📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খলিফা মানসুরের আমলে বিজয়াভিযান

📄 খলিফা মানসুরের আমলে বিজয়াভিযান


খলিফা মানসুরের শাসনামলে নিষ্পত্তিমূলক কোনো বিজয়াভিযানের ঘটনা ঘটেনি। তার আমলে পরিচালিত অভিযানগুলো মূলত ছিল আগে থেকেই চলমান ধারাবাহিক বিজয়াভিযানের অংশ। বরং তার খিলাফতকালে মুসলমানদের পারস্পরিক বিবাদবিসংবাদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোমানরা মাঝেমধ্যেই আব্বাসি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তশহরে হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখাত। মানসুরের আমলেই বাইজান্টাইন সম্রাট পঞ্চম কনস্টান্টাইন (Constantine V) মালাতিয়া (Malatya) অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং নগরপ্রাচীর ধ্বংস করে মুসলিম সাম্রাজ্যের দিকে অগ্রসর হন।
অবশ্য ততদিনে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছিল। তাই রোমানদের অভিযানের বিষয়ে অবগত হওয়ামাত্র মানসুর নতুন করে বিজয়াভিযান শুরু করেন। মুসলিম বাহিনী বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের কিছু অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ ছাড়াও আবু জাফর আল-মানসুর ১৪১ হিজরি সনে তাবারিস্তানে (Tabaristan) অভিযান পরিচালনার জন্য তার পুত্র আল-মাহদিকে প্রেরণ করেন।
১৫১ হিজরি সনে খলিফাপুত্র মাহদি যখন খোরাসান থেকে ফিরে আসেন, তখন খলিফা মানসুর পুত্রের জন্য বাগদাদের পূর্ব প্রান্তে রুসাফা নগরীর নির্মাণ শুরু করেন। তিনি রুসাফাকে নিরাপত্তাপ্রাচীর ও পরিখা দ্বারা বেষ্টিত করে দুর্ভেদ্য করে তোলেন। এ বছরই মানসুর প্রথমে তার পক্ষে বায়আতের পুনঃনবায়ন করেন; তারপর তার অবর্তমানে পর্যায়ক্রমে পুত্র মাহদি ও ভ্রাতুষ্পুত্র ঈসা বিন মুসার নামে বায়আত গ্রহণ করে তাদের দুজনকে পরবর্তী পর্যায়ক্রমিক ওলিয়ে আহদ ঘোষণা করেন। অথচ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্বতন খলিফা সাফফাহ ঈসা বিন মুসাকে (৭৮) মানসুরের পরবর্তী খলিফা ঘোষণা করেছিলেন।
খলিফা মানসুর তেষট্টি বছর বয়সে ১৫৮ হিজরি সনে হজের সফরে পথিমধ্যে ইন্তেকাল করেন এবং মক্কায় সমাহিত হন। খলিফার হাজিব (৭৯) রাবি' বিন ইউনুস বনু হাশিমের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে মাহদির খিলাফতের বায়আত গ্রহণের আগ পর্যন্ত মানসুরের মৃত্যুসংবাদ গোপন রাখেন। বায়আত সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে দাফন করা হয়।
ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন, খলিফা আবু জাফর আল-মানসুরের জীবনের শেষ উক্তি ছিল—'হে আল্লাহ, আপনার সাক্ষাতের সময় আমাকে বরকত দান করুন।'

টিকাঃ
৭৮. পরপর দুজন খলিফা কর্তৃক ওলিয়ে আহদ (ভবিষ্যৎ খলিফা) ঘোষিত হলেও শেষ পর্যন্ত ঈসা বিন মুসা খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করতে পারেননি। তৃতীয় আব্বাসি খলিফা আল-মাহদিও তাকে পরবর্তী খলিফা হওয়ার অধিকার হতে বঞ্চিত করে তার পরিবর্তে নিজ পুত্রকে ওলিয়ে আহদ ঘোষণা করার ইচ্ছা করেন। মাহদির উপর্যুপরি চাপ ও প্রস্তাবের মুখে নতি স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত ঈসা বিন মুসা নিজের অধিকার প্রত্যাহার করে নেন। তিনি মাহদির শাসনামলেই ১৬৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৭৯. তৎকালে প্রধান রাজপ্রহরীকে 'হাজিব' বলা হতো। হাজিব পদধারী ব্যক্তি খলিফার মূল পরামর্শক ও উপদেষ্টা বিবেচিত হতেন। হাজিবের পদমর্যাদা অনেকটা আধুনিক কালের (প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির রাষ্ট্রব্যবস্থার) প্রধানমন্ত্রীর সমপর্যায়ের ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00