📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আন্দালুসে বিজয়াভিযান ও তৎকালীন আন্দালুসের পরিস্থিতি

📄 আন্দালুসে বিজয়াভিযান ও তৎকালীন আন্দালুসের পরিস্থিতি


দীর্ঘদিন যাবৎ পশ্চিমা গোথ (Visigoths) জাতি আন্দালুস শাসন করছিল। মুসলমানদের আন্দালুস অভিযানের অব্যবহিত পূর্বে আন্দালুসের
শাসক ছিলেন গোথ-শাসক গিশা (Wittiza)। সিউটা-প্রশাসক জুলিয়ান ছিলেন তার মিত্র। গিশার জনৈক অনুচর রডারিক-এর সমর্থকদের পরিচালিত এক বিদ্রোহ প্রচেষ্টায় গিশা সিংহাসনচ্যুত ও নিহত হন। এর ফলে গিশার সন্তান ও সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তারা জবরদখলকারী রডারিকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় আন্দোলন। মুসলমানরা আন্দালুসে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল।
গিতশার মৃত্যুর পর ক্ষমতার দাবিদার তার পুত্র ওয়াক্কা পালিয়ে আফ্রিকায় চলে আসে এবং সিউটার প্রশাসক জুলিয়ানের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। জুলিয়ান তখনও গিশাপরিবারের আনুগত্যে অবিচল ছিলেন।
রডারিকের দুঃশাসনে আন্দালুসভূমির পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়ে। রডারিক বিশাল করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে।
সিউটা-প্রশাসক জুলিয়ান এ সময় তাঞ্জিয়ার-প্রশাসক তারিক বিন যিয়াদের কাছে একটি বার্তা প্রেরণ করে সিউটার নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং মুসলমানদেরকে আন্দালুসে বিজয়াভিযান পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ করেন। এ বিষয়ে উভয় প্রশাসকের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

টিকাঃ
৫৩. আন্দালুস: স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উপদ্বীপ (The Scandinavian Peninsula)-এর পর ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপদ্বীপ হলো আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (Iberian Peninsula)। ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ত্রিভুজ-সদৃশ আইবেরিয়ান উপদ্বীপের আয়তন প্রায় ছয় লক্ষ বর্গকিলোমিটার (৫,৮৩,২৫৪ বর্গ কি. মি. বা ২,২৫,১৯৬ বর্গমাইল)।
আধুনিক রাষ্ট্রসীমার স্পেন, পর্তুগাল ও অ্যান্ডোরা এই তিনটি দেশের পাশাপাশি ফ্রান্সের কিছু অংশ আইবেরিয়ান উপদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত। আইবেরিয়ান উপদ্বীপকেই অতীতে আন্দালুস বলা হতো।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে খলিফার অনুমতিপ্রার্থনা

📄 গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে খলিফার অনুমতিপ্রার্থনা


অবশেষে জুলিয়ানের প্রস্তাবে তারিক বিন যিয়াদ সম্মতি জানান। আফ্রিকা-প্রশাসক মুসা বিন নুসায়র খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা অবহিত করেন। ফিরতি বার্তায় খলিফা প্রথমেই মূল মুসলিম বাহিনীকে আন্দালুস-অভিযানে প্রেরণ না করে ক্ষুদ্র একটি বাহিনী প্রেরণ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 অনুসন্ধানী অভিযান

📄 অনুসন্ধানী অভিযান


৯১ হিজরি সনের রমজান মাসে (৭১০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে) মুসা বিন নুসায়র রহ. তারিফ বিন মালিক মাআফিরি (আবু যুরআ) নামক জনৈক আমাজিঘ সেনাপতির নেতৃত্বে চারশ পদাতিক ও একশ অশ্বারোহী সৈন্যের একটি ক্ষুদ্র বাহিনী আন্দালুসে প্রেরণ করেন। চারটি নৌযানে সাগর পাড়ি দিয়ে তারা আন্দালুসের উপকূলে অবতরণ করে। তাঞ্জিয়ারের অপর পাড়ে অবস্থিত যে স্থানটিতে তারিফের বাহিনী অবতরণ করেছিল, বর্তমানে তা সেনাপতি তারিফের নামে জাযিরাতু তারিফ বা তারিফের দ্বীপ নামে খ্যাত। তারিফের বাহিনী সেখান থেকে জাযিরাতুল খাযরা বা আলজেসিরাস (Algeciras)-এর দিকে অগ্রসর হয়ে নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করে এবং নিরাপদে তাঞ্জিয়ারে প্রত্যাবর্তন করে।
৯২ হিজরি সনের রজব মাসে (৭১১ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) মুসা বিন নুসায়র তারিক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে আরব ও বার্বার সৈন্যদের সমন্বয়ে আন্দালুস অভিযানের বাহিনী প্রস্তুত করেন। বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল সাত হাজার। মুসলিম বাহিনী সিউটার উপকূলীয় এলাকা থেকে রওনা হয়। সিউটার প্রশাসক জুলিয়ান নৌযান প্রদান করে মুসলিম বাহিনীকে সহায়তা করেছিলেন। মুসলিম বাহিনী সাগর পাড়ি দিয়ে সাগরের সরাসরি অপর প্রান্তে আন্দালুস ভূমিতে অবতরণ করে। সেদিন থেকে আজও সেই পাথুরে ভূমিটি জাবালে তারিক (Gibraltar) নামে প্রসিদ্ধ।
তারিক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে শুরু হয় আন্দালুস বিজয়াভিযান। প্রথমে তিনি আন্দালুসের কারতাজিনা নগরী জয় করেন। এরপর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে কারতাজিনার চারপাশের বিভিন্ন নগরীর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তিনি জাযিরাতুল খাযরার সম্মুখবর্তী এক স্থানে অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেন।

টিকাঃ
৫৪. অবশ্য ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মতবিরোধ আছে যে, মুসলিম অভিযাত্রীগণ জুলিয়ানের প্রদত্ত নৌযানে করে সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন, নাকি নিজেদের নৌযানে চড়ে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য: মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ড. রাগিব সারজানির আন্দালুসের ইতিহাস, ১/৭৯-৮২।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 লুক্কা উপত্যকার যুদ্ধ

📄 লুক্কা উপত্যকার যুদ্ধ


মুসলিম অভিযাত্রীদের আগমনের সংবাদ পেয়ে রডারিক মুসলিম বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে রাজধানী থেকে রওনা হয়। তারিক মুসা বিন নুসায়রের কাছে বার্তা পাঠিয়ে রডারিক-বাহিনীর বিশালতা সম্পর্কে অবহিত করেন। তখন মুসা বিন নুসায়র তারিফ বিন মালিকের নেতৃত্বে পাঁচ হাজার সৈন্যের অতিরিক্ত আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন। এ বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্যই ছিল অশ্বারোহী। অতিরিক্ত সৈন্য যোগ দেওয়ার তারিকবাহিনীর মোট সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় বারো হাজার।
৯২ হিজরি সনের ২৮ রমজান (৭১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুলাই) রবিবার উভয় বাহিনী সাজুনা নগরীর নিকটবর্তী বারবাত বা লুক্কা উপত্যকায় মুখোমুখি হয়। একটানা আট দিন যুদ্ধ চলার পর গোথ বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়। ইতিহাসের এই গতিনির্ধারক যুদ্ধই মুসলমানদের সামনে আন্দালুসের দ্বার উন্মোচিত করে দেয়।
লুক্কা প্রান্তরে জয়লাভ করার পর তারিক তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং একের পর এক নগরী জয় করতে থাকেন। অভিযান অব্যাহত রেখে মুসলিম বাহিনী টলেডোয় পৌঁছে যায়। ৯৩ হিজরি সনে (৭১২ খ্রিষ্টাব্দে) তারিক উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হওয়া ব্যতিরেকেই ওয়াদিল কাবির (The Guadalquivir) নদী পাড়ি দিয়ে টলেডো নগরীতে প্রবেশ করেন। টলেডোয় পৌঁছার পর তারিক গিশার সন্তানদেরকে মুসা বিন নুসায়রের কাছে প্রেরণ করেন। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'আপনি নিজেই আমীর, নাকি অন্য কোনো আমীরের অধীনস্থ?'
উত্তরে তারিক বিন যিয়াদ বলেন, 'আমি একজন আমিরের অধীনস্থ; আর সেই আমিরের ওপর আছেন এক মহান আমির।'
সেনাপতি তারিকের প্রতি মুসা বিন নুসায়রের নির্দেশ ছিল, তিনি যেন আন্দালুসের বেশি গভীরে প্রবেশ না করেন। কারণ, তাতে তার সৈন্যরা
নিরাপত্তা-ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। কিন্তু সম্ভবত একের পর এক সহজ বিজয় তারিককে অভিযান অব্যাহত রেখে আরও সামনে অগ্রসর হতে উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি নিজেকে অবরুদ্ধ আবিষ্কার করেন।
এদিকে বিজিত নগরীগুলোর প্রতিটির নিরাপত্তার জন্য কিছু সৈন্য রেখে আসায় তার সঙ্গে থাকা সৈন্যের সংখ্যাও তখন অনেক কম। বাধ্য হয়ে তিনি মুসার কাছে বার্তা প্রেরণ করে জানান যে, আশেপাশের বিভিন্ন গোত্র প্রতিটি দিক থেকে আমাদের ওপর হামলা করার জন্য পরস্পরকে আহ্বান করছে। সুতরাং দ্রুত সাহায্য প্রেরণ করুন। তখন মুসা বিন নুসায়র তারিক বিন যিয়াদকে সহায়তা করার জন্য নিজেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। ৯৩ হিজরি সনের রমজান মাসে আঠারো হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে মুসা আন্দালুসে পা রাখেন। প্রথমে তিনি দক্ষিণ ও পশ্চিমের সেসব নগরী জয় করার মনস্থ করেন, যেগুলো তারিক জয় না করে ছেড়ে গিয়েছিলেন। মুসা বিন নুসায়র এর মাধ্যমে বাম দিক থেকে তারিকের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শত্রু-শক্তিকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে চেয়েছিলেন। এসব বিজয় সমাপ্ত হওয়ার পর মুসা তারিকের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হন এবং উভয়ে মিলে আন্দালুসের অন্যান্য নগরী জয় করতে থাকেন। মুসা বিন নুসায়র বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের কাছে বার্তা প্রেরণ করেন। বার্তা পাঠ করে খলিফা কৃতজ্ঞতায় সিজদাবনত হয়ে পড়েন।
এরপর মুসা তারিককে সঙ্গে নিয়ে আন্দালুসের উত্তরে আরও গভীরে প্রবেশ করেন। মুসলিম বাহিনী যে নগরীই অতিক্রম করছিল, আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে তা-ই জয় করছিল। প্রতিটি জনপদের অধিবাসীগণ মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করছিল। এভাবে মুসলিম বাহিনী পৌঁছে যায় জারাগোজা নগরীতে। মুসলিম বাহিনীর আগমন-সংবাদ পেয়ে জারাগোজার খ্রিষ্টান যাজক বেনসিয়ো ও তার সঙ্গী সন্ন্যাসীগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য ঐতিহ্যগত সম্পদ একত্র করে তা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মুসা বিন নুসায়র তাদের কাছে দূত পাঠিয়ে তাদের নিরাপত্তা-অঙ্গীকার প্রদান করেন। ফলে তারা শহরত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিহার করে।
মুসা বিন নুসায়র এরপর তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে এমন এমন অঞ্চলে পৌঁছান, যেখানকার অধিবাসীরা পশুর ন্যায় জীবনযাপন করত। তারা
কথা বলত বাস্ক ভাষায়; মুসার সঙ্গে থাকা আন্দালুসের স্থানীয় অধিবাসীরা যা মোটেও বুঝত না। অবস্থাদৃষ্টে মুসলিম সৈন্যরা মুসা বিন নুসায়রকে বলে, 'আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমরা ইতিমধ্যে যেসব অঞ্চল জয় করেছি, তাই তো যথেষ্ট!'
বিশিষ্ট তাবেয়ি হানাশ বিন আবদুল্লাহ সানআনিও মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন। তিনি সেনাপতি মুসা বিন নুসায়রকে বলেন, 'বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যেসব কথাবার্তা বলছে, আমি তা শুনেছি। আপনি তাদের মনোভাব সম্বন্ধে জানেন না। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের প্রাচুর্যে তারা সমৃদ্ধ হয়ে গেছে। তাই তারা এখন যুদ্ধমুক্ত পরিবেশে ফিরতে চাইছে।'
হানাশ বিন আবদুল্লাহর সদুপদেশ শুনে সেনাপতি মুসা বিন নুসায়র মুচকি হেসে বলেন, 'আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুসলমানদের মাঝে আপনার মতো কল্যাণকামী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।' এরপর তিনি আন্দালুসের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এ সময় তিনি বলছিলেন, 'আল্লাহর শপথ! তারা যদি আমার নিঃশর্ত আনুগত্য করত, তাহলে তাদেরকে নিয়ে আমি রোম (কনস্টান্টিনোপল) পর্যন্ত পৌঁছতাম। তারপর ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের হাতে রোমের বিজয় দান করতেন।'
অবশ্য এরপর মুসা পুনরায় তার সৈন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হন এবং তাদেরকে নিয়ে আবারও বিজয়াভিযান শুরু করেন। তিনি যখন গ্যালিসিয়া (Galicia) অঞ্চল বিজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত তার কাছে উপস্থিত হয়ে জানায় যে, খলিফা তাকে আন্দালুসের বিজয়াভিযান স্থগিত রেখে দামেশকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। খলিফার নির্দেশ মনঃপূত না হলেও মুসা বিন নুসায়র তা মেনে নেন এবং আপন ইচ্ছা পরিত্যাগ করেন। তখন পুরো আন্দালুসে কেবল গ্যালিসিয়া অঞ্চলই মুসলমানদের জয় করা বাকি ছিল। বিভিন্ন যুদ্ধের পরও বেঁচে থাকা অবশিষ্ট গোথ সৈন্যরা সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিল। আন্দালুসের উত্তর-পশ্চিম অংশের এই অঞ্চলটিই পরবর্তীকালে কয়েক শতাব্দী পর আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টানদের পুনরুদ্ধার যুদ্ধে মূলকেন্দ্রের ভূমিকা পালন করে।

টিকাঃ
৫৫. টলেডো: স্পেনের অন্যতম প্রাচীন নগরী। টলেডো আইবেরিয়ান উপদ্বীপের মধ্যভাগে বর্তমান স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ৯১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সুগভীর উপত্যকা-বেষ্টিত ও উচ্চভূমিতে অবস্থিত টলেডো নগরীর তিনদিকেই আছে ট্যাজু নদী (Tagus River)। টলেডো ছিল তৎকালীন আন্দালুস রাষ্ট্রের রাজধানী।
৫৬. পিরেনিজ পর্বতাঞ্চলের অধিবাসীদের বাস্ক (Basque) বলা হতো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00