📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 খলিফা উমর রাযি. ও উসমান রাযি.-এর আমলে ইফ্রিকিয়ায় বিজয়াভিযান

📄 খলিফা উমর রাযি. ও উসমান রাযি.-এর আমলে ইফ্রিকিয়ায় বিজয়াভিযান


একদল ঐতিহাসিকের মতে ইফ্রিকিয়া মাগরিব অর্থে ব্যবহৃত হতো। তাদের মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য বর্তমান মরক্কোর পূর্বাঞ্চল। বিস্তৃত এ অঞ্চল মূলত বিভিন্ন বার্বার (আমাজিগ) জনগোষ্ঠির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল। বার্বার জনগোষ্ঠী বড় দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
১. বারানিস জাতিগোষ্ঠী : দশটি গোত্রের সমন্বয়ে ‘বারানিস জাতিগোষ্ঠী’ গড়ে উঠেছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আয়দাযা, আওরবা, মাহুমদা, কুতামা ও সানহাজা গোত্র। বারানিস জাতিগোষ্ঠী ছিল শহরকেন্দ্রিক নাগরিক জীবনধারায় অভ্যস্ত।
ইফ্রিকা ও মাগরিব অঞ্চলের পরিচিতি পূর্বে ৮ নং টিকায় গত হয়েছে। 'বার্বার' শব্দটি চারটি ভিন্ন যুগে ভিন্ন চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। হোমারের যুগে (খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীতে) 'বার্বার' বলে পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের সেসব জাতিগোষ্ঠীকে বোঝানো হতো, যাদের ভাষা ও ধ্বনি ছিল দুর্বোধ্য। এরপর হেরোডোটাসের যুগে (খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে) শব্দটি ব্যবহৃত হতো সেসব জাতিগোষ্ঠীর জন্য, যারা গ্রিক ভাষা ও সভ্যতা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। বালতোলসের আমলে রোম নগরীর অধিবাসিগণ ব্যতীত রোমান সাম্রাজ্যের অন্যান্য বাসিন্দাদের বলা হতো ‘বার্বার’। আর আরবগণ তাদের আমলে আফ্রিকান উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী জাতিসমূহকে ‘বার্বার’ বলত। কেননা, তারা যে ভাষায় কথা বলত, আরবদের কাছে তা ছিল দুর্বোধ্য। আরবগণ অভিযোগ্য ধ্বনির ক্ষেত্রে ‘বার্বার’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। দ্রষ্টব্য : তাহির আহমাদ যাফি, তারিফুল ফাতহিল আরবি ফি লিবিয়া, পৃ: ২০।
বলাবাহুল্য, আলোচ্য ক্ষেত্রে শব্দটি চতুর্থ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। উল্লেখ্য, আমাজিগ (Amazighs) বা বার্বার জাতিগোষ্ঠী ছিল অত্যন্ত একরোখা, যুদ্ধবাজ ও সাহসী জাতি। তারা একাধিকবার ইসলাম গ্রহণ করার পরও ধর্মত্যাগ করেছিল।
২. বুত্র জাতিগোষ্ঠী : তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আদাসা, নাফুসা, নাফ্যাওয়া, লাওয়াতা (Laguatan) ইত্যাদি গোত্র। বুত্র জাতিগোষ্ঠী মরুকেন্দ্রিক বেদুইন জীবনধারায় অভ্যস্ত ছিল।
মিশরবিজেতা হজরত আমর ইবনুল আস রাযি. ২১ হিজরি সনে ইফ্রিকিয়া অঞ্চলের বারকা (Cyrenaica) নগরী জয় করেন এবং লাওয়াতা গোত্রকে মুসলমানদের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। এ সময় লাওয়াতা গোত্রের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর তিনি তার বাহিনীর অন্যতম সেনাপতি উকবা বিন নাফে আল-ফিহরিকে অভিযানের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। উকবা বিন নাফে একে একে যুআয়লা, ফায্যান (Fezzan) ও ওয়াদ্দান (Waddan) অঞ্চল জয় করেন। মহান সেনাপতি উকবা এই দুর্গম মরু অঞ্চলে বিশ বছর অবস্থান করে এখানকার জনসাধারণকে ইসলামের পথে আহ্বান জানাতে থাকেন। তার দাওয়াতে তার হাতে বুত্র জনগোষ্ঠীর (নাফুসা, নাফ্যাওয়া, লাওয়াতা ইত্যাদি গোত্রের) প্রচুর সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করে। যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, তারাও উকবা ও তার সঙ্গী মুসলমানদের কাছ থেকে তাদের শাসকগোষ্ঠী রোমানদের চেয়ে কোমল ও সদয় আচরণ প্রত্যক্ষ করে।
তৃতীয় খলিফা উসমান রাযি. আবদুল্লাহ বিন আবুস সারহ রাযি.-কে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করার পর তাকে ইফ্রিকিয়া অঞ্চলে বিজয়াভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। ২৭ হিজরি সনে আবদুল্লাহ বিন আবুস সারহ বিশ হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে অভিযানে বের হন। নবীদৌহিত্র হজরত হাসান রাযি., হুসাইন রাযি., আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি., আবদুল্লাহ বিন উমর রাযি., আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাযি. ও আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি.-সহ অনেক সাহাবি উক্ত অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন আবুস সার্হ এ অঞ্চলে বিজয়াভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে রোমান সাম্রাজ্যের অনুগত বার্বারি শাসক জর্জিরের বাহিনীর মুখোমুখি হন। জর্জিরের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল এক লক্ষ বিশ হাজার। উভয় বাহিনী সাবিল্লা (Sbeitla)-এর নিকটে মুখোমুখি হয়। দু-পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রচণ্ড লড়াই চলতে থাকে। ভোরে যুদ্ধ শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর
উভয় পক্ষ পরবর্তী দিন যুদ্ধ করার জন্য আপন আপন তাঁবুতে ফিরে যায়। বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি. এ সময় সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন আবুস সারহকে বলেন, 'এদের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ তো দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে যাচ্ছে। তাদের তো স্থায়ী রসদব্যবস্থা আছে আর যুদ্ধক্ষেত্র তাদেরই ভূমি। অপরদিকে আমরা ইসলামি ভূখণ্ড ও মুসলমানদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আমার মত হলো, আগামীকাল আমরা মুসলিম বাহিনীর একটি উপযুক্ত দলকে তাঁবুতেই প্রস্তুত রেখে যাব। বাকিরা রোমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করব। প্রতিপক্ষ যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে তাদের তাঁবুতে ফিরে যাবে আর মুসলিম বাহিনীও ফিরে আসবে আপন তাঁবুতে, তখন আগে থেকে তাঁবুতে অবস্থানরত তাজাদম মুসলিম অশ্বারোহী সৈন্যরা আকস্মিকভাবে প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। হয়তো আল্লাহ তাআলা তখন আমাদেরকে বিজয়ী করবেন।'
উপস্থিত অন্যান্য সাহাবি আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি.-এর চিন্তাকে সমর্থন করেন। পরদিন দুপুরে উভয় বাহিনী আপন আপন তাঁবুতে ফিরে এলে আবদুল্লাহ বিন যুবায়র ও তার সঙ্গে বিশ্রামরত কিছু সঙ্গী প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রোমান বাহিনী তখন বিশ্রামের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র রেখে দিয়েছিল। আকস্মিক আক্রমণে কিংকর্তব্যবিমূঢ় রোমান বাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সৈন্য নিহত হয়। রোমান বাহিনীর সেনাপতি জর্জিয়াও নিহত হন। মুসলিম বাহিনী প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করে। মুসলিম বাহিনীর নিরঙ্কুশ বিজয় প্রত্যক্ষ করে ইফ্রিকিয়া অঞ্চলের গোত্রপ্রধানগণ একজোট হয়ে মুসলিম সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন আবুস সারহ-এর কাছে আবেদন জানায় যে, তারা মুসলমানদেরকে বার্ষিক তিনশ কিনতার স্বর্ণ প্রদান করবে; বিনিময়ে যেন মুসলিম বাহিনী তাদের থেকে নিবৃত্ত থাকে এবং তাদের এলাকায় হস্তক্ষেপ না করে। ইবনে আবুস সারহ তাদের আবেদন গ্রহণ করে সন্ধিচুক্তি করেন।
এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে এ অঞ্চলে রোমান সাম্রাজ্যের শক্তি ও প্রভাব বিচূর্ণ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে হারানো কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কখনোই সফল হয়নি। অপরদিকে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ছিল মুসলমানদের জন্য ইফ্রিকিয়াবাসীর মাঝে ইসলাম প্রচারের এক সুবর্ণ সুযোগ।
৩৩ হিজরি সনে ইফ্রিকিয়াবাসী কৃত চুক্তি ভঙ্গ করলে আবদুল্লাহ বিন আবুস সারহ পুনরায় বিজয়াভিযান শুরু করেন। এরপর হজরত আলি রাযি. ও মুয়াবিয়া রাযি.-এর মধ্যে সংঘাত চলাকালে বিশেষ করে মাগরিব অঞ্চলসহ সব দিকেই ইসলামি বিজয়াভিযান স্থগিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থা ৪৫ হিজরি সন পর্যন্ত বিরাজমান ছিল।

টিকাঃ
৪৯. এই সবগুলো নগরী বর্তমান লিবিয়ার অন্তর্গত।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 উমাইয়া শাসনামলে মাগরিব অভিমুখী বিজয়াভিযান

📄 উমাইয়া শাসনামলে মাগরিব অভিমুখী বিজয়াভিযান


হজরত মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান রাযি. খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এ অঞ্চলে পুনরায় বিজয়াভিযানের ধারা বেগবান হয়। মুয়াবিয়া বিন খুদায়জ রাযি. ও উকবা বিন নাফে-এর নেতৃত্বে মুসলমানরা এ অঞ্চলে নতুন করে বিজয়াভিযানের পথ সুগম করে। ৪১ হিজরি সনে মুয়াবিয়া বিন খুদায়জ বেনজার্ট (Bizerte) নগরী জয় করেন। ৪৫ হিজরি সনে তিনি কামুনিয়া (বর্তমানে যেখানে কায়রোয়ান নগরী অবস্থিত) অধিকার করেন। একই বছর তিনি আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি.-এর নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র বাহিনী পাঠিয়ে সুসা অঞ্চলও জয় করেন।
৫০ হিজরি সনে (৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে) ইফ্রিকিয়া অঞ্চলের অভ্যন্তরে মুসলমানদের জন্য একটি স্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে কায়রোয়ান নগরী নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। হজরত উকবা বিন নাফে-এর এক উক্তিতে কায়রোয়ান নগরী নির্মাণের প্রেক্ষাপট সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। তিনি তার সৈন্যদের বলেছিলেন, 'ইফ্রিকিয়ায় যখন কোনো মুসলিম প্রশাসক আগমন করেন, তখন এখানকার অধিবাসীরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে; আবার যখন তিনি চলে যান, তারা পুনরায় কুফরিতে ফিরে যায়। তাই হে মুসলিম অভিযাত্রীগণ, আমার মত হলো-তোমরা এমন একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করবে, যা শেষ যুগ পর্যন্ত এ অঞ্চলে ইসলামের মর্যাদা বহন করবে।'
উকবা বিন নাফে-এর উক্ত ভাষণে মূলত প্রকৃত বাস্তবতাই ফুটে উঠেছে। ইতিপূর্বে ইফ্রিকিয়ার অনেকগুলো অঞ্চল বিজিত হয়েছিল এবং মুসলমানরা সেসব অঞ্চলের অধিবাসীদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু যখনই মুসলিম অভিযাত্রীরা নিজেদের সীমান্ত এলাকায় ফিরে যেত, তখনই এসব অঞ্চলের অধিবাসীরা চুক্তি ভঙ্গ করত। এ কারণেই একটি মজবুত ঘাঁটি হিসেবে কায়রোয়ান নগরী নির্মাণের পরিকল্পনা সেনাপতি উকবা বিন
নাফে-এর মস্তিষ্কে উদিত হয়। তিনি প্রথমে সামরিক দিক বিবেচনায় সর্বোত্তম একটি স্থান নির্বাচন করেন। স্থানটি ছিল আরব হতে ইফ্রিকিয়া গমনের পথে সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত। সমুদ্র থেকে দূরে হওয়ায় শত্রু নৌবহরের অতর্কিত হামলার হুমকি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল, আবার মরুভূমির নিকটে হওয়ায় অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কাও কম ছিল।
নির্বাচিত স্থানটি ছিল ঘন গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে পূর্ণ হিংস্র জন্তু ও সাপ-বিচ্ছুর আবাসস্থল। উকবা তার সঙ্গীদের গাছপালা কেটে ফেলার ও জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে তারা বলে, আপনি আমাদেরকে এমন এক ঘন জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে নগর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে কারও যাওয়ার দুঃসাহস হয় না। আমরা তো হিংস্র প্রাণী, সাপ-বিচ্ছু ও অন্যান্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা করছি। উকবার বাহিনীতে পনেরোজন সাহাবি ছিলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং বাকিরা আমিন-আমিন বলতে থাকে। দোয়া শেষ করে তিনি চিৎকার করে বলেন, 'হে সাপ ও হিংস্র প্রাণীরা, আমরা আল্লাহর রাসুলের সহচর। তোমরা আমাদের এখান থেকে চলে যাও। কারণ, আমরা এখানে থাকতে চাই। পরে আমরা যাকেই এখানে পাব, হত্যা করব।'
ঘোষণা শেষ হতেই সিংহ সিংহশাবক নিয়ে, বাঘ ব্যাঘ্রশাবক নিয়ে এবং সাপ সাপের বাচ্চা নিয়ে ঘন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। উকবা তার সঙ্গীদের বলেন, প্রাণীগুলো এখান থেকে চলে যাওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের কোনো ক্ষতি করো না। সকল হিংস্র প্রাণী ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ চলে যাওয়ার পর উকবা তার বাহিনী নিয়ে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করেন এবং তার সঙ্গীদের এবার গাছপালা কেটে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।
উকবার সঙ্গে ছিল দশ হাজার মুসলিম অভিযাত্রী। তাদের সঙ্গে বার্বার নওমুসলিমরাও যোগ দিয়েছিল। সকলে মিলে পাঁচ বছরে (৫৫ হিজরিতে/৬৭৫ খ্রিষ্টাব্দে) কায়রোয়ান নগরীর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করে। তারা সেখানে একটি মসজিদও নির্মাণ করে। এরপর সকলে নিজেদের বাসস্থান তৈরি করে। কায়রোয়ান নগরী এ অঞ্চলে মুসলমান ও তাদের মিত্রদের ছাউনিতে পরিণত হয়। মুসলমানরা এবার এ অঞ্চলের অধিবাসীদের বিদ্রোহ-আশঙ্কা হতে নিশ্চিন্ত হয়। কায়রোয়ান পরিণত হয়
আফ্রিকায় মুসলমানদের নিরাপদ ঘাঁটি এবং মাগরিবের প্রধান ইসলামি নগরীতে।
৫৫ হিজরি সনেই খলিফা মুয়াবিয়া রাযি. উকবা বিন নাফেকে বরখাস্ত করে তার স্থলে আবুল মুহাজির বিন দিনারকে এ অঞ্চলের দায়িত্ব প্রদান করেন। আবুল মুহাজির মুসলমানদের মূল শত্রু রোমানদের দমন করতে এ অঞ্চলের বার্বার জাতিকে দাওয়াত দিয়ে আকৃষ্ট করার পথ অবলম্বন করেন। তার দাওয়াতে বার্বার নেতা কুসায়লা তার গোত্র 'আওবা'সহ ইসলাম গ্রহণ করে এবং আবুল মুহাজিরের সহযোগীতে পরিণত হয়। এরপর আবুল মুহাজির কুসায়লাকে সঙ্গে নিয়ে তিলিমসান অভিমুখে অগ্রসর হন এবং নগরীটি জয় করেন। কিন্তু ৬০ হিজরি সনে খলিফা ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়া দ্বিতীয়বারের মতো উকবা বিন নাফেকে ইফ্রিকিয়া অঞ্চলের গভর্নর নির্ধারণ করেন। উকবা ফিরে এসে আবুল মুহাজিরের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন এবং তাকে বন্দি করেন। পাশাপাশি তিনি কুসায়লাকেও বন্দি করে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। অবশ্য কুসায়লা কিছুদিন পরই পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীকালে উকবা ও তার বাহিনীর যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করে।
উকবা বিন নাফে এবার একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে রোমানদের সন্ত্রস্ত করে রাখেন। তিনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনী প্রেরণ করে আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল জয় করতে করতে আটলান্টিকের তীর পর্যন্ত পৌঁছে যান। এ সময় তিনি বলেন-'হে আমার প্রতিপালক, যদি এ মহাসাগর প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়াত, তাহলে আমি আপনার পথে জিহাদ করতে করতে আমার যাত্রা অব্যাহত রাখতাম।' এরপর তিনি কায়রোয়ান প্রত্যাবর্তনের মনস্থ করেন।
কিন্তু এ সময় উকবা-বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে শত্রু-হামলা প্রতিরোধ করার মতো যথেষ্ট সতর্কতা তাদের ছিল না। রোমানরা এবার তিউনিসিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলে মুসলিম বাহিনীর প্রত্যাবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পলাতক কুসায়লাও একদল বার্বার সৈন্য নিয়ে পেছন দিক থেকে এসে মুসলিম বাহিনীকে ঘিরে ফেলে। ৬৩ হিজরিতে সংঘটিত হয় তাহুদার যুদ্ধ। যুদ্ধে উকবা বিন নাফে নিহত হন, তার বাহিনী পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়। উকবার বাহিনীতে আবুল মুহাজিরও ছিলেন। ৬৪ হিজরি সনে কুসায়লা কায়রোয়ান আক্রমণ করে মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়।
এরপর ইফ্রিকিয়ার দায়িত্ব প্রদান করা হয় যুহায়র বিন কায়স বালাবিকে। তিনি বারকাতে শিবির স্থাপন করে দীর্ঘদিন সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় বার্বার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আবদুল্লাহ বিন যুবায়র রাযি.-এর শাহাদাতের পর যখন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান মুসলিম জাহানের একচ্ছত্র অধিকার লাভ করেন এবং অভ্যন্তরীণ ফিতনা দমন করতে সক্ষম হন, তখন তিনি এ অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা প্রেরণ করেন। যুহায়র এ সময় কুসায়লার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং মামাস-এর যুদ্ধে তাকে পরাজিত করেন। এরপর যুহায়র ইসলামি প্রাচ্যে ফিরে আসার মনস্থ করলেও রোমান বাহিনী তার পথরোধ করে এবং তাকে হত্যা করে। এটি ৭৮ হিজরি সনের ঘটনা।
যুহায়রের শাহাদাতের পর এ অঞ্চলের দায়িত্ব লাভ করেন হাসসান বিন নোমান গাসসানি। খliফা আবদুল মালিক তাকে ৭৮ হিজরি সনে (৬৯৭
(খ্রিষ্টাব্দে) আফ্রিকার গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৮৬ হিজরি সন (৭০৫ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত তিনি আফ্রিকার গভর্নর ছিলেন।
হাসসান এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন এবং পুনরায় বাবার বারানিস জাতিগোষ্ঠীকে ইসলামে দীক্ষিত করেন। হাসসান তাদেরকে নিয়ে কারতাজিনায় আক্রমণ করেন এবং ভবিষ্যতে যেন রোমান নৌবহর নগরীটিকে বন্দর হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, এ উদ্দেশ্যে নগরীটি পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেন। এ সময় হাসসান সম্পূর্ণ নতুন এক শত্রুর পক্ষ থেকে অভিনব এক সমস্যার সম্মুখীন হন। বার্বার বুত্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর 'কাহিনা' নামক জনৈক নারী গোত্রপ্রধানের যথেষ্ট আত্মিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। হাসসান তাকে কোনোভাবেই দমন করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত কাহিনা নিজেই নির্বুদ্ধিতা করে হাসসানের জন্য বিজয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়। সে তার কওমকে বলে, 'আরবরা আমাদের দেশ চায় না; তারা চায় এই প্রাচুর্যপূর্ণ নগরী। কাজেই আমরা যদি এ নগরী ধ্বংস করে ফেলি, আঙুর ও জয়তুন গাছগুলো কেটে ফেলি, তাহলে আমাদের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ থাকবে না।' কাহিনার আহ্বানে বুত্র জাতিগোষ্ঠীর উচ্ছৃঙ্খল গোত্রগুলো গাছপালা কেটে ফেলে বসতি বিরান করতে শুরু করে। এ সময় বারানিস জাতিগোষ্ঠী হাসসানের কাছে ছুটে আসে এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাহিনার ওপর আক্রমণ চালাতে অনুরোধ করে। হাসসান এবার কাহিনাকে ধ্বংস করতে সক্ষম হন।
হাসসান বিন নোমান গাসসানি সমুদ্রপথে রোমানদের ওপর নজরদারি করতে কারতাজিনার নিকটে তিউনিসিয়া নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা করেন। এ নৌবন্দরকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে তিউনিসিয়া গড়ে ওঠে। মাগরিব ত্যাগ করার পূর্বে হাসসান এ অঞ্চলকে একটি শান্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ইসলামি প্রদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। ৮৬ হিজরি সনে হাসসানকে বরখাস্ত করে মুসা বিন নুসায়রকে এ অঞ্চলের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়।
হাসসান বিন নোমান গাসসানি প্রাচ্যে প্রত্যাবর্তনের পর পুনরায় বিভিন্ন বার্বার গোত্র চুক্তিভঙ্গ করে। মুসা বিন নুসায়র তাদেরকে পুনরায় বশীভূত করতে সক্ষম হন। ইতিপূর্বে যেসব বার্বার গোত্র মুসলমানদের কর্তৃত্ব স্বীকার করেনি, মুসা বিন নুসায়র তাদেরকেও বশীভূত করতে সক্ষম হন। মুসা বিন নুসায়র তার বাহিনীর বার্বারি সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে বার্বারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে একের পর এক বাবার অধ্যুষিত
নগরী জয় করতে থাকেন এবং তাঞ্জিয়ার (Tangier) পর্যন্ত পৌঁছে যান। ছোট শহর তাঞ্জিয়ার ছিল তৎকালীন বার্বার গোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রধান নগরী। মুসা বিন নুসায়র তাঞ্জিয়ার জয় করে তারিক বিন যিয়াদকে সেখানকার প্রশাসক নিয়োগ করেন এবং পূর্ণ যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধপ্রস্তুতিসম্পন্ন উনিশ হাজার বার্বার যোদ্ধাকে তার সঙ্গে রেখে যান। তারিক বিন যিয়াদের এসব সঙ্গী ছিল নিষ্ঠাবান নওমুসলিম। বার্বারদের কুরআন ও ইসলামের ফরজ বিধিবিধান শিক্ষা দেওয়ার জন্য মুসা তাদের কাছে কিছু আরবকেও রেখে যান।
স্থল অভিযানের পাশাপাশি মুসা বিন নুসায়র এ অঞ্চলে নৌ অভিযানও শুরু করেন। তিনি তার পুত্র আবদুল আজিজের নেতৃত্বে সিসিলি অভিমুখে একটি নৌবাহিনী প্রেরণ করেন। মুসলিম নৌবহর সিসিলি দ্বীপের বিভিন্ন এলাকাসহ আশেপাশের বিভিন্ন দ্বীপ জয় করতে সক্ষম হয়। সমুদ্রপথে মুসলমানদের এই পদচারণার কারণে এ অঞ্চলে নৌপথে রোমান নৌবহরের আনাগোনা কমে যায়, যা পরে আন্দালুস অভিযানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক বিবেচিত হয়।
তাঞ্জিয়ার বিজয়ের পর ইফ্রিকিয়া অঞ্চলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো বাকি থাকে কেবল সুরক্ষিত অঞ্চল সিউটা। জুলিয়ান নামক জনৈক প্রশাসক তখন সিউটা শাসন করতেন। আরবরা জুলিয়ানকে ডাকত 'ইউলিয়ান'। সিউটা ছিল সাগরের ওপারের আন্দালুস রাষ্ট্রের অধীনস্থ একটি করদরাজ্য।

টিকাঃ
৫০. আবুল মুহাজির বিন দিনার বার্বারিদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায়ের নীতি অবলম্বন করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে চাননি। তার লক্ষ্য ছিল প্রথমে এ অঞ্চলকে পুরোপুরি রোমান প্রভাবমুক্ত করে তারপর অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া। অপরদিকে উকবা বিন নাফে এ নীতির বিরোধী ছিলেন। তিনি মনে করতেন, বার্বারিদের সঙ্গে এ ধরনের মিত্রতার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই তিনি কুসায়লাকে বন্দি করে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর ফলে বার্বারি গোত্রগুলোর জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে এবং উকবা বিন নাফেকে তাদের হাতে চরম মূল্য দিতে হয়।
৫১. ইসলামি প্রাচ্য ও ইসলামি প্রতীচ্য : আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও আন্দালুস বিজিত হওয়ার পর ঐতিহাসিকগণ ইসলামি বিশ্বকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্য দু-ভাগে বিভক্ত করেন। পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর হতে পূর্বে ইরানি মালভূমি পর্যন্ত ইসলামি ভূখণ্ডকে বলা হতো ইসলামি প্রাচ্য আর ভূমধ্যসাগর হতে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ইসলামি ভূখণ্ডকে বলা হতো ইসলামি প্রতীচ্য। মিশরকে ইসলামি বিশ্বের উভয় অংশের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল বিবেচনা করা হতো। আধুনিক রাষ্ট্রসীমা অনুসারে ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও ইয়ামেন ছিল ইসলামি প্রাচ্যের অন্তর্ভুক্ত আর (আইবেরিয়ান উপদ্বীপসহ) মৌরিতানিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, (মরক্কো অধিকৃত) পশ্চিম সাহারা, (স্পেন অধিকৃত) বন্দরনগরী সিউটা (Ceuta) ও ম্যালিলা (Mellila) ছিল ইসলামি প্রতীচ্যের অন্তর্ভুক্ত।
৫২. সিউটা: জিব্রাল্টার প্রণালির তীরে অবস্থিত মরক্কোর একটি নগরী, যা বর্তমানে স্পেন জবরদখল করে রেখেছে। মরক্কোর আরও একটি বন্দর-নগরী ম্যালিলাও স্পেনের দখলে রয়েছে। আরবিতে 'সিউটা' নগরীকে 'সাপ্তাহ' (سبتة) এবং তাঞ্জিয়ারকে 'তানজাহ' (طنجة) বলা হয়।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 আন্দালুসে বিজয়াভিযান ও তৎকালীন আন্দালুসের পরিস্থিতি

📄 আন্দালুসে বিজয়াভিযান ও তৎকালীন আন্দালুসের পরিস্থিতি


দীর্ঘদিন যাবৎ পশ্চিমা গোথ (Visigoths) জাতি আন্দালুস শাসন করছিল। মুসলমানদের আন্দালুস অভিযানের অব্যবহিত পূর্বে আন্দালুসের
শাসক ছিলেন গোথ-শাসক গিশা (Wittiza)। সিউটা-প্রশাসক জুলিয়ান ছিলেন তার মিত্র। গিশার জনৈক অনুচর রডারিক-এর সমর্থকদের পরিচালিত এক বিদ্রোহ প্রচেষ্টায় গিশা সিংহাসনচ্যুত ও নিহত হন। এর ফলে গিশার সন্তান ও সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তারা জবরদখলকারী রডারিকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় আন্দোলন। মুসলমানরা আন্দালুসে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল।
গিতশার মৃত্যুর পর ক্ষমতার দাবিদার তার পুত্র ওয়াক্কা পালিয়ে আফ্রিকায় চলে আসে এবং সিউটার প্রশাসক জুলিয়ানের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। জুলিয়ান তখনও গিশাপরিবারের আনুগত্যে অবিচল ছিলেন।
রডারিকের দুঃশাসনে আন্দালুসভূমির পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়ে। রডারিক বিশাল করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে।
সিউটা-প্রশাসক জুলিয়ান এ সময় তাঞ্জিয়ার-প্রশাসক তারিক বিন যিয়াদের কাছে একটি বার্তা প্রেরণ করে সিউটার নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং মুসলমানদেরকে আন্দালুসে বিজয়াভিযান পরিচালনা করতে উদ্বুদ্ধ করেন। এ বিষয়ে উভয় প্রশাসকের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

টিকাঃ
৫৩. আন্দালুস: স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উপদ্বীপ (The Scandinavian Peninsula)-এর পর ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপদ্বীপ হলো আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (Iberian Peninsula)। ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ত্রিভুজ-সদৃশ আইবেরিয়ান উপদ্বীপের আয়তন প্রায় ছয় লক্ষ বর্গকিলোমিটার (৫,৮৩,২৫৪ বর্গ কি. মি. বা ২,২৫,১৯৬ বর্গমাইল)।
আধুনিক রাষ্ট্রসীমার স্পেন, পর্তুগাল ও অ্যান্ডোরা এই তিনটি দেশের পাশাপাশি ফ্রান্সের কিছু অংশ আইবেরিয়ান উপদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত। আইবেরিয়ান উপদ্বীপকেই অতীতে আন্দালুস বলা হতো।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে খলিফার অনুমতিপ্রার্থনা

📄 গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে খলিফার অনুমতিপ্রার্থনা


অবশেষে জুলিয়ানের প্রস্তাবে তারিক বিন যিয়াদ সম্মতি জানান। আফ্রিকা-প্রশাসক মুসা বিন নুসায়র খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা অবহিত করেন। ফিরতি বার্তায় খলিফা প্রথমেই মূল মুসলিম বাহিনীকে আন্দালুস-অভিযানে প্রেরণ না করে ক্ষুদ্র একটি বাহিনী প্রেরণ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00