📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের শাখা-উপশাখা

📄 ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের শাখা-উপশাখা


পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ইসমাইল বিন জাফর সাদিককে নিজেদের সপ্তম ইমাম দাবি করত। ১৯৩ হিজরি সনে (৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে) ইসমাইলের পুত্র মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল ইন্তেকাল করলে ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় দাবি করে যে, তিনি আত্মগোপন করে আছেন এবং
অতি শীঘ্রই ইমাম মাহদি নামে আত্মপ্রকাশ করে পৃথিবীতে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। এ সময় আব্বাসি খিলাফতের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইয়ামেন, ইরাক, আরব উপদ্বীপের পূর্বাঞ্চল ও পারস্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসমাইলিয়া মতাদর্শের প্রচারকরা ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে থাকে। ইরাক ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে ইসমাইলিয়া মতাদর্শের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হামদান বিন কারামাত। ২৮৬ হিজরি সনে (৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে) শামে ইসমাইলিয়া মতাদর্শের প্রচারক (পরবর্তী সময়ে উবায়দি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা) উবায়দুল্লাহ আল-মাহদি নিজেকে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল তথা হজরত ফাতিমা রাযি.-এর বংশধর এবং একাদশ ইসমাইলি ইমাম দাবি করে। কিন্তু হামদান বিন কারামাতের নেতৃত্বাধীন ইরাক, বাহরাইন ও খোরাসানের ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় উবায়দুল্লাহর দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এখান থেকেই ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ফাতিমিয়া ও কারামাতিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদির অনুসারীরা পরিচিত হয় 'ফাতিমিয়া' নামে আর হামদান বিন কারামাতের অনুসারীরা পরিচিত হয় 'কারামাতিয়া' নামে। কারামাতিয়া গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় বাহরাইন, ইয়ামেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। অপরদিকে ফাতিমিরা ২৯৭ হিজরি সনে (৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে) উত্তর আফ্রিকায় উবায়দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, যা পরবর্তীকালে মিশর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।
ফাতিমিরা পরবর্তী সময়ে দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক দলের নাম নিযারিয়া, আরেক দলের নাম মুসতালিয়া। ৪৮৭ হিজরি সনে (১০৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) অষ্টম উবায়দি (ফাতিমি) শাসক (অষ্টাদশ ইসমাইলি ইমাম) মুসতানসিরের মৃত্যুর পর উবায়দি রাজপরিবার পরবর্তী শাসক ও ইমাম নির্ধারণ প্রশ্নে দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক দল তার পুত্র নিযার আল-মুসতাফা লি দ্বীনিল্লাহকে ইমাম দাবি করে, অপর দল তার আরেক পুত্র আহমাদ মুসতালিকে ইমাম দাবি করে। প্রথম দল নিযারিয়া নামে এবং দ্বিতীয় দল মুসতালিয়া নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এ সময় আহমাদ মুসতালি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তার ভাই নিযারকে বন্দি করেন। বন্দি অবস্থায় নিযারের মৃত্যুর পর তার পুত্র আল-হাদি বিন নিযার মিশর থেকে
পালিয়ে পারস্যে ইসমাইলি ধর্মপ্রচারক হাসান সাবাহর কাছে চলে যায় এবং নিযারিয়া মতাদর্শের প্রসারে কাজ করতে থাকে। এই হাসান সাবাহই ছিল কুখ্যাত হাশাশিন গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। কালের পরিক্রমায় যেহেতু কারামাতিয়া ও মুসতালিয়াদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে, তাই বর্তমানে ইসমাইলিয়া বলে এই নিযারিয়া গোষ্ঠীকেই বোঝানো হয়। বর্তমানে তারা 'আগাখানিয়া' নামে অধিক প্রসিদ্ধ। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল, ইউরোপ ও ভারতে প্রচুর সংখ্যক আগাখানিয়া মতাদর্শী বসবাস করে। বর্তমানে তাদের প্রধান নেতা ফ্রান্সে বসবাসকারী ও ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী করিম হুসাইন শাহ (৪র্থ আগাখান), যিনি বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ভাষ্য অনুসারে বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনীর একজন।

টিকাঃ
৭৩. এ দাবির বাস্তবতা সম্পর্কে তৃতীয় খণ্ডে আলোচনা করা হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية