📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 বনু উমাইয়া-বনু আব্বাসের প্রথম সশস্ত্র সংঘাত

📄 বনু উমাইয়া-বনু আব্বাসের প্রথম সশস্ত্র সংঘাত


খোরাসানেই উভয় শক্তির মধ্যে প্রথম সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। যুদ্ধে আবু মুসলিম গভর্নর নাস্ত্র বিন সাইয়ারের বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন এবং তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এ সময় পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আবু মুসলিম অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি কৌশল কাজে লাগান। তিনি ইয়ামেনি ও মুযারি উভয় গোত্রের লোকদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠিয়ে উভয় দলকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করেন এবং বলেন, আমাদের ইমাম আমাকে আপনাদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমি আপনাদের বিষয়ে তার নির্দেশনা অমান্য করব না।
ধীরে ধীরে টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ উমাইয়া খলিফা মারওয়ান বিন মুহাম্মাদ হুমায়মায় অবস্থানকারী আব্বাসি আন্দোলনের ইমাম ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদের খোঁজে বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা তাকে আটক করে দামেশকে খলিফার কাছে পাঠিয়ে দিলে খলিফা তাকে কারাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
১৩১ হিজরি সনে আবু মুসলিমের বাহিনী ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। এরপর আবু মুসলিম কুফার উদ্দেশে রওনা হন। কুফায় ততদিনে আব্বাসি আন্দোলনের প্রচারক মুহাম্মাদ বিন খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-ক্বাসরি প্রকাশ্যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
১৩২ হিজরি সনে (৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে) আব্বাসি ইমাম ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ উমাইয়া খলিফা মারওয়ান বিন মুহাম্মাদের কারাগারে ইন্তেকাল করেন। তিনি তার অবর্তমানে তার ভাই আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ (আস-সাফফাহ)-এর নামে 'খিলাফত'-এর অসিয়ত করে যান। ১৩২ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে (৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) বনু আব্বাস আস-সাফফাহর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করে।
একই বছরের ১১ জুমাদাল উখরা (৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি) আস-সাফফাহ উমাইয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বাহিনী প্রেরণ করেন। আব্বাসি বাহিনী উমাইয়াদের সমূলে নিঃশেষ করে ফেলে এবং একমাত্র আন্দালুস বাদে পুরো ইসলামি বিশ্বে বনু আব্বাসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
একই বছরের জিলহজ মাসে (৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে) শেষ উমাইয়া খলিফা মারওয়ান বিন মুহাম্মাদ আব্বাসি খলিফা আস-সাফফাহর প্রেরিত বাহিনীর হাতে নিহত হন এবং এর মাধ্যমে উমাইয়া খিলাফতের চূড়ান্ত পতন নিশ্চিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00