📄 আল-মুতাজিদ বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ
দ্বাদশ আব্বাসি খলিফা মুসতাইন বিল্লাহর ন্যায় মুতাযিদ বিল্লাহও আব্বাসি খলিফাগণের মধ্যে এদিক থেকে স্বতন্ত্র ছিলেন যে, তার পিতা পূর্বে খলিফা ছিলেন না। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার পিতা মুওয়াফফাক বিল্লাহ আবু আহমাদ তালহা ছিলেন পঞ্চদশ আব্বাসি খলিফা মুতামিদের শাসনামলে সেনাবাহিনী ও গভর্নরদের পরিচালক; বরং বলা ভালো- খলিফা না হয়েও রাষ্ট্রের মূল নিয়ন্ত্রক!
মুতাযিদ বিল্লাহ ২৪২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার বয়স ছিল সাঁইত্রিশ বছর। মুতাযিদ ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আব্বাসি খলিফা। বিচক্ষণ, উদার ও দুঃসাহসী এই খলিফা যুদ্ধাভিযানে নিজেই নেতৃত্ব দিতেন। তিনি অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণ তাকে শ্রদ্ধা করত। তার শাসনামল ছিল নিরাপত্তা ও শান্তিতে পূর্ণ। তিনি জনগণের ওপর আরোপিত কর মওকুফ করেন এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন।
মূলত মুতাওয়াক্কিলের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আব্বাসি সাম্রাজ্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শিকার ছিল। অবশেষে খলিফা মুতাযিদ বিল্লাহ ভগ্নপ্রায় ও পতনোন্মুখ আব্বাসি খিলাফতের গৌরব নতুন করে উজ্জীবিত করেন। এ কারণে তাকে দ্বিতীয় সাফফাহ (অর্থাৎ আব্বাসি সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা) নামকরণ করা হয়।
মুতাযিদ বিল্লাহ লিপিকার ও বই বিক্রেতাদের আব্বাসি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দর্শন ও তৎসংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের গ্রন্থ বিক্রি করতে নিষেধ করে দেন, গল্পকার ও গণকদের রাস্তায় বসা নিষিদ্ধ করেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থব্যয়ে বিরত থাকতেন। এ কারণে ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ তাকে ‘কৃপণ’ আখ্যায়িত করেছেন।
মুতাযিদ বিল্লাহর শাসনামলে রোমান সীমান্ত অঞ্চলে মুসলিম বাহিনীর অভিযানের ধারা বৃদ্ধি পায়। এসব অভিযান কখনো পরিচালিত হতো শাম সীমান্তের বিশেষ করে তারসুস অঞ্চল দিয়ে, যার অধিকাংশ এলাকা ছিল তুলুনিদের দখলে; আবার কখনো পরিচালিত হতো জাযিরার সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে। এ ছাড়াও একই সময় ট্রান্সঅক্সিয়ানা-পরবর্তী তুর্কি অঞ্চলেও ইসলামি অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। ইসমাইল বিন আহমাদ বিন আসাদ সামানির নেতৃত্বে ২৮০ হিজরি সনে সামানিরা তুর্কি অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে এবং তুর্কি শাসক ও তার স্ত্রীকে বন্দি করে। ২৮৩ হিজরি সনে রোমান ও মুসলমানদের মধ্যে বন্দি-বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় মুক্তি পাওয়া মুসলিম বন্দির সংখ্যা ছিল দু-হাজার পাঁচশ চারজন।
মুতাযিদ বিল্লাহ ২৮৯ হিজরি সনের ২২ রবিউস সানি (৯০২ খ্রিষ্টাব্দের ৫ এপ্রিল) সোমবার সাতচল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মুত্যুর পূর্বেই তিনি পরবর্তী খলিফা হিসেবে নিজ পুত্র মুকতাফিকে মনোনীত করে যান।