📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দালামি বুওয়াইহি পরিবার : যেভাবে খিলাফতের রাজধানী বাগদাদে

📄 দালামি বুওয়াইহি পরিবার : যেভাবে খিলাফতের রাজধানী বাগদাদে


দায়লাম (Daylam) কাস্পিয়ান সাগর-তীরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি অঞ্চল। প্রাচীনকালে অঞ্চলটি পারস্যের একটি প্রদেশ ছিল। কিন্তু দায়লামের অধিবাসীগণ বংশগত দিক থেকে পারসিক ছিল না, বরং তারা দায়লামি বা জিলানি নামক স্বতন্ত্র বংশপরিচয়ের অধিকারী ছিল।
দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর আমলে দায়লাম বিজিত হয় এবং ইসলামি শাসনের অধিভুক্ত হয়। অবশ্য তখনও দায়লামবাসী নিজেদের পৌত্তলিক ধর্মপরিচয়ে অটল ছিল। দায়লামের কাছেই ছিল তিবরিস্তান অঞ্চল। তিবরিস্তানের অধিকাংশ নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছিল। ধর্মপরিচয়ে ভিন্নতা সৃষ্টি হলেও এরপরও দায়লামি ও তিবরিত্তানবাসীর মধ্যে আবহমানকাল থেকে চলে আসা শান্তি ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক অটুট ছিল।
আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও পরিস্থিতি একই থাকে। দায়লামিরা ইসলামি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার চিন্তা করত না, মুসলমানরাও তাদের অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনা করত না।
অবশেষে ২৫০ হিজরি সনে দ্বাদশ আব্বাসি খলিফা মুসতাইন বিল্লাহ উক্ত অঞ্চল শাসন করার জন্য তার আস্থাভাজন প্রশাসক (পরবর্তীকালে যিনি মুসতাইন বিল্লাহকে পদচ্যুত করে আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন!) মুহাম্মাদ বিন তাহিরকে প্রেরণ করেন। কিন্তু তিবরিত্তানবাসী তাকে বাধা প্রদান করে এবং তাকে শাসক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা (যায়দিয়া রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা) হাসান বিন যায়দকে নিজেদের শাসক হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। পাশাপাশি তারা মুসতাইনের প্রেরিত গভর্নরের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দায়লামবাসীর সহায়তা প্রার্থনা করলে দায়লামবাসী তাদেরকে সহায়তা করে।
হাসান বিন যায়দ প্রথমে তিবরিস্তানের নগরীসমূহ, এরপর রায়, জুরজান প্রমুখ অঞ্চল শাসন করেন। ২৭১ হিজরি সনে তার মৃত্যু হলে তার ভাই মুহাম্মাদ বিন যায়দ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবশ্য তার শাসনামল ছিল গোলযোগ ও অস্থিরতায় পূর্ণ। ২৮৭ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন। হাসান ও তার ভাই মুহাম্মাদের কর্মপ্রচেষ্টা দায়লামবাসীর মাঝে ইসলাম প্রচারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
৩০১ হিজরি সনে দায়লামে প্রবেশ করেন আতরুশ উপাধিধারী হাসান বিন আলি। তিনি সেখানে তেরো বছর অবস্থান করে ইসলাম প্রচার করেন। তার দাওয়াতে প্রচুর মানুষ মুসলমান হয় এবং তার পক্ষে সমবেত হয়। তিনি সেখানে বিভিন্ন মসজিদও নির্মাণ করেন। তবে তাদের ইসলাম ছিল শিয়া-মতাদর্শদোষে দুষ্ট। কিছুদিন পর হাসান বিন আলি আতরুশ দায়লামবাসীর সহায়তায় তিবরিস্তানেও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং সামানিদের কাছ থেকে জুরজানের কর্তৃত্বও কেড়ে নেন। আতরুশ ৩০৪ হিজরি সনে (৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে) ইন্তেকাল করেন।
এরপর সময়ের বিবর্তনে পরিস্থিতিরও পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ৩২৩ হিজরি সনে এসে এ অঞ্চলে দুটি পরিবার বৃহৎ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১. পারস্য ও রায় অঞ্চলে আলি বিন বুওয়াইহির পরিবার। ২. খোরাসান ও মাওয়ারাউন নাহার (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলে সামানি পরিবার।
বুওয়াইহি পরিবারের প্রধান পুরুষ বুওয়াইহি-এর আলি, হাসান ও আহমাদ নামক তিন পুত্র ছিল। বাগদাদে যেহেতু তখন আব্বাসি খিলাফতের প্রতাপ-প্রতিপত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তাই আলি বিন বুওয়াইহির মনে তার ছোট ভাই আহমাদকে প্রেরণ করে আহওয়াজ ও ইরাকেও নিজেদের কর্তৃত্ব বিস্তারের চিন্তা উদিত হয়।
খলিফা মুত্তাকি লিল্লাহর শাসনামলে যখন ইরাকের আমিরুল উমারা পদে বাজকাম রাইকি অধিষ্ঠিত ছিল, তখন আহমাদ বিন বুওয়াইহি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আহওয়াজে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। পরাজিত বাজকাম পালিয়ে ওয়াসিত অঞ্চলে চলে যায়।
এরপর বাগদাদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ আহমাদ বিন বুওয়াইহির কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে বাগদাদে এসে ইরাকের কর্তৃত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানালে তিনি ৩৩৪ হিজরি সনের ১১ জুমাদাল উলা (৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর) বাগদাদে পৌঁছান। তৎকালীন আব্বাসি খলিফা মুসতাকফি বিল্লাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। আহমাদ তার হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন এবং উভয়ে মৈত্রীচুক্তিতে আবদ্ধ হন। চুক্তি হয় মুসতাকফি হবেন খলিফা আর আহমাদ হবেন ইরাকের 'সুলতান'। খলিফা সেদিনই বুওয়াইহি পরিবারের সদস্যদেরকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেন। পারস্যের অধিপতি আলি বিন বুওয়াইহিকে প্রদান করা হয় 'ইমাদুদ্দৌলা' উপাধি, রায় ও জাবালের অধিপতি হাসান বিন বুওয়াইহিকে প্রদান করা হয় 'রুকনুদ্দৌলা' উপাধি আর ইরাকের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আহমাদ বিন বুওয়াইহিকে প্রদান করা হয় 'মুইযযুদ্দৌলা' উপাধি। খলিফা তাদের উপাধি ও উপনাম সরকারি মুদ্রায় খোদাই করারও নির্দেশ দেন।
এখান থেকেই শুরু হয় আব্বাসি খিলাফতের নতুন এক অধ্যায়। খলিফা পদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হতে এক ধাক্কায় পরিণত করা হয় নিছক ধর্মীয় সম্মানজনক পদে। খলিফার না আছে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা, না আছে উজির-অনুচর। খলিফার সঙ্গে কেবল একজন সচিব থাকতেন, যার কাজ ছিল খলিফার জায়গির এলাকার দেখাশোনা করা এবং সেখানকার উৎপাদিত ফল-ফসলের খোঁজখবর রাখা।
নির্বাহী ক্ষমতা চলে যায় সুলতান মুইযযুদ্দৌলার হাতে। তিনিই নিজের পছন্দমতো অধীনস্থ উজির নিয়োগদান করতেন। যেহেতু মুইযযুদ্দৌলা এমন এক সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন, যাদের মাঝে শিয়া যায়দিয়া মতাদর্শের বিস্তার ঘটেছিল, তাই তিনি বনু আব্বাসের কাছ থেকে খলিফা নামটিও কেড়ে নেওয়ার মনস্থ করেন এবং কোনো আলাবি ব্যক্তিকে এ পদ প্রদানের ইচ্ছা করেন। কারণ, শিয়াদের আকিদা ও বিশ্বাস হলো—বনু আব্বাস খিলাফতের প্রকৃত হকদার আলি-পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক খিলাফত কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু মুইযযুদ্দৌলার জনৈক অনুচর তাকে এরূপ না করার পরামর্শ দিয়ে বলে, ‘আজ আপনি এমন একজন খলিফার সঙ্গে আছেন, যার সম্পর্কে আপনি ও আপনার সঙ্গীগণ মনে করছে যে, তিনি খিলাফতের উপযুক্ত নন। কিন্তু আপনি যখন তাকে হত্যা করে কোনো আলাবি ব্যক্তিকে এ পদে বসাবেন, তখন তো আপনার সঙ্গীগণ তার খিলাফত বৈধ মনে করবে। তখন যদি নতুন খলিফা তাদের আপনাকে হত্যা করারও নির্দেশ প্রদান করে, তারা নির্দ্বিধায় তা পালন করবে।’ নিষ্ঠাবান অনুচরের পরামর্শে মুইযযুদ্দৌলা আপন ইচ্ছা পরিহার করেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বাগদাদে কর্তৃত্বকারী বুওয়াইহি পরিবারের বংশলতিকা

📄 বাগদাদে কর্তৃত্বকারী বুওয়াইহি পরিবারের বংশলতিকা


আবু শুজা বুওয়াইহ
আহমাদ মুইযযুদ্দৌলা (ইরাক, ৩৩৪-৩৫৬ হি.)
হাসান রুকনুদ্দৌলা (জাবাল ও রায়)
আলি ইমাদুদ্দৌলা (পারস্য ও আহওয়ায)
বখতিয়ার ইযযুদ্দৌলা (৩৫৬-৩৬৬ হি. পদচ্যুত)
ফানা খসরু আযদুদ্দৌলা (৩৬৬-৩৭২ হি.)
আবু কালিজার মারযুবান ছামছামুদ্দৌলা (৩৭২-৩৭৬ হি. পদচ্যুত)
আবু নাসর ফিরোয বাহাউদ্দৌলা (৩৭৯-৪০৩ হি.)
আবুল ফাওয়ারিস শারফুদ্দৌলা (৩৭৬-৩৭৯ হি.)
আবু তাহির জালালুদ্দৌলা (৪১৬-৪৩৬ হি.)
আবু শুজা সুলতানুদ্দৌলা (৪০৩-৪১২ হি.)
আবু আলি মুশরিফুদ্দৌলা (৪১২-৪১৬ হি.)
[ভ্রাতুষ্পুত্র আবু কালিজারের সঙ্গে অব্যাহত সংঘাতের কারণে তার শাসনামল নির্ঝঞ্ঝাট ছিল না।]
আবু কালিজার মারযুবান মুহিউদ্দিন (৪৩৬-৪৪০ হি.)
আবু নাসর খসরু আল-মালিকুর রাহিম (৪৪০-৪৪৭ হি.)
এরপর বাগদাদের কর্তৃত্ব চলে যায় সেলজুক রাজপরিবারের কাছে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের পরিস্থিতি

📄 তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের পরিস্থিতি


ইতিহাসের এই স্তরে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগে এসে আমরা যদি ইসলামি বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তাহলে দেখতে পাব—
• আন্দালুসে আমিরুল মুমিনিন আবদুর রহমান আন-নাসির শাসন করছিলেন।
• আফ্রিকায় ছিল উবায়দিদের শাসন।
• মরক্কোয় ছিল ইদরিসি শাসন। দ্বিতীয় ইদরিসি শাসক ইসমাইল আল-মানসুর তখন সেখানকার শাসনকর্তা ছিলেন এবং তিনিও ‘আমিরুল মুমিনিন’ উপাধি ধারণ করেছিলেন।
• মিশর ও শামে ছিল ইখশিদিদের শাসন। অবশ্য তারা জুমার খুতবায় খলিফা হিসেবে আব্বাসি খলিফার নামই পাঠ করত।
• আলেপ্পো (১১১) ও সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে ছিল সাইফুদ্দৌলা আলি বিন আবদুল্লাহ বিন হামদান শায়বানির শাসন। এ অঞ্চলেও মুসলিম সাম্রাজ্যের খলিফা হিসেবে আব্বাসি খলিফার নামই জুমার খুতবায় উচ্চারিত হতো।
• ফুরাত অববাহিকার জাযিরা অঞ্চল বা মেসোপটেমিয়া উচ্চভূমিতে (Upper Mesopotamia) ছিল নাসিরুদ্দৌলা হাসান বিন আলি বিন আবদুল্লাহ বিন হামদানের কর্তৃত্ব। তিনিও খুতবায় আব্বাসি খলিফার নাম পাঠ করতেন।
• ইরাকে ছিল দায়লামিদের ক্ষমতা। মুইযযুদ্দৌলা আহমাদ বিন বুওয়াইহি ছিলেন তৎকালীন ইরাকের সুলতান। বাগদাদের মিম্বরসমূহে এ সময় আব্বাসি খলিফার নাম নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে বুওয়াইহি সুলতান মুইযযুদ্দৌলার নাম নেওয়া হতে থাকে।
• আম্মান, ইয়ামেন, বাহরাইন ও বসরার বাদিয়া অঞ্চলে ছিল কারামাতিয়াদের শাসন। এসব এলাকায় উবায়দি শাসক মাহদির নামে খুতবা পাঠ করা হতো।
• পারস্য ও আহওয়াজে ছিল ইমাদুদ্দৌলা উপাধিধারী আলি বিন বুওয়াইহির শাসন। তিনি আব্বাসি খলিফার নামেই খুতবা পাঠ করতেন। তাকে আমিরুল উমারা উপাধিও প্রদান করা হয়েছিল। কারণ, তিনিই ছিলেন বুওয়াইহি পরিবারের জ্যেষ্ঠতম সদস্য।
• জাবাল ও রায় অঞ্চলে ছিল রুকনুদ্দৌলা উপাধিধারী হাসান বিন বুওয়াইহির কর্তৃত্ব। তিনিও আব্বাসি খলিফার নামে খুতবা পাঠ করতেন। জুরজান ও তিবরিস্তানের কর্তৃত্ব নিয়ে এ সময় রুকনুদ্দৌলার সঙ্গে সামানি পরিবারের সংঘাত চলছিল।
• খোরাসান ও মাওয়ারাউন নাহারে ছিল সামানি পরিবারের ক্ষমতা। সামানি শাসকের রাজধানী ছিল বুখারা নগরী। সামানিরাও আব্বাসি খলিফার নামে খুতবা পাঠ করত।
একসময় এই সবগুলো বৃহৎ নগরী ও অঞ্চল ছিল এক খিলাফতের অধীনস্থ এবং সুবিশাল ইসলামি খিলাফতের অঙ্গ। কালের পরিক্রমায় ইতিহাসের এই পর্যায়ে এসে আজ সেই সুবিশাল ইসলামি সাম্রাজ্য বিস্ময়করভাবে বহুধা বিভক্ত এবং বিভিন্ন রাজপরিবারের করতলগত!
এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, এ সময় নির্ভেজাল আরব বংশীয়দের হাতে কোনো এলাকার শাসনক্ষমতা ছিল না। এ ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল বনু হামদানের নাসিরুদ্দৌলা ও তার ভাই সাইফুদ্দৌলা। তৎকালীন শাসকদের মধ্যে কেবল এ দুজনই ছিলেন আরবি রক্তের ধারক। তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, তারা যে অঞ্চলের শাসক ছিলেন, সেসব এলাকায় প্রকৃত ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ছিল তুর্কি সেনাপতিদের হাতে। তাদের দুজনের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছিল না। বরং তারা বুওয়াইহি পরিবারের নির্দেশনা মেনে চলতেন এবং খুতবায় আব্বাসি খলিফার নামের পর মুইযযুদ্দৌলার নামও পাঠ করতেন।
আবারও ইতিহাসের ধারাবর্ণনায় ফিরে আসি। মুইযযুদ্দৌলাকে সর্বময় ক্ষমতা প্রদান করার পর মুসতাকফি বিল্লাহ অল্প কদিনই খলিফা পদে থাকতে পেরেছিলেন। চল্লিশ দিন না যেতেই মুইযযুদ্দৌলা তাকে অনধিকার চর্চার অভিযোগে অভিযুক্ত করে খলিফা পদ হতে অপসারণ করেন। এটি ৩৩৪ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসের ঘটনা। অর্থাৎ তার খিলাফতকাল মাত্র এক বছর চার মাস স্থায়ী হয়েছিল। অপসারণের পর তার চোখ উপড়ে ফেলা হয় (১১২) এবং তাকে গৃহবন্দি করা হয়। এর চার বছর পর ৩৩৮ হিজরি সনে ছেচল্লিশ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

টিকাঃ
১১১. আলেপ্পো: অতি প্রাচীন একটি নগরী। নগরীটির আরবি নাম حلب (হালাব), ইংরেজি নাম Aleppo (আলেপ্পো)। আধুনিক সিরিয়ার অন্তর্গত আলেপ্পো নগরী দেশটির রাজধানী দামেশক হতে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দূরে দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত।
১১২. মুসতাকফি হলেন তৃতীয় আব্বাসি খলিফা, যার চোখ উপড়ে ফেলা হয়। তার পূর্বে কাহির বিল্লাহ ও মুত্তাকি লিল্লাহর চোখও উপড়ে ফেলা হয়েছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00