📄 হারুনুর রশিদের মৃত্যু
খলিফা হারুনুর রশিদ মৃত্যুর পূর্বে এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিস্ময়কর সেই স্বপ্নই তার জীবনে বাস্তব হয়েছিল।
তিনি স্বপ্নে দেখেন, একটি হাতে কিছু লাল মাটি; আর অদৃশ্য হতে কেউ বলছে, এটি আমিরুল মুমিনিনের কবরের মাটি। পরে তিনি যখন খোরাসানের উদ্দেশে রওনা হন এবং পথিমধ্যে তুস এলাকায় পৌঁছান, তখন সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তার ভৃত্যকে বলেন, 'তুমি এই এলাকার কিছু মাটি নিয়ে এসো।' ভৃত্য হাতে করে কিছু লাল বর্ণের মাটি নিয়ে আসে। লাল মাটি দেখেই খলিফা বলে ওঠেন, 'আল্লাহর শপথ! এ হাতই আমি দেখেছি আর এ মাটিই সেই হাতে ছিল!' এরপর তিনি সেখানে তার জন্য কবর খনন করার এবং কবরের পাশে পূর্ণ কুরআন খতম করার নির্দেশ দেন। অসুস্থ অবস্থায় খলিফাকে কবরটি দেখতে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি কবরের দিকে তাকিয়ে বলেন, 'হে আদমসন্তান, এখানেই তোমার আগামীর নিবাস!' এ কথা বলেই তিনি কাঁদতে থাকেন। এর তিনদিন পরই তিনি ইন্তেকাল করেন।
খলিফা হারুনুর রশিদ ১৯৩ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসে চুয়াল্লিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
📄 হারুনুর রশিদের শাসনামলে প্রাচুর্য
খলিফা হারুনুর রশিদ মাঝেমধ্যে ভাসমান মেঘমালার দিকে তাকিয়ে বলতেন, 'যেখানে ইচ্ছা গিয়ে বৃষ্টি বর্ষণ করো; তোমার সেচে উৎপাদিত ফসলের খারাজ (কর) আমার কোষাগারেই জমা হবে।' তার শাসনামলে আব্বাসি সাম্রাজ্যের বার্ষিক রাজস্ব সাত কোটি দেড় লক্ষ দিনারে পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে আল-মামুনের শাসনামলে রাজস্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
📄 হারুনুর রশিদের ওপর আরোপিত কিছু অভিযোগের অপনোদন
আব্বাসি সাম্রাজ্যের খলিফাগণ বিশেষ করে হারুনুর রশিদের ওপর মদপান, সংগীত-বিনোদন ও দাসীদের মজলিসে অংশগ্রহণের অভিযোগ আরোপ করা হয়ে থাকে। নিঃসন্দেহে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণই মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি আমরা কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা করেছি।