📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 রাযি বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ

📄 রাযি বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ


খলিফা রাযি বিল্লাহর জন্ম ২৯৭ হিজরি সনে বাগদাদে। দায়িত্বগ্রহণের সময় তার বয়স ছিল পঁচিশ বছর। কাহির বিল্লাহকে অপসারণ করার পর আব্বাসি রাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মিলে কাহির বিল্লাহর ভ্রাতুষ্পুত্র রাযি বিল্লাহকে খলিফা মনোনীত করে।
পূর্বের নিয়ম মেনেই তার শাসনামলের প্রথমদিকে রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা তাদের হাতেই থাকে, যারা তার চাচাকে অপসারণ করে তাকে খলিফা হতে সহায়তা করেছিল। উজির ইবনে মাকাল্লা ও হাজিব মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুতই ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। খলিফা ইবনে ইয়াকুতের ওপর রুষ্ট হলে তাকে বন্দি করা হয় এবং বন্দি অবস্থায়ই সে মৃত্যুবরণ করে। কিছুদিন পর খলিফা ইবনে মাকাল্লাকেও বন্দি করেন।
এরপর পরিস্থিতি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে খliফা রাযি বিল্লাহ বাধ্য হয়ে ওয়াসিত ও বসরার গভর্নর মুহাম্মাদ বিন রায়িককে বার্তা পাঠিয়ে তাকে বাগদাদের গভর্নর পদ গ্রহণের অনুরোধ করেন। খলিফা তাকে 'আমিরুল উমারা' উপাধি প্রদান করে সরকারি সকল দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে তুলে দেন। এ সময় থেকেই দপ্তর-কেন্দ্রিক উজিরের প্রথা বাতিল হয়ে যায়। প্রধান উজিরের পদ নামমাত্র থেকে যায় আর প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় আমিরুল উমারা ইবনে রায়িকের হাতে।
এরপর থেকে ইবনে রায়িক ও তার সচিবই রাষ্ট্রের যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। বাইতুল মাল ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রের সকল আয় আমিরুল উমারার কোষাগারে জমা হতে থাকে। আমিরুল উমারা ইবনে রায়িক নিজের ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যয় করতেন। যতটুকু ইচ্ছা করতেন, ততটুকুই তিনি খলিফাকে প্রদান করতেন। পরবর্তী সময়ে যারাই আমিরুল উমারা পদ গ্রহণ করেছিল, সকলে ইবনে রায়িকের পদাঙ্কই অনুসরণ করে।
অবশ্য ইবনে রায়িক বেশিদিন এ পদ ধরে রাখতে পারেননি। কিছুদিন পরই শুরু হয় আমিরুল উমারা পদ লাভের প্রচেষ্টা ও সংঘাত। সকলের যেন একটাই চাওয়া— বাগদাদের আমিরুল উমারা পদ। ওদিকে শত্রুরা দিন দিন একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে খিলাফতভূমি; ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে আসছে খিলাফতের ক্ষেত্র ও পরিধি। আব্বাসি খিলাফত হারিয়ে ফেলছে তার অবশিষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তিটুকুও।
রাযি বিল্লাহর শাসনামলেই মিশরে মুহাম্মাদ বিন তুগজ ইখশিদির নেতৃত্বে ইখশিদিয়া রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটে। মুহাম্মাদ বিন তুগজ ছিলেন তুলুন বংশের মামলুক বা মুক্ত ক্রীতদাস। ৩২৪ হিজরি হতে ৩৫৮ হিজরি (৯৩৫-৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত মিশর ইখশিদিয়া রাষ্ট্রের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে উবায়দিরা এই ইখশিদি রাজপরিবারের কাছ থেকেই মিশরের কর্তৃত্ব দখল করে।
খলিফা রাযি বিল্লাহর আমলেই আব্বাসি খিলাফতের বেশকিছু বিষয়ের সমাপ্তি ঘটে। রাযিই শেষ খলিফা, যার জন্য কবিতা রচনা করা হয়। তিনিই শেষ খলিফা, যিনি এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। তিনিই শেষ খলিফা, যিনি নিজে জুমার খুতবা প্রদান করতেন। তিনিই শেষ খলিফা, যিনি সহচরদের নিয়ে দরবারে বসতেন এবং মজলিসে আলিমদের আহ্বান করতেন। পূর্ববর্তী খলিফাদের রীতি অনুযায়ী তারও পদমর্যাদা, দান-অনুদান, সেবক-হাজিব ইত্যাদি ছিল। তার শাসনামলেই বাগদাদে 'আমিরুল উমারা' পদের সূচনা হয় এবং রাষ্ট্রের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আমিরুল উমারা পদধারী ব্যক্তির হাতে চলে যায়। খলিফা ছিলেন আমিরুল উমারার হাতের পুতুল, তার নির্দেশেই তিনি আদেশ জারি করতেন। খলিফা পদের নামমাত্র যে কর্তৃত্বটুকু ছিল, রাযি বিল্লাহর আমলে তা-ও শেষ হয়ে যায়।
খলিফা রাযি বিল্লাহ ৩২৯ হিজরি সনে বত্রিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00