📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ৪র্থ অভিযোগ : দাসীসংসর্গ উপভোগ ও প্রচুর দাসী গ্রহণ

📄 ৪র্থ অভিযোগ : দাসীসংসর্গ উপভোগ ও প্রচুর দাসী গ্রহণ


হ্যাঁ, এটি ঐতিহাসিক স্বীকৃত সত্য যে, খলিফা হারুনুর রশিদের কাছে প্রচুর দাসী ছিল।
'শুবুহাতুন ফিল আছরিল আব্বাসিল আউয়াল' গ্রন্থের লেখক ড. মুআইয়য়াদ ফাযিল লিখেছেন—
ক্রীতদাসী সংক্রান্ত আলোচনাটি হলো আমাদের এবং তাদের চিন্তা-ধারণার মধ্যে ভিন্নতার আরেকটি দৃষ্টান্ত। (৮৭) খলিফাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা হয়েছে যে, তারা দাসীদের মধ্য হতে বাছাই করে নিজেদের জন্য প্রণয়িনী ও রক্ষিতা গ্রহণ করতেন এবং তাদের সৌন্দর্য ও গুণকীর্তন করে গীতি-গদ্যের আসর জমাতেন। মূলত সংগীত ও দাসী সম্পর্কে আমাদের ধারণা ও কল্পনায় যে ভাব ও মর্ম বিদ্যমান আছে, তা-ই আমাদেরকে এ ধরনের চিত্র কল্পনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা একে খলিফা-চরিত্রের জন্য অশোভনীয় ও অপরাধ বিবেচনা করেছি। যদি আমরা দাসীগ্রহণ সম্পর্কে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি লক্ষ করতাম, তাহলে জানতে পারতাম যে, দাসীগ্রহণ মূলত স্বত্বাধিকার, যার ভিত্তিতে মালিক দাসীকে উপভোগ ও তার সেবা গ্রহণের অধিকার লাভ করে। মালিকের জন্য আপন স্ত্রীদের মাঝে যেমন সমতাবিধান আবশ্যক, দাসীদের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক নয়।
ইবনে কুদামা রহ. 'কিতাবুল মুগনি' গ্রন্থে লিখেছেন- একজন পুরুষের জন্য প্রচুর সংখ্যক দাসী গ্রহণের অধিকার আছে। আর পুরুষ তার অধীনস্থ দাসীদের কাছে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারে।
নিম্নের ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ইসলামি ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠতম ও মহান খলিফাদের ব্যক্তিত্বের প্রকৃত রূপ কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যাবে বলে আশা করা যায়।

টিকাঃ
৮৭. 'আমাদের' মানে ইসলামি চিন্তাধারা লালনকারী ঐতিহাসিকগণ, আর 'তাদের' মানে ইসলামি শিক্ষা ও চিন্তা-চেতনা হতে দূরে অবস্থানকারী বস্তুবাদী ঐতিহাসিকগণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00