📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 হিশাম বিন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান

📄 হিশাম বিন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান


[শাবান ১০৫ হিজরি-রবিউস সানি ১২৫ হিজরি] [জানুয়ারি ৭২৪ খ্রিষ্টাব্দ–ফেব্রুয়ারি ৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দ]
ইন্তেকালের পূর্বে ইয়াযিদ বিন আবদুল মালিক পরবর্তী দুইজন খলিফার নাম ঘোষণা করে যান। তিনি ঘোষণা করেন—তার মৃত্যুর পর খলিফা হবেন তার ভাই হিশাম বিন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান এবং হিশামের মৃত্যুর পর খলিফা হবেন তার নিজের পুত্র ওয়ালিদ। ঘোষণা মোতাবেক ইয়াযিদের মৃত্যুর পর হিশামের নামে বায়আত গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিকের জন্ম ৭২ হিজরি সনে। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণকালে তার বয়স ছিল তেত্রিশ বছর। তার পূর্বে তার তিন ভাই ওয়ালিদ, সুলায়মান ও ইয়াযিদ খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঐতিহাসিক ইবনে কাছির রহ. হিশাম সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যথার্থতার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করেন।’
খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিক তার দুই পুত্র মুয়াবিয়া ও সুলায়মানসহ অন্য পুত্রদেরকে, ভাই মাসলামা বিন আবদুল মালিককে এবং চাচাতো ভাই মারওয়ান বিন মুহাম্মাদকে রোমান সাম্রাজ্যে বিজয়াভিযানে ব্যস্ত রাখতেন।
তিনি মারওয়ান-পরিবারের সদস্যদেরকে বিজয়াভিযানে অংশগ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অনুদান প্রদান করতেন না। আবদুল্লাহ বিন আলি বিন
আবদুল্লাহ বিন আব্বাস বলেন, 'আমি বনু উমাইয়ার সকল খলিফার নথিপত্র সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ করেছি। হিশামের নথিপত্রের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ-নিখুঁত ও জনবান্ধব কোনো নথিপত্র আমি পাইনি।'
নথিপত্রের নির্ভুলতা, বিশুদ্ধতা, উপযোগিতা ও কার্যকারিতা খলিফাদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত হয়। এখানে নথিপত্র দ্বারা খারাজ (কর) সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্দেশ্য। আধুনিক অর্থনীতির ভাষায় একে বাজেট বলে, যা দ্বারা একটি রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র উপলব্ধি করা যায়।
খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিকের আংটিতে الْحُكْمُ لِلْحَكَمِ الحَكِيمِ (শাসনকর্তৃত্ব একমাত্র মহাপ্রজ্ঞাবান মহাবিচারক সত্তার) বাক্যটি খচিত ছিল।

টিকাঃ
৩৩. মাসলামা বিন আবদুল মালিক ছিলেন উমাইয়া রাজপরিবারের সেই মহান বীর সেনাপতি, বিজয়াভিযান ও যুদ্ধাভিযানে যার অধিক অংশগ্রহণ ও বীরত্বপূর্ণ অবদান বীর সাহাবি খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযি.-এর সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিত।
৩৪. তিনি ছিলেন প্রথম দুই আব্বাসি খলিফা আস-সাফফাহ ও আল-মানসুরের চাচা। খলিফা আল-মানসুর তাকে বন্দি করেন এবং বন্দি অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

📘 ইসলামের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ 📄 খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিকের মৃত্যু

📄 খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিকের মৃত্যু


খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিক ১২৫ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে তেপ্পান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুশয্যায় তিনি তার সন্তানদের ক্রন্দনরত দেখে বলেন, 'হিশাম তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছে দুনিয়া দিয়ে আর তোমরা তার প্রতি অনুগ্রহ করছ ক্রন্দন দ্বারা! সে যা সঞ্চয় করেছিল, তা তোমাদের জন্য রেখে যাচ্ছে আর যা সে অর্জন করেছিল, তোমরা তা তার জন্য ছেড়ে দিচ্ছ। আল্লাহ যদি ক্ষমা না করেন, তাহলে হিশামের পরিণতি কতই-না মন্দ হবে!'
ঐতিহাসিক ইবনে কাছির রহ. বলেন—
আমার মতে হিশাম বিন আবদুল মালিকের মৃত্যুর সঙ্গে বনু উমাইয়ার শাসনব্যবস্থার পতনঘণ্টাও বেজে ওঠে, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর ধারা স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং উমাইয়া রাজপরিবারের অবস্থা দুর্বল ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে; যদিও এরপরও প্রায় সাত বছর বনু উমাইয়ার শাসনক্ষমতা টিকে ছিল।

টিকাঃ
৩৫. ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৯/৩২৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية