📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আল-কাদির বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ

📄 আল-কাদির বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ


দ্বাদশ আব্বাসি খলিফা মুসতাইন ও ষোড়শ আব্বাসি খলিফা মুতাযিদের ন্যায় খলিফা কাদির বিল্লাহও আব্বাসি খলিফাগণের মাঝে এদিক থেকে স্বতন্ত্র ছিলেন যে, তার পিতা পূর্বে খলিফা ছিলেন না। তার পিতা ইসহাক ছিলেন অষ্টাদশ খলিফা মুকতাদির বিল্লাহর পুত্র। কাদির বিল্লাহ ৩৩৬ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮১ হিজরি সনে পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে তার চাচাতো ভাই তায়ে লিল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হন।
তায়ে লিল্লাহকে অপসারণ করার পর বুওয়াইহি সুলতান বাহাউদ্দৌলার নির্দেশনায় কাদির বিল্লাহকে খলিফা নির্বাচন করা হয়। পূর্ববর্তী খলিফা তায়ে লিল্লাহর আমলে তিনি পলাতক ছিলেন। খলিফা নির্বাচনের পর তাকে বাগদাদে নিয়ে আসা হয় এবং বাহাউদ্দৌলার পক্ষ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বুওয়াইহি পরিবারের কর্তৃত্বকালীন অন্যান্য খলিফার ন্যায় কাদির বিল্লাহরও কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। তবে তুলনামূলক দুর্বল সুলতানগণ (১১৭) কিছুটা হলেও খলিফাকে ক্ষমতা ও কথা বলার সুযোগ দান করতেন। খলিফা কাদির বিল্লাহও এ ধরনের কিছু সুবিধা লাভ করেন। তিনি সহনশীল ও মহানুভব ছিলেন, কল্যাণ ও কল্যাণকামীদের পছন্দ করতেন, নিজে কল্যাণের নির্দেশ দিতেন এবং অকল্যাণ হতে বাধা প্রদান করতেন। তিনি বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী ছিলেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর মাজহাবের সমর্থনে এবং বিদআতের খণ্ডনে তিনি একটি গ্রন্থও রচনা করেন। খলিফা কাদির বিল্লাহ ছিয়াশি বছর বয়সে ৪২২ হিজরি সনে (১০৩১ খ্রিষ্টাব্দে) ইন্তেকাল করেন।

টিকাঃ
১১৭. ৪০৩ হিজরি সনে আমিরুল উমারা বাহাউদ্দৌলা ইন্তেকাল করলে ইরাকের সুলতান পদ লাভ করেন তার পুত্র আবু শুজা সুলতানুদ্দৌলা। এরপর ৪১২ হিজরি সনে সুলতান হন বাহাউদ্দৌলার আরেক পুত্র আবু আলি মুশরিফুদ্দৌলা। ৪১৬ হিজরি সনে মুশরিফুদ্দৌলার ইন্তেকালের পর সুলতান হন বাহাউদ্দৌলার আরেক পুত্র আবু তাহির জালালুদ্দৌলা। জালালুদ্দৌলার আমলেই ৪২২ হিজরি সনে খলিফা কাদির বিল্লাহ ইন্তেকাল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00