📄 মুতাসিমের আমলে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর ঈমানি পরীক্ষা
প্রয়াত খলিফা মামুনের অসিয়ত মোতাবেক খলিফা মুতাসিম জনগণকে ‘কুরআন সৃষ্ট’-মতবাদ মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে বিখ্যাত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ.-এর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ইমাম-পুত্র আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আপন পিতার সূত্রে এর বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, আমাকে যখন কয়েদখানা থেকে বের করে মুতাসিমের কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো, তখন শিকল-বেড়ির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। শিকলের ভারে আমি হাঁটতে পারছিলাম না। তাই আমি শিকলগুলোকে পাজামার সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে হাতে ধরে চলতে লাগলাম। এরপর প্রহরীরা আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাহন নিয়ে এলে আমি তাতে আরোহণ করলাম। শিকলের ভারে ভারসাম্য রাখতে না পেরে আমি প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ সেখানে ছিল না। আল্লাহই আমাকে রক্ষা করলেন।
এরপর আমরা মুতাসিমের প্রাসাদে উপস্থিত হলাম। সেখানে পৌঁছার পর আমাকে একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হলো। আমার কাছে আলো জ্বালানোর মতো কিছু ছিল না। আমি অজু করার মনস্থ করলাম। পানির জন্য হাত বাড়াতেই আমি পানির একটি পাত্র পেয়ে গেলাম। এরপর তা দিয়ে অজু করে নামাজ আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হলাম। আমার কিবলা জানা ছিল না। ভোরের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার পর বুঝতে পারলাম যে, আমি সঠিক দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করেছি। আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা।
সকালে আমাকে মুতাসিমের দরবারে তলব করা হলো। দরবারে উপস্থিত হয়ে উজির ইবনে আবু দাউদকে খলিফার পাশেই উপবিষ্ট দেখতে পেলাম। আমাকে দেখে খলিফা সভাসদদের বললেন, 'তোমরা কি মনে করেছিলে যে, তিনি তরুণ? তিনি তো বয়োবৃদ্ধ।' আমি খলিফার কাছে পৌঁছে তাকে সালাম করলাম। তিনি আমাকে বললেন, 'আরও কাছে আসুন।' এভাবে কয়েকবার বলে তিনি আমাকে তার একেবারে কাছে নিয়ে গেলেন। এরপর আমাকে বসার নির্দেশ দেওয়া হলে আমি বসলাম। ভারী শিকলগুলো আমার শরীরেই ছিল। কিছুক্ষণ নীরবেই কেটে গেল। এরপর আমি বললাম, 'আমিরুল মুমিনিন! আপনার চাচাতো ভাই (১০৩) আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে কীসের প্রতি আহ্বান করেছিলেন?' খলিফা উত্তর দিলেন, 'আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই—এ কথার সাক্ষ্যের দিকে।' আমি বললাম, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।' এরপর উজির ইবনে আবু দাউদ কিছু কথা বলল, আমি তা কিছুই বুঝিনি। কারণ, আমি তার বক্তেব্যের বিষয় সম্বন্ধে অবগত ছিলাম না।
কিছুক্ষণ পর মুতাসিম আমাকে বললেন, 'আপনি যদি আমার পূর্ববর্তী খলিফা কর্তৃক বন্দি না হতেন, তাহলে আমি আপনার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতাম না।' এরপর তিনি দরবারে উপস্থিত জনৈক সভাসদকে বললেন, 'আবদুর রহমান! আমি কি তোমাকে এই দুর্যোগ দমনের নির্দেশ দিইনি?' আমি বললাম, 'আল্লাহু আকবার! (আপনি একে দুর্যোগ বলছেন?!) এ তো মুসলমানদের নিষ্কৃতির পথ।' এরপর খলিফা তাকে বললেন, 'আবদুর রহমান! তার সঙ্গে কথা বলো। তার সামনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করো।' আবদুর রহমান আমাকে প্রশ্ন করল, 'আপনি কুরআন সম্পর্কে কী বিশ্বাস পোষণ করেন?' আমি উত্তর না দিয়ে নিশ্চুপ রইলাম। মুতাসিম আমাকে বললেন, 'উত্তর দিন।' আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম, 'আপনি ইলম সম্পর্কে কী বিশ্বাস পোষণ করেন?' তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। এবার আমি বললাম, 'কুরআন আল্লাহর ইলমের অন্তর্ভুক্ত আর যে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর ইলম মাখলুক ও সৃষ্ট, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকেই অস্বীকার করে।' আমার কথা শুনে খলিফা চুপ করে রইলেন।
উপস্থিত সভাসদরা খলিফাকে বলতে লাগল, 'আমিরুল মুমিনিন! এই লোক তো আপনাকে ও আমাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করেছে।' খলিফা তাদের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করলেন না।
এরপর আবদুর রহমান তার নতুন যুক্তি উপস্থাপন করে বলল, 'আল্লাহ ছিলেন; কিন্তু কুরআন ছিল না।' আমি বললাম, 'আল্লাহ ছিলেন; কিন্তু ইলম ছিল না?' আমার উত্তর শুনে তিনি আবারও চুপসে গেলেন।
এরপর তারা পরস্পর বিক্ষিপ্ত কথাবার্তা বলতে লাগল। আমি বললাম, 'আমিরুল মুমিনিন! আমাকে কুরআন-হাদিস হতে খালকুল কুরআনের স্বপক্ষে কোনো দলিল দিন। তাহলে আমি তা মেনে নেব।' আমার কথা শুনে উজির ইবনে আবু দাউদ বলে উঠল, 'আপনি তো কুরআন-সুন্নাহ ছাড়া অন্য কোনো কথাই মানতে চাচ্ছেন না!' আমি বললাম, 'ইসলাম কি কুরআন-সুন্নাহ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে?!' এরপর দীর্ঘ তর্কবিতর্ক চলল।
একপর্যায়ে ইবনে আবু দাউদ বলল, 'আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহর শপথ, এই লোক নিজে তো ভ্রান্ত, এখন অন্যদেরকেও বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করছে এবং এক বিদআতের সূচনা করেছে। আপনার দরবারে অনেক বিচারক ও ফকিহ-আলিম উপস্থিত আছেন। তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন।' খলিফা তাদেরকে বললেন, 'এ বিষয়ে তোমাদের কী অভিমত?' উপস্থিত সকলে ইবনে আবু দাউদের পক্ষেই কথা বলল।
এভাবে পরপর তিন দিন আমাকে খলিফার দরবারে উপস্থিত করা হলো এবং প্রতিদিন তারা আমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হলো। প্রতিটি বিতর্কে আমার উপস্থাপিত দলিল-প্রমাণে তারা নির্বাক ও পরাভূত হলো।
সবাই চুপ হয়ে গেলে ইবনে আবু দাউদ কথা বলতে শুরু করল। ইলম ও ইলমুল কালামে লোকটি ছিল উপস্থিত লোকদের মধ্যে সবচেয়ে অজ্ঞ। বিতর্কে বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা হলো। কিন্তু তাদের কাছে কুরআন-সুন্নাহ থেকে উল্লেখ করার মতো কোনো দলিল ছিল না। তাই তারা কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতিসমূহ অস্বীকার করতে লাগল এবং এ জাতীয় দলিলসমূহকে প্রত্যাখ্যান করল। আমি তাদের মুখে এমন সব বক্তব্যও শুনতে পেলাম, ভাবতেও পারিনি যে, কেউ এ ধরনের কথা বলতে পারে। ইবনে গাউস আমাকে দেহ-সাব্যস্তকরণসহ নানা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা শোনাল। আমি তাকে বললাম, 'আপনি কী বলতে চাচ্ছেন, আমি বুঝতে পারছি না। আমি কেবল এতটুকু জানি যে, আল্লাহ তাআলা একক ও অমুখাপেক্ষী; তার কোনো সদৃশ নেই।' এরপর সে-ও চুপ হয়ে গেল।
আমি তাদেরকে পরকালে আল্লাহর দিদার সংক্রান্ত হাদিসটি শোনালাম। তারা হাদিসটির সনদকে দুর্বল সাব্যস্ত করার এবং কতক মুহাদ্দিসের উক্তির মাধ্যমে রেওয়ায়েতটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করল। কিন্তু অসম্ভব! এত দূরবর্তী স্থান থেকে তারা এর নাগাল কীভাবে পাবে?! বিতর্ক চলাকালে খলিফা বারবার আমার প্রতি কোমল আচরণ দেখাতে লাগলেন এবং আমাকে বললেন, 'আহমাদ! আপনি আমার এই আহ্বানে সাড়া দিন (অর্থাৎ কুরআন সৃষ্ট-মতবাদ মেনে নিন), আমি আপনাকে আমার বিশিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত করে নেব, আর প্রতিদিন আপনি খলিফার দরবার-গালিচার স্পর্শে ধন্য হবেন।' আমি খলিফাকে উত্তর দিলাম, 'আমিরুল মুমিনিন! তারা আমাকে কুরআনের কোনো আয়াত বা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস দ্বারা দলিল দিক, আমি তাদের আহ্বানে সাড়া দেবো।’ দলিল-প্রমাণে পরাভূত হয়ে এবার তারা খলিফাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করল। বাগদাদের নায়েব ইসহাক বিন ইবরাহিম বলল, ‘আমিরুল মুমিনিন! এটা খিলাফতের নীতি হতে পারে না যে, আপনি তাকে এভাবেই ছেড়ে দেবেন আর সে দু-দুজন খলিফাকে পরাভূত করে নিশ্চিন্তে চলে যাবে।’ খলিফা মুতাসিম স্বভাবগতভাবে কোমল ছিলেন। কিন্তু এ কথা শুনে খলিফার গায়রত ও আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠল এবং তিনি ক্রোধাগ্নিত হয়ে উঠলেন। তিনি মনে করলেন, নিশ্চয়ই তার সদ্সদ্গুণ সত্যের ওপর আছেন। এবার তিনি আমাকে বললেন, ‘আল্লাহ আপনাকে অভিসম্পাত করুন। আমি আশা করেছিলাম, আপনি আমার আহ্বানে সাড়া দেবেন; কিন্তু আপনি তা করলেন না।’
এরপর খলিফা সভাসদদের নির্দেশ দিলেন, ‘যাও, তাকে বিবস্ত্র করে মাটিতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাও।’ খলিফার নির্দেশে আমাকে বিবস্ত্র করা হলো এবং মাটিতে ছেঁচড়ানো হলো। এরপর নির্যাতনকারী ও প্রহারকারীদেরকে আহ্বান করা হলো। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম। আমার পরিচ্ছদে প্রিয় নবীজির কয়েকটি কেশ মোবারক বাঁধা ছিল। তারা তা আমার কাছ থেকে নিয়ে গেল। আমি নিজেকে প্রহারকারীদের মাঝে আবিষ্কার করলাম। আমি খলিফাকে বললাম, ‘আমিরুল মুমিনিন! আজ যেমন আমি আপনার সামনে দণ্ডায়মান, আপনাকেও তেমনই একদিন আল্লাহর দরবারে দাঁড়াতে হবে; সেদিনের কথা স্মরণ করুন।’ আমার মনে হলো, এ কথা শুনে খলিফা একটু থমকে গেলেন।
কিন্তু উপস্থিত সভাসদরা খলিফাকে উত্তেজিত করতে লাগল। তারা তাকে ক্রমাগত বলতে লাগল, ‘আমিরুল মুমিনিন! এই লোক পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্তকারী ও কাফির।’ তাদের কথায় উত্তেজিত হয়ে খলিফা আমাকে শাস্তিদানের নির্দেশ দিলেন। একটি চেয়ার এনে আমাকে তার ওপর দাঁড় করানো হলো। কেউ একজন আমাকে চাবুকের কোনো একটি কাঠ দ্বারা নির্দেশ দিল। আমি তার নির্দেশের মর্মার্থ বুঝতে পারলাম না। আমার দু-হাত দু-দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হলো। প্রহারকারীদের শাস্তি শুরু করার আদেশ করা হলো। তাদের হাতে চাবুক ছিল। প্রথমজন তার চাবুক দিয়ে আমাকে দুটি আঘাত করল। এরপর দ্বিতীয় প্রহারকারী এসেও দুটি আঘাত করল। এভাবে একের পর এক প্রহারকারী এসে আমাকে আঘাত করতে লাগল। মুতাসিম প্রহারকারীদেরকে বলছিলেন, 'আল্লাহ তোর হাত কেটে দিন; আরও জোরে মার।' প্রহারের মাঝে আমি কয়েকবার চেতনা হারিয়ে ফেললাম। মার থেমে গেলে আমার চেতনা ফিরে আসত। মুতাসিম পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করার আহ্বান জানাতে লাগলেন। কিন্তু আমি তার আহ্বানে সাড়া দিলাম না। উপস্থিত সভাসদরা বলছিল, 'ধিক তোমাকে! স্বয়ং খলিফা তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তারপরও তুমি...?!'
আমি কিছুতেই তাদের মতাদর্শ গ্রহণে রাজি হলাম না। তারা পুনরায় আমাকে প্রহার করা শুরু করল। প্রহার শেষে আবারও আহ্বান, আবারও প্রত্যাখ্যান। এরপর শুরু হলো তৃতীয়বারের প্রহার। খলিফা আবারও আমাকে তার মতাদর্শ মেনে নিতে আহ্বান করলেন। কিন্তু প্রচণ্ড প্রহারের কারণে আমি তখন তার কথা কিছুই বুঝছিলাম না। এরপর তারা আবার আমাকে মারতে লাগল। এ পর্যায়ে আমার বোধ ও অনুভূতিশক্তি লোপ পেল। তখন আমি আর প্রহারের কোনো আঘাতই অনুভব করছিলাম না। আমার অবস্থা দেখে খলিফা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেন।
এরপর খলিফার নির্দেশে আমাকে মুক্ত করে দেওয়া হলো। আমি শুধু এতটুকু অনুভব করতে পারলাম যে, আমি কোনো একটি কামরায় আছি এবং আমার পায়ের শৃঙ্খল খুলে দেওয়া হয়েছে। সেদিন ছিল ২২১ হিজরি সনের ২৫ রমজান (৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর)। এরপর খলিফার পক্ষ থেকে আমাকে আপন পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি প্রদান করা হলো।
সেদিন ইমাম আহমাদকে ত্রিশের অধিক মতান্তরে আশিটি দোররা মারা হয়েছিল। প্রতিটি চাবুকাঘাত ছিল অত্যন্ত বেদম ও তীব্র।
খলিফার দরবার হতে যখন ইমামকে বাগদাদের নায়েব ইসহাক বিন ইবরাহিমের গৃহে আনা হয়, তখন তিনি রোজাদার ছিলেন। এ সময় রোজা ভাঙার জন্য তার সামনে ছাতু পরিবেশন করা হলে তিনি রোজা ভাঙতে অস্বীকৃতি জানান এবং এ অবস্থায়ই রোজা পূর্ণ করেন। (১০৪)
বর্ণিত আছে, ইমাম আহমাদকে যখন প্রহার করার জন্য দাঁড় করানো হয়, তখন তার পায়জামার ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তিনি তখন সতর উন্মুক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, 'হে সাহায্যপ্রার্থীদের সহায়তাকারী, হে জগৎসমূহের প্রভু, আমি যদি তোমার সন্তুষ্টির জন্য ন্যায় ও সত্যের পথে অটল থেকে থাকি, তাহলে আমার সতর উন্মুক্ত করো না।' এরপর তার পায়জামা পূর্বের ন্যায় ঠিক হয়ে যায়।
ইমাম আহমাদ যখন আপন গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক এসে তার দেহ হতে নিষ্প্রাণ গোশত কেটে ফেলে এবং তার চিকিৎসা শুরু করে। ইমাম আহমদ রহ.-এর প্রতি কৃত আচরণের কারণে খলিফা মুতাসিম অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়েছিলেন। তাই খলিফার নির্দেশে নায়েব ইসহাক প্রতিদিন তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন। কিছুদিন পর ইমাম সাহেব সুস্থ হলে খলিফা মুতাসিম অত্যন্ত আনন্দিত হন। মুসলিম জনসাধারণও তাদের প্রাণপ্রিয় ইমামের সুস্থতায় আনন্দিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থতা দান করার পর তিনি তাকে কষ্টপ্রদানকারী বিদআতি ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
ইমাম আহমাদ রহ. বলতেন, 'তোমার কারণে তোমার মুসলমান ভাই আজাবের শিকার হলে তোমার কী লাভ হবে?!'
খলিফা মুতাসিম ২২৭ হিজরি সনের ১৭ রবিউল আউয়াল (৮৪২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি) আটচল্লিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং মৃত্যুর পূর্বেই তিনি নিজ পুত্র হারুনকে পরবর্তী খলিফা ঘোষণা করে যান।
টিকাঃ
১০৩. আব্বাসি রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন পুরুষ আব্বাস রা. নবীজির চাচা ছিলেন। সেদিকে সম্বন্ধ করে ইমাম আহমাদ রহ. খলিফাকে নবীজির চাচাতো ভাই সম্বোধন করেছেন।
১০৪. ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১০/৩৩৯-৩৪১।