📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 আল-মুত্তাকি লিল্লাহ আবু ইসহাক ইবরাহিম

📄 আল-মুত্তাকি লিল্লাহ আবু ইসহাক ইবরাহিম


খলিফা মুত্তাকি লিল্লাহর জন্ম ২৯৫ হিজরি সনে বাগদাদে। তিনি চৌত্রিশ বছর বয়সে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন। রাযি বিল্লাহর ইন্তেকালের পর সেনাপতি ও উজিরগণ মিলে তার ভাই মুত্তাকি লিল্লাহ ইবরাহিমকে খলিফা নির্ধারণ করে।
ভাইয়ের মতো তারও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে কোনো ভূমিকা ছিল না। তার আমলেও আমিরুল উমারা পদ প্রাপ্তি নিয়ে প্রচণ্ড সংঘাত চলতে থাকে। কিন্তু কেউই দীর্ঘদিন এ পদ ধরে রাখতে পারেনি। যাদের মধ্যে আমিরুল উমারা পদ নিয়ে সংঘাত চলছিল, তারা হলো-ইবনে রায়িক, বাজকাম, আল-বারিদি, নাসিরুদ্দৌলা ইবনে হামদান, তুরুন প্রমুখ। খলিফা ছিলেন এই দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও হানাহানির নীরব দর্শক। তুরুন আমিরুল উমারা থাকা অবস্থায় ৩৩৩ হিজরি সনে খলিফা মুত্তাকি লিল্লাহকে অপসারণ করে, তার চোখ উপড়ে ফেলে এবং এ অবস্থাতেই তাকে বাগদাদে নিয়ে আসে। (১০৯) তুরুন খলিফাকে তার চাচাতো ভাই মুসতাকফির হাতে বায়আত গ্রহণ করতে বাধ্য করে এবং এরপর তাকে এক দ্বীপে নির্বাসিত করে। বন্দি অবস্থায় পঁচিশ বছর কাটানোর পর ৩৫৭ হিজরি সনে বাষট্টি বছর বয়সে মুত্তাকি লিল্লাহ ইন্তেকাল করেন।
মুত্তাকির শাসনামলে রোমানরা মুসলিম ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে নুসাইবিন (Nusaybin) পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল এবং অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা করেছিল।

টিকাঃ
১০৯. এর বছরখানেক পূর্বে খলিফা মুত্তাকি লিল্লাহ আমিরুল উমারা তুরুনের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে বাগদাদ ছেড়ে মসুলে চলে গিয়েছিলেন। ৩৩৩ হিজরি সনে তিনি বাগদাদে ফিরে আসার মনস্থ করলে পথিমধ্যে তুরুন খলিফাকে বন্দি করে চোখ উপড়ে ফেলে এবং তাকে আমৃত্যু বন্দি করে রাখে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px