📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 লুক্কা উপত্যকার যুদ্ধ

📄 লুক্কা উপত্যকার যুদ্ধ


মুসলিম অভিযাত্রীদের আগমনের সংবাদ পেয়ে রডারিক মুসলিম বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে রাজধানী থেকে রওনা হয়। তারিক মুসা বিন নুসায়রের কাছে বার্তা পাঠিয়ে রডারিক-বাহিনীর বিশালতা সম্পর্কে অবহিত করেন। তখন মুসা বিন নুসায়র তারিফ বিন মালিকের নেতৃত্বে পাঁচ হাজার সৈন্যের অতিরিক্ত আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন। এ বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্যই ছিল অশ্বারোহী। অতিরিক্ত সৈন্য যোগ দেওয়ার তারিকবাহিনীর মোট সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় বারো হাজার।
৯২ হিজরি সনের ২৮ রমজান (৭১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুলাই) রবিবার উভয় বাহিনী সাজুনা নগরীর নিকটবর্তী বারবাত বা লুক্কা উপত্যকায় মুখোমুখি হয়। একটানা আট দিন যুদ্ধ চলার পর গোথ বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়। ইতিহাসের এই গতিনির্ধারক যুদ্ধই মুসলমানদের সামনে আন্দালুসের দ্বার উন্মোচিত করে দেয়।
লুক্কা প্রান্তরে জয়লাভ করার পর তারিক তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং একের পর এক নগরী জয় করতে থাকেন। অভিযান অব্যাহত রেখে মুসলিম বাহিনী টলেডোয় পৌঁছে যায়। ৯৩ হিজরি সনে (৭১২ খ্রিষ্টাব্দে) তারিক উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হওয়া ব্যতিরেকেই ওয়াদিল কাবির (The Guadalquivir) নদী পাড়ি দিয়ে টলেডো নগরীতে প্রবেশ করেন। টলেডোয় পৌঁছার পর তারিক গিশার সন্তানদেরকে মুসা বিন নুসায়রের কাছে প্রেরণ করেন। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'আপনি নিজেই আমীর, নাকি অন্য কোনো আমীরের অধীনস্থ?'
উত্তরে তারিক বিন যিয়াদ বলেন, 'আমি একজন আমিরের অধীনস্থ; আর সেই আমিরের ওপর আছেন এক মহান আমির।'
সেনাপতি তারিকের প্রতি মুসা বিন নুসায়রের নির্দেশ ছিল, তিনি যেন আন্দালুসের বেশি গভীরে প্রবেশ না করেন। কারণ, তাতে তার সৈন্যরা
নিরাপত্তা-ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। কিন্তু সম্ভবত একের পর এক সহজ বিজয় তারিককে অভিযান অব্যাহত রেখে আরও সামনে অগ্রসর হতে উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি নিজেকে অবরুদ্ধ আবিষ্কার করেন।
এদিকে বিজিত নগরীগুলোর প্রতিটির নিরাপত্তার জন্য কিছু সৈন্য রেখে আসায় তার সঙ্গে থাকা সৈন্যের সংখ্যাও তখন অনেক কম। বাধ্য হয়ে তিনি মুসার কাছে বার্তা প্রেরণ করে জানান যে, আশেপাশের বিভিন্ন গোত্র প্রতিটি দিক থেকে আমাদের ওপর হামলা করার জন্য পরস্পরকে আহ্বান করছে। সুতরাং দ্রুত সাহায্য প্রেরণ করুন। তখন মুসা বিন নুসায়র তারিক বিন যিয়াদকে সহায়তা করার জন্য নিজেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। ৯৩ হিজরি সনের রমজান মাসে আঠারো হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে মুসা আন্দালুসে পা রাখেন। প্রথমে তিনি দক্ষিণ ও পশ্চিমের সেসব নগরী জয় করার মনস্থ করেন, যেগুলো তারিক জয় না করে ছেড়ে গিয়েছিলেন। মুসা বিন নুসায়র এর মাধ্যমে বাম দিক থেকে তারিকের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শত্রু-শক্তিকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে চেয়েছিলেন। এসব বিজয় সমাপ্ত হওয়ার পর মুসা তারিকের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হন এবং উভয়ে মিলে আন্দালুসের অন্যান্য নগরী জয় করতে থাকেন। মুসা বিন নুসায়র বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের কাছে বার্তা প্রেরণ করেন। বার্তা পাঠ করে খলিফা কৃতজ্ঞতায় সিজদাবনত হয়ে পড়েন।
এরপর মুসা তারিককে সঙ্গে নিয়ে আন্দালুসের উত্তরে আরও গভীরে প্রবেশ করেন। মুসলিম বাহিনী যে নগরীই অতিক্রম করছিল, আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে তা-ই জয় করছিল। প্রতিটি জনপদের অধিবাসীগণ মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করছিল। এভাবে মুসলিম বাহিনী পৌঁছে যায় জারাগোজা নগরীতে। মুসলিম বাহিনীর আগমন-সংবাদ পেয়ে জারাগোজার খ্রিষ্টান যাজক বেনসিয়ো ও তার সঙ্গী সন্ন্যাসীগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য ঐতিহ্যগত সম্পদ একত্র করে তা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মুসা বিন নুসায়র তাদের কাছে দূত পাঠিয়ে তাদের নিরাপত্তা-অঙ্গীকার প্রদান করেন। ফলে তারা শহরত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিহার করে।
মুসা বিন নুসায়র এরপর তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে এমন এমন অঞ্চলে পৌঁছান, যেখানকার অধিবাসীরা পশুর ন্যায় জীবনযাপন করত। তারা
কথা বলত বাস্ক ভাষায়; মুসার সঙ্গে থাকা আন্দালুসের স্থানীয় অধিবাসীরা যা মোটেও বুঝত না। অবস্থাদৃষ্টে মুসলিম সৈন্যরা মুসা বিন নুসায়রকে বলে, 'আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমরা ইতিমধ্যে যেসব অঞ্চল জয় করেছি, তাই তো যথেষ্ট!'
বিশিষ্ট তাবেয়ি হানাশ বিন আবদুল্লাহ সানআনিও মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন। তিনি সেনাপতি মুসা বিন নুসায়রকে বলেন, 'বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যেসব কথাবার্তা বলছে, আমি তা শুনেছি। আপনি তাদের মনোভাব সম্বন্ধে জানেন না। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের প্রাচুর্যে তারা সমৃদ্ধ হয়ে গেছে। তাই তারা এখন যুদ্ধমুক্ত পরিবেশে ফিরতে চাইছে।'
হানাশ বিন আবদুল্লাহর সদুপদেশ শুনে সেনাপতি মুসা বিন নুসায়র মুচকি হেসে বলেন, 'আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুসলমানদের মাঝে আপনার মতো কল্যাণকামী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।' এরপর তিনি আন্দালুসের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এ সময় তিনি বলছিলেন, 'আল্লাহর শপথ! তারা যদি আমার নিঃশর্ত আনুগত্য করত, তাহলে তাদেরকে নিয়ে আমি রোম (কনস্টান্টিনোপল) পর্যন্ত পৌঁছতাম। তারপর ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের হাতে রোমের বিজয় দান করতেন।'
অবশ্য এরপর মুসা পুনরায় তার সৈন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হন এবং তাদেরকে নিয়ে আবারও বিজয়াভিযান শুরু করেন। তিনি যখন গ্যালিসিয়া (Galicia) অঞ্চল বিজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত তার কাছে উপস্থিত হয়ে জানায় যে, খলিফা তাকে আন্দালুসের বিজয়াভিযান স্থগিত রেখে দামেশকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। খলিফার নির্দেশ মনঃপূত না হলেও মুসা বিন নুসায়র তা মেনে নেন এবং আপন ইচ্ছা পরিত্যাগ করেন। তখন পুরো আন্দালুসে কেবল গ্যালিসিয়া অঞ্চলই মুসলমানদের জয় করা বাকি ছিল। বিভিন্ন যুদ্ধের পরও বেঁচে থাকা অবশিষ্ট গোথ সৈন্যরা সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিল। আন্দালুসের উত্তর-পশ্চিম অংশের এই অঞ্চলটিই পরবর্তীকালে কয়েক শতাব্দী পর আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টানদের পুনরুদ্ধার যুদ্ধে মূলকেন্দ্রের ভূমিকা পালন করে।

টিকাঃ
৫৫. টলেডো: স্পেনের অন্যতম প্রাচীন নগরী। টলেডো আইবেরিয়ান উপদ্বীপের মধ্যভাগে বর্তমান স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ৯১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সুগভীর উপত্যকা-বেষ্টিত ও উচ্চভূমিতে অবস্থিত টলেডো নগরীর তিনদিকেই আছে ট্যাজু নদী (Tagus River)। টলেডো ছিল তৎকালীন আন্দালুস রাষ্ট্রের রাজধানী।
৫৬. পিরেনিজ পর্বতাঞ্চলের অধিবাসীদের বাস্ক (Basque) বলা হতো।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 দ্রষ্টব্য : বিজিত জাতির প্রতি বিজেতা মুসলমানদের উদারতা

📄 দ্রষ্টব্য : বিজিত জাতির প্রতি বিজেতা মুসলমানদের উদারতা


আন্দালুস বিজয়ের সময় মুসলিম বিজেতাগণ আন্দালুসের বিভিন্ন নগরীর প্রশাসক ও রাজন্যবর্গের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছিলেন, তার ধারাগুলো অভিযাত্রী মুসলমানদের দয়া ও উদারতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ঐতিহাসিক নথিপত্রে মুসলিম সেনাপতি মুসা বিন নুসায়রের পুত্র আবদুল আজিজ ও গাবদুশ-পুত্র টুডমিরের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সন্ধিচুক্তির বিবরণ সংরক্ষিত আছে। নিম্নে তার চুম্বকাংশ উল্লেখ করা হলো। ৯৪ হিজরি সনের রজব মাসে (৭১৩ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে) চুক্তিপত্রটি লেখা হয়।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
এটি আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে টুডমিরকে প্রদত্ত নিরাপত্তা-অঙ্গীকারনামা। আবদুল আজিজ তার সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করছে এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, যতদিন এ চুক্তি বহাল থাকবে, ততদিন তাকে তার ক্ষমতা হতে অপসারণ করা হবে না এবং তার শাসনভুক্ত অঞ্চলসমূহের কোনো খ্রিষ্টান প্রশাসককেও অপসারণ করা হবে না। এখানকার নাগরিকদের ও তাদের স্ত্রী-সন্তানদেরকে হত্যা বা বন্দি করা হবে না। তাদের ধর্মত্যাগে বাধ্য করা হবে না এবং তাদের গির্জা ও উপাসনালয়গুলোর ক্ষতি করা হবে না।
The Story of Civilization গ্রন্থের লেখক উইলিয়াম দুরান্ত (মৃত্যু: ১৯b১ খ্রি.) লিখেছেন-
'আন্দালুস আরব বিজেতাদের আমলে যেরূপ দৃঢ়তা ও প্রত্যয়, স্বাধীনতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রত্যক্ষ করেছে, তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে কখনো তা প্রত্যক্ষ করেনি।' স্যার থমাস আরনল্ড (মৃত্যু: ১৯৩০ খ্রি.) তার The Preaching of Islam গ্রন্থে লিখেছেন—
'প্রকৃতপক্ষে এসব বিজেতা খ্রিষ্টধর্মের প্রতি যে ধর্মীয় উদারনীতি প্রকাশ করেছেন, আন্দালুসে কর্তৃত্ব বিস্তার সহজ হওয়ার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা ছিল।'
ইসলামি বিজয়াভিযানের পূর্বে আন্দালুসের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আবহমানকাল হতেই আন্দালুসভূমি একের পর এক বিদ্রোহে আক্রান্ত ছিল। অবশেষে পশ্চিমা গোথ গোষ্ঠী এ অঞ্চলে স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়। গোথ গোষ্ঠী আন্দালুসে ইউরোপ-ইতিহাসে বিখ্যাত রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ৯১ হিজরিতে (৭১০ খ্রিষ্টাব্দে) মুসলমানদের হাতে গোথ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। পতনপূর্ব সময়ে আন্দালুসে যে বিশৃঙ্খল ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তা যেন আসন্ন পতনের বার্তাই জানান দিচ্ছিল।
আন্দালুসের শাসক নির্বাচনের অধিকার একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেনাপতি ও গির্জার অধিপতিগণ শাসক নির্বাচন করতেন। আর এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনিবার্য পরিণতি হলো একজন শাসকের মৃত্যু ও অপরজনের ক্ষমতাগ্রহণের সময় অরাজকতা, ফিতনা, অস্থিরতা ও শত্রুতা সৃষ্টি হওয়া।
আন্দালুসের সামাজিক পরিস্থিতিও ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল শ্রেণি-বিভেদব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে। আন্দালুস-সমাজ তখন কয়েকটি স্তরে বিভক্ত ছিল।
বংশীয় অভিজাত শ্রেণি: তারা ছিল বিজেতা গোথ জাতির পরবর্তী প্রজন্ম। রাষ্ট্রের অধিকাংশ উর্বর কৃষিভূমি তাদের দখলে ছিল। তারা এসব ভূমি করমুক্ত ভোগ করত। রাষ্ট্রের সামরিক পদসমূহ এবং ধর্মীয় বিষয়াদির নেতৃত্বও তাদের হাতেই থাকত।
ধর্মীয় অভিজাত শ্রেণি: নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে তারাও কৃষিভূমির একটি বড় অংশ কোনো প্রকার করপ্রদান ব্যতিরেকে ভোগ করত। রাষ্ট্রপরিচালনায় তারা প্রথম শ্রেণির সঙ্গে শরিক ছিল। প্রকৃত অর্থে তখন রাষ্ট্রপরিচালনার একমাত্র উদ্দেশ্য থাকত অর্থসম্পদে কর আরোপের বিভিন্ন পথ অনুসন্ধান করা এবং শাসকদের সম্পদ বৃদ্ধি করা। ঐতিহাসিকগণ মন্তব্য করেছেন, আন্দালুসের দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিভূমি এই দুই শ্রেণির মালিকানাভুক্ত ছিল এবং তা ছিল সম্পূর্ণ খাজনামুক্ত।
ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী ও ক্ষুদ্র জমিদার শ্রেণি: ট্যাক্স-খাজনা প্রদান ও শাসকদের অর্থলিপ্সা পূরণ করার দায়িত্ব-বোঝা তাদের কাঁধেই অর্পিত থাকত।
ভূমিদাস শ্রেণি: বড় জমিদারদের স্বার্থরক্ষায় তারা কৃষিকাজ করত। দুর্ভাগা এই শ্রেণির লোকেরা নিজেদের পরিবার-পরিজনসহ মালিকের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত বিবেচিত হতো। তাদের নিজস্ব কোনো অধিকার ছিল না। ভূমির মালিকানার সঙ্গে তারাও এক মালিক হতে অন্য মালিকের কাছে স্থানান্তরিত হতো।
যুদ্ধবন্দি দাস শ্রেণি: তাদেরকে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। ন্যূনতম কোনো অধিকারই তাদের ছিল না।
আন্দালুসে আরেকটি শ্রেণির বসবাস ছিল, নাগরিক জীবনে যাদের বেশ বড় ভূমিকা ছিল। তারা হলো ইহুদি সম্প্রদায়। স্বভাবরীতি অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। শাসক শ্রেণি তাদের প্রভাব-
প্রতিপত্তির কারণে চাপ অনুভব করত এবং তাদেরকে ইহুদি ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপপ্রয়োগ করত।
অর্থাৎ সমাজের কর্মী শ্রেণিগুলো সাধারণ নাগরিক অধিকার হতে বঞ্চিত ছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল চরম অব্যবস্থাপনার একটি চিত্র-মাত্র। শোষিত ও বঞ্চিত এসব মানুষের না ছিল কোনো ধরনের জাতীয় অধিকার, না ছিল উন্নতি-অগ্ৰগতির ন্যূনতম চেতনা।

টিকাঃ
৫৭. বিখ্যাত আমেরিকান দার্শনিক উইলিয়াম দুরান্ত (William James Will Durant) ও তার স্ত্রী এরিয়েল দুরান্ত (Ariel Durant) এই সুবিশাল ইতিহাস বিশ্বকোষটি রচনা করেন। এগারো খণ্ডে সমাপ্ত গ্রন্থটিতে পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বিগত কালের বিভিন্ন সভ্যতার ইতিহাস আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশ বছরের প্রচেষ্টায় মানে ও পরিমাণে সমৃদ্ধ এ বিশ্বকোষটি রচনা করা হয়। আরব রাষ্ট্রসমূহের জোট সংগঠন 'আরব লীগে'র শাখাসংগঠন 'অ্যালেসকো'=(The Arab League Educational, Cultural and Scientific Organization [ALECSO]) গ্রন্থটির আরবি সংস্করণ 'কিসসাতুল হাযারা' (قصة الحضارة) নামে প্রকাশ করেছে।
৫৮. বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ স্যার থমাস আরনল্ড (Thomas Walker Arnold) রচিত এ গ্রন্থটির আরবি অনুবাদ ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে (الدعوة إلى الإسلام) ইসলামের প্রতি আহ্বান) নামে প্রকাশিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00