📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তায়ে লিল্লাহ আবু বকর আবদুল কারিম

📄 তায়ে লিল্লাহ আবু বকর আবদুল কারিম


খলিফা তায়ে লিল্লাহ ৩২০ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৬৩ হিজরি সনে বিয়াল্লিশ বছর বয়সে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হন।
তার খিলাফত আমলে বাগদাদে শিয়া-সুন্নি সংঘাত বিরাট আকার ধারণ করে এবং ব্যাপক অস্থিরতা, গোলযোগ ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাগদাদের পশ্চিম প্রান্তে শিয়াঅধ্যুষিত কারখ এলাকায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সুলতান ইযযুদ্দিন বখতিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
খলিফা তায়ে লিল্লাহর আমলেই আমিরুল উমারা ইযযুদ্দৌলা ও তার চাচাতো ভাই আযদুদ্দৌলা বিন হাসানের মধ্যে বাগদাদের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ৩৬৬ হিজরি সনে আযদুদ্দৌলার বিজয়ের মধ্য দিয়ে এ সংঘাতের সমাপ্তি ঘটে। আযদুদ্দৌলা প্রথমে ইযযুদ্দৌলাকে পরাজিত করে বাগদাদের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন। এরপর তিনি মসুলেও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে হামদানিয়া রাষ্ট্রের পতন ঘটান। তারপর তিনি একে একে ইরাক, জাযিরা, আহওয়াজ, পারস্য, জিবাল, রায় ও জুরজানেও নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
আযদুদ্দৌলাকে বনু বুওয়াইহির সবচেয়ে চৌকস ও প্রজ্ঞাবান সুলতান বিবেচনা করা হয়। তিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সুশাসন, ব্যক্তিপ্রভাব ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, উদারতা ও বদান্যতা ইত্যাদি গুণের অধিকারী ছিলেন। আযদুদ্দৌলা সুপারিশের পরিবর্তে যোগ্যতার মাপকাঠিতে নিয়োগ-বিয়োগ করতেন। তিনি ৩৭২ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে (৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে) ইন্তেকাল করেন।
আযদুদ্দৌলার মৃত্যুর পর আমিরুল উমারার পদ গ্রহণ করেন তার পুত্র আবু কালিজার মারযুবান। তিনি 'ছামছামুদ্দৌলা' উপাধি গ্রহণ করেন। গুণ ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে তিনি ছিলেন তার পিতার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর অধিবাসী! তার আমলে ইরাকপরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
ছামছামুদ্দৌলার দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে আব্বাসি রাষ্ট্রের পরিধি পুনরায় সংকুচিত হতে থাকে এবং স্বাভাবিকভাবেই ছামছামুদ্দৌলার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে। ৩৭৬ হিজরি সনে তার ভাই আবুল ফাওয়ারিস শারফুদ্দৌলা তাকে পরাজিত করে বাগদাদের আমিরুল উমারা পদ লাভ করেন। এ ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই ছামছামুদ্দৌলা ইন্তেকাল করেন। তিন বছর পর ৩৭৯ হিজরি সনে শারফুদ্দৌলাও ইন্তেকাল করেন।
এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাদের আরেক ভাই আবু নাসর বাহাউদ্দৌলা। ৩৮১ হিজরি সনে (৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে) বাহাউদ্দৌলা খলিফা তায়ে লিল্লাহর সম্পদ কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে তাকে বন্দি ও বরখাস্ত করেন। বেশ কয়েক বছর পর ৩৯৩ হিজরি সনে (১০০৩ খ্রিষ্টাব্দে) খলিফা তায়ে লিল্লাহ তিয়াত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
তায়ে লিল্লাহর খিলাফত আমলেই ৩৬৬ হিজরি সনে (৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে) সুভুক্তগিনের হাতে বর্তমান আফগানিস্তানের গজনি (Ghazni) অঞ্চলে গজনবি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। গজনবি রাষ্ট্র ৫৮২ হিজরি সন (১১৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত টিকে ছিল। গজনবি রাষ্ট্র সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00