📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 যায়দিয়া

📄 যায়দিয়া


ইমামিয়া সম্প্রদায়ের আরেকটি প্রসিদ্ধ উপশাখা। ১২২ হিজরি সনে (৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে) যখন হুসাইন রাযি.-এর পৌত্র যায়দ বিন আলি তৎকালীন উমাইয়া খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, তখন তার অনুসারী শিয়ারা তাকে বলে, 'আপনি আপনার পিতৃপুরুষ আলির প্রতি জুলুমকারী আবু বকর ও উমরের প্রতি অভিসম্পাত করুন।' কিন্তু তিনি তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম দুই মহান সাহাবির জন্য কল্যাণের দোয়া করেন এবং বলেন, 'আমি তাদের প্রতি ভালো ধারণাই পোষণ করি। আমি তো বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে এজন্য বিদ্রোহ করেছি যে, তারা আমার দাদা হুসাইন রাযি.-কে শহিদ করেছে, হাররা যুদ্ধের সময় মদিনায় রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং পাথর ও আগুনের গোলার আঘাতে পবিত্র বাইতুল্লাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।' তার এই উত্তর শুনে কিছু লোক তার পক্ষে থাকলেও অনেকে তার পক্ষ ত্যাগ করে। তার পক্ষে থেকে যাওয়া লোকেরাই পরবর্তীকালে যায়দিয়া নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে আর পক্ষত্যাগীরা প্রসিদ্ধি লাভ করে রাফিজি (দলত্যাগী) নামে। এ কারণেই ইছনা আশারিয়া শিয়াদেরকে রাফিজিও বলা হয়।
যায়দিয়া সম্প্রদায়ের মতাদর্শ অনুসারে পঞ্চম ইমাম হলেন হযরত হুসাইন রাযি.-এর পৌত্র যায়দ (বিন আলি বিন হুসাইন রাযি.)। অপরদিকে ইছনা
আশারিয়া মতাদর্শীদের মতে পঞ্চম ইমাম হলেন হযরত হুসাইন রাযি.-এর আরেক পৌত্র মুহাম্মাদ (বিন আলি বিন হুসাইন রাযি.)।
অন্যান্য শিয়া দল-উপদলের তুলনায় যায়দিয়া সম্প্রদায়ের মতাদর্শ তুলনামূলক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর নিকটবর্তী। তাদের আকিদা হলো—ইমামগণ ঐশ্বরিক কোনো শক্তির অধিকারী বা নিষ্পাপ নন; বরং সাধারণ মানুষ। তবে হজরত আলি রাযি. নবীজির পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা কোনো সাহাবিকে কাফির বলে না; অভিসম্পাতও করে না। যায়দিয়া সম্প্রদায় মুতা বিয়েকে অবৈধ বলে এবং ইমামগণের অদৃশ্য হওয়ার আকিদাকে অস্বীকার করে। বর্তমানে আদি যায়দি মতাদর্শের সামান্য কিছু লোকজন ইয়ামেন ও অন্যান্য দেশে পাওয়া যায়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইসমাইলিয়া

📄 ইসমাইলিয়া


ইসমাইলিয়া মূলত ইছনা আশারিয়া সম্প্রদায়েরই একটি উপশাখা। তাদের আরেক নাম বাতিনি ফিরকা। ১৪৮ হিজরি সনে (৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে) ইমামিয়া সম্প্রদায়ের দাবিকৃত ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিকের মৃত্যুর পর ইমামিয়া সম্প্রদায় ইমামতের প্রশ্নে দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দাবি করে যে, জাফর সাদিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইল হলেন পরবর্তী সপ্তম ইমাম। অপর একটি অংশ দাবি করে, ইসমাইল নন; বরং জাফর সাদিকের আরেক পুত্র মুসা কাজিম হলেন পরবর্তী ইমাম। এখান থেকেই ইমামিয়া সম্প্রদায় দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং প্রথম দল ইসমাইলিয়া ও দ্বিতীয় দল ইছনা আশারিয়া নামে পরিচিত হয়। পাক-ভারত উপমহাদেশের অধিকাংশ শিয়া ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, মধ্য আফ্রিকা ও সিরিয়ায় অল্প পরিমাণে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। মিশরকেন্দ্রিক উবায়দি সাম্রাজ্যের শাসক ফাতিমিয়া পরিবার, বিভিন্ন অঞ্চল শাসনকারী কারামাতিয়া সম্প্রদায় এবং ইতিহাসে কুখ্যাত হাশাশিন সম্প্রদায় ইসমাইলি সম্প্রদায়েরই অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00