প্রজ্ঞা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি। এ সময় তার চাচা দামেশকের অধিপতি তুতুশ বিন আলপ আরসালান নিজেকে ইরাকের সুলতান দাবি করেন। একে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। অবশেষে ৪৮৭ হিজরি সনে (১০৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) তুতুশ নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে এ সংঘাতের সমাপ্তি ঘটে এবং হাতছাড়া হতে যাওয়া বিভিন্ন অঞ্চলের কর্তৃত্ব আবারও বারকিয়ারুকের হাতে ফিরে আসে।
কিছুদিন পর বারকিয়ারুকের ভাই মুহাম্মাদও নিজেকে সুলতান দাবি করেন। একে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বরং পুরো সেলজুক পরিবারের মধ্যে এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়। বরং বলা ভালো-দুই সেলজুক ভাইয়ের ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধের প্রভাবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জীবনে এক দীর্ঘমেয়াদি অকল্যাণের সূচনা হয়। ৪৯২ হিজরি সন হতে ৪৯৭ হিজরি সন পর্যন্ত একটানা পাঁচ বছর উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে। সুযোগ পেয়ে ইউরোপিয়ান ক্রুসেড শক্তি নিজেদের গুহা ছেড়ে (তাদের ভাষায় বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে) ইসলামি ভূখণ্ডে হামলা চালাতে অগ্রসর হয়। বাগদাদের সুলতান তখন ব্যস্ত আপন ভাইয়ের সঙ্গে ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ে!
পরবর্তী সময়ে অবশ্য ক্ষমতাবিভক্তির শর্তে দুই ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপিত হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রত্যেকে আপন আপন অধিকৃত অঞ্চল শাসন করবেন। এই সন্ধিচুক্তির কিছুদিন পর ৪৯৮ হিজরি সনের রবিউস সানি (১১০৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি) মাসে বারকিয়ারুক ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি তার পুত্র রুকনুদ্দৌলা দ্বিতীয় মালিক শাহকে পরবর্তী সুলতান ঘোষণা করে গিয়েছিলেন। কিন্তু বারকিয়ারুকের ভাই মুহাম্মাদ বারকিয়ারুকের মৃত্যুসংবাদ জানতে পেরে দ্রুত বাগদাদে ছুটে আসেন এবং সালতানাতের কর্তৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেন।
সুলতান মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহ ন্যায়পরায়ণ, -সচ্চরিত্র ও বীর-যোদ্ধা ছিলেন। তবে উজির ও গভর্নর নির্বাচনে দুর্ভাগ্যের শিকার হওয়ায় তার পুরো শাসনামলই গোলযোগ ও অস্থিরতায় অতিবাহিত হয়। মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহ ৫১১ হিজরি সনে (১১১৮ খ্রিষ্টাব্দে) ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর সুলতান নির্বাচন করা হয় তার পুত্র মুগিছুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন আবুল কাসিম মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন মালিক শাহকে। মাহমুদ সুলতান পদ লাভের চার মাস পর ৫১২ হিজরি সনের রবিউস সানি (১১১৮ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট) মাসে খলিফা মুসতাযহির বিল্লাহ বিয়াল্লিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00