📄 খলিফা আল-মাহদির সুপ্রশাসননীতি
একদিন জনৈক ব্যক্তি একজোড়া পাদুকা নিয়ে মাহদির দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, 'এগুলো নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাদুকা; আপনার জন্য হাদিয়া নিয়ে এসেছি।' মাহদি পাদুকাজোড়া হাতে নিয়ে তাতে চুমু খেলেন, চোখে-মুখে ভক্তিভরে স্পর্শ করলেন এবং লোকটিকে দশ হাজার দিরহাম প্রদান করার নির্দেশ দিলেন। লোকটি চলে গেলে মাহদি বললেন, 'আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চিতভাবেই জানি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পাদুকাজোড়া পরিধান করা দূরে থাক, দেখেনওনি। কিন্তু আমি যদি তাকে ফিরিয়ে দিতাম, সে মানুষের কাছে গিয়ে বলত, আমি তাকে নবীজির পাদুকাজোড়া হাদিয়া দিয়েছিলাম; কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। মানুষ তার কথা বিশ্বাসও করত। কারণ, সাধারণ জনগণ এদের প্রতি দুর্বল থাকে। জনসাধারণের ধর্ম হলো শক্তিশালীর বিরুদ্ধে দুর্বলকে সমর্থন করা; এমনকি দুর্বল অত্যাচারী ও অন্যায়কারী হলেও। তাই আমি দশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে তার মুখ কিনে নিলাম। আমার কাছে এটিই শ্রেয়তর ও সঠিকতর মনে হয়েছে।'
খলিফা মাহদি ধর্মত্যাগী মুরতাদদের অনুসন্ধান করতেন এবং তাদেরকে হত্যাশাস্তি প্রদান করতেন।
সারকথা, খলিফা মুহাম্মাদ আল-মাহদির কৃতিত্ব ও সৎকর্মের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ, আলোচ্য গ্রন্থ যা বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্র নয়। এই মহান খলিফা ১৬৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পূর্বেই তিনি পুত্র মুসা আল-হাদিকে পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করে যান।