📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ৩য় অভিযোগ : সংগীত ও আমোদ-প্রমোদের আয়োজন

📄 ৩য় অভিযোগ : সংগীত ও আমোদ-প্রমোদের আয়োজন


প্রশ্ন হলো—আব্বাসি খিলাফতকালে সংগীতের রূপ ও পদ্ধতি কেমন ছিল? আর সংগীত সম্পর্কে ইসলামের বিধানই-বা কী?
মৌলিকভাবে ইসলামে সংগীত বৈধ, যদি তা নির্দোষ ও আপত্তিকর কার্যকারণমুক্ত হয়। আপত্তিকর কার্যকারণ দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য এমন বিষয়, যা ফিতনা সৃষ্টি করে; যেমন: কুফরি বাক্য, অশ্লীল বাক্য, কৌতুক বা রং-তামাশা, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদি।
‘আন-নুজুমুয যাহিরা’ গ্রন্থকার জামালুদ্দিন আবুল মাহাসিন [মৃত্যু: ৮৭৪ হি.] হারুনুর রশিদের শাসনামলে প্রচলিত প্রসিদ্ধ সংগীতশিল্পীদের আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন—
১৭৪ হিজরি সনে ঈসা বিন জাফর বিন মানসুর-এর ক্রীতদাস মানসুর মৃত্যুবরণ করে। এই মনসুরের উপাধি ছিল যালযাল। মানসুর ছিল সে যুগের সুপ্রসিদ্ধ এক সংগীতশিল্পী। তার সংগীত ও লাঠিতে ছন্দবদ্ধ আঘাতের কথা দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা হতো। সে যুগের সংগীত বর্তমানের ন্যায় বাদ্যযুক্ত ছিল না। তখন সংগীত বলে প্রসিদ্ধ বিভিন্ন মাত্রা ও ছন্দে রচিত ধ্বনিসমষ্টিকে বোঝানো হতো। মূলত সে যুগের সংগীত ছিল আমাদের বর্তমান যুগের স্তাবক ও বক্তাদের সুললিত আবৃত্তির ন্যায় এক ধরনের পরিবেশনা। (৮৬)
সে যুগে বিদ্যমান গীতি-কাব্যের কিছু নমুনা নিচে তুলে ধরা হলো।
نُرَاعِ بِذِكْرِ الْمَوْتِ سَاعَةَ ذِكْرِهِ * وَنَفْتُرُ بِالدُّنْيَا فَنَلْهُمْ وَنَلْعَبُ وَنَحْنُ بَنُو الدُّنْيَا خُلِقْنَا لِغَيْرِهَا * وَمَا كَانَ مِنْهَا فَهُوَ شَيْءٌ مُحَبَّبُ
মরণের ভয়ে আপনারে ভুলি মরণের স্মরণে ভুলে যাই সব দুনিয়ার ঘোরে আমোদ-প্রমোদ বিনোদ বিহারে পড়ে থাকি মায়ায়-প্রবঞ্চনায় সেই দুনিয়ার চরণে। জগৎ-সংসারের অধিবাসী মোরা, জগতের লাগি সৃজিত নয়, পৃথিবী যতই আবেদনময়ী, হোক না যত আনন্দময়।
الْمَرْءُ فِي تَأَخُرِ مُدَّتِهِ * كَالتَّوْبِ يَبْلَى بَعْدَ جِدَّتِهِ عَجَبًا لِمُتَنَبِّةٍ يُضَيِّعُ مَا * يَحْتَاجُ فِيهِ لِيَوْمِ رَقْدَتِهِ
পোশাক যেমন পুরাতন হয়, মিলিয়ে যায় তার নতুন ভাঁজ মানুষেরও তেমন জীর্ণ বয়সে হারিয়ে যায় সব যৌবন-সাজ। তবুও মানুষ অলস-উদাস, বিস্ময় জাগে দেখে তার আশ- সজাগ জীবনে হেলায় হারায় নিদ্রাজীবনের পাথেয়-বিলাস!

টিকাঃ
৮৬. জামালুদ্দিন ইউসুফ আবুল মাহাসিন, আন-নুজুমুয যাহিরা ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরা, ২/৭৮।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ৪র্থ অভিযোগ : দাসীসংসর্গ উপভোগ ও প্রচুর দাসী গ্রহণ

📄 ৪র্থ অভিযোগ : দাসীসংসর্গ উপভোগ ও প্রচুর দাসী গ্রহণ


হ্যাঁ, এটি ঐতিহাসিক স্বীকৃত সত্য যে, খলিফা হারুনুর রশিদের কাছে প্রচুর দাসী ছিল।
'শুবুহাতুন ফিল আছরিল আব্বাসিল আউয়াল' গ্রন্থের লেখক ড. মুআইয়য়াদ ফাযিল লিখেছেন—
ক্রীতদাসী সংক্রান্ত আলোচনাটি হলো আমাদের এবং তাদের চিন্তা-ধারণার মধ্যে ভিন্নতার আরেকটি দৃষ্টান্ত। (৮৭) খলিফাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা হয়েছে যে, তারা দাসীদের মধ্য হতে বাছাই করে নিজেদের জন্য প্রণয়িনী ও রক্ষিতা গ্রহণ করতেন এবং তাদের সৌন্দর্য ও গুণকীর্তন করে গীতি-গদ্যের আসর জমাতেন। মূলত সংগীত ও দাসী সম্পর্কে আমাদের ধারণা ও কল্পনায় যে ভাব ও মর্ম বিদ্যমান আছে, তা-ই আমাদেরকে এ ধরনের চিত্র কল্পনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা একে খলিফা-চরিত্রের জন্য অশোভনীয় ও অপরাধ বিবেচনা করেছি। যদি আমরা দাসীগ্রহণ সম্পর্কে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি লক্ষ করতাম, তাহলে জানতে পারতাম যে, দাসীগ্রহণ মূলত স্বত্বাধিকার, যার ভিত্তিতে মালিক দাসীকে উপভোগ ও তার সেবা গ্রহণের অধিকার লাভ করে। মালিকের জন্য আপন স্ত্রীদের মাঝে যেমন সমতাবিধান আবশ্যক, দাসীদের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক নয়।
ইবনে কুদামা রহ. 'কিতাবুল মুগনি' গ্রন্থে লিখেছেন- একজন পুরুষের জন্য প্রচুর সংখ্যক দাসী গ্রহণের অধিকার আছে। আর পুরুষ তার অধীনস্থ দাসীদের কাছে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পারে।
নিম্নের ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ইসলামি ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠতম ও মহান খলিফাদের ব্যক্তিত্বের প্রকৃত রূপ কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যাবে বলে আশা করা যায়।

টিকাঃ
৮৭. 'আমাদের' মানে ইসলামি চিন্তাধারা লালনকারী ঐতিহাসিকগণ, আর 'তাদের' মানে ইসলামি শিক্ষা ও চিন্তা-চেতনা হতে দূরে অবস্থানকারী বস্তুবাদী ঐতিহাসিকগণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00