📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ > 📄 ইয়াযিদ বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক

📄 ইয়াযিদ বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক


ওয়ালিদের একমাত্র চিন্তা ছিল—উমাইয়া রাজপরিবারের যেসব রাজপুত্র ও সদস্য তার বিরুদ্ধে হিশামকে সহায়তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করা। তার এই আচরণের কারণে রাজপরিবার ও সাধারণ জনগণ সকলেই তার প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি ১২৬ হিজরি সনে ছত্রিশ বছর বয়সে তার চাচাতো ভাই ইয়াযিদ বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের বাহিনীর হাতে নিহত হন।
[জুমাদাল উখরা ১২৬ হিজরি — জিলহজ ১২৬ হিজরি] [এপ্রিল ৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দ — সেপ্টেম্বর ৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দ]
দ্বাদশ উমাইয়া খলিফা ইয়াযিদ বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের (৩য় ইয়াযিদ) জন্ম ৮৬ হিজরি সনে। তিনি ১২৬ হিজরি সনে চল্লিশ বছর বয়সে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার পিতা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক ছিলেন ষষ্ঠ উমাইয়া খলিফা।
খলিফা তৃতীয় ইয়াযিদ ছিলেন একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। কিন্তু বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি ছিল তার প্রতিকূলে। তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং মারওয়ান-পরিবারে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। ১২৬ হিজরি সনের ৭ জিলহজ (৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ২০ সেপ্টেম্বর) প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মাধ্যমে তার অতি সংক্ষিপ্ত খিলাফতকালের সমাপ্তি ঘটে। ইয়াযিদ বিন ওয়ালিদকে ‘আন-নাকিছ’ বা হ্রাসকারী ডাকা হতো।
সুপ্রসিদ্ধ প্রবাদবাক্য হলো—আশাজ (কপালে ক্ষতচিহ্নবিশিষ্ট) ও নাকিছ (হ্রাসকারী) ছিলেন বনু উমাইয়ার সবচেয়ে ন্যায়বান শাসক। আশাজ দ্বারা উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং নাকিছ দ্বারা ইয়াযিদ বিন ওয়ালিদ উদ্দেশ্য।
বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন, 'হে বনু উমাইয়া, তোমরা সংগীত পরিহার করো। কারণ, তা লজ্জা হ্রাস করে, প্রবৃত্তি-চাহিদা বৃদ্ধি করে এবং মানবিকতা ও মনুষ্যত্ববোধ বিলুপ্ত করে। সংগীত মদের মতো ক্ষতিকর। সংগীতে আসক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ব্যক্তির ন্যায় যা ইচ্ছা তাই করে। যদি একান্তই তা করতে চাও, তাহলে অন্তত নারীদেরকে তা থেকে দূরে রাখবে। কারণ, সংগীত ব্যভিচারের প্রতি প্ররোচিত করে।'
তৃতীয় ইয়াযিদের মৃত্যুর পর ১২৭ হিজরি সনের শুরুতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ভাই ইবরাহিম বিন ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক। কিন্তু মারওয়ান বিন মুহাম্মাদ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তার অনুসারীদের নিয়ে দামেশক অবরোধ করেন। তখন ভীত খলিফা ইবরাহিম বিন ওয়ালিদ দামেশক ছেড়ে পালিয়ে যান। তার খিলাফতকাল মাত্র সত্তর দিন স্থায়ী হয়। যেহেতু তিনি পূর্ণ খিলাফতের অধিকারী হতে পারেননি এবং দামেশক বাদে অবশিষ্ট ইসলামি বিশ্ব তার বায়আত গ্রহণ করেনি, তাই ঐতিহাসিকগণ তাকে খলিফা হিসেবে গণ্য করেন না।

টিকাঃ
৩৬. পূর্ববর্তী খলিফা ওয়ালিদ সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় ভাতা যে পরিমাণ বৃদ্ধি করেছিলেন, তিনি তা হ্রাস করে দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে ‘আন-নাকিছ’ বা হ্রাসকারী বলা হতো। দ্রষ্টব্য: ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১০/১৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00