📄 খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-এর মৃত্যু
ঐতিহাসিকগণ উমর ইবনে আবদুল আজিজের মৃত্যুর কারণ সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, তার জনৈক ক্রীতদাস বনু উমাইয়ার পক্ষ হতে ষড়যন্ত্র করে তার খাবার বা পানীয়তে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল। বনু উমাইয়ার প্রতি খলিফার কঠোর আচরণ এবং জনগণের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎকৃত সম্পদ তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করে জনগণকে ফেরত প্রদান ইত্যাদি বিষয় বনু উমাইয়াকে তার প্রতি বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।
উমর বিন আবদুল আজিজের বারোজন সন্তান ছিল। মৃত্যুর পূর্বে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনার সন্তানরা তো দরিদ্র ও নিঃস্ব। তাদের জন্য কিছু অসিয়ত করে যাবেন না?
উত্তরে তিনি বলেন,
(إِنَّ وَلِيَّ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتٰبَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّلِحِينَ )
আমার অভিভাবক তো আল্লাহ; যিনি কিতাব নাজিল করেছেন আর তিনি পুণ্যবানদের অভিভাবকত্ব করেন।
[সুরা আরাফ: ১৯৬]
আল্লাহর শপথ! আমি তাদেরকে অন্য কারও হক প্রদান করব না। তারা তো দুই অবস্থা হতে মুক্ত নয়। যদি তারা সৎ হয়, তাহলে চিন্তা কীসের! আল্লাহই তো সৎকর্মশীলদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর যদি তারা অসৎ হয়, তাহলে আমি তাদের পাপাচারে সহযোগিতা করতে পারি না। এরপর তিনি তার পুত্রদেরকে ডেকে এনে অন্তিম বিদায় জানান এবং তাদেরকে সান্ত্বনা দেন। সবশেষে তিনি তাদেরকে বলেন, 'যাও, আল্লাহই তোমাদের রক্ষা করবেন এবং তোমাদের উত্তম তত্ত্বাবধান করবেন।'
বর্ণনাকারীগণ উল্লেখ করেছেন, আমরা উমর ইবনে আবদুল আজিজের জনৈক পুত্রকে আল্লাহর রাস্তায় আশিটি ঘোড়ায় পূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জাম দান করতে দেখেছি। বিপরীতে পূর্বতন খলিফা সুলায়মান বিন আবদুল মালিক তার সন্তানদের জন্য প্রচুর সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। তার জনৈক পুত্রকে আমরা উমর ইবনে আবদুল আজিজের সন্তানদের কাছে হাত পাততে দেখেছি। এর রহস্য হলো—উমর ইবনে আবদুল আজিজ তার সন্তানদের মহান আল্লাহর হাওয়ালা করে গিয়েছিলেন; তাই আল্লাহ তাদেরকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছেন। আর সুলায়মান ও অন্যান্য শাসক তাদের সন্তানদের রেখে গিয়েছিল সম্পদের হাওয়ালা করে; সন্তানরা তাদের সম্পদ নষ্ট করেছে আর সম্পদ ধ্বংস হয়েছে সন্তানদের প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে।
এরপর তিনি উপস্থিত পরিবারস্থ লোকদেরকে কামরা হতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সকলে বের হয়ে গেলেও খলিফাপত্নী ফাতিমা ও তার ভাই মাসলামা বিন আবদুল মালিক দরজায় বসে থাকেন। এ সময় তারা খলিফাকে বলতে শোনেন, 'উজ্জ্বল অবয়ববিশিষ্টদের স্বাগতম! এগুলো তো কোনো মানুষ বা জিনের অবয়ব নয়'!
এরপর তিনি তেলাওয়াত করেন-
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ)
ওই পরকালীন নিবাস তো আমি সে সকল লোকের জন্যই নির্ধারণ করব, যারা পৃথিবীতে বড়ত্ব দেখাতে ও ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। শেষ পরিণাম তো মুত্তাকিদেরই অনুকূলে থাকবে। [সুরা কাসাস : ৮৩]
এরপর খলিফার কণ্ঠস্বর স্তিমিত হয়ে আসে। সকলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পায়-তার চক্ষুযুগল বন্ধ, তিনি কিবলামুখী হয়ে আছেন এবং ইন্তিকাল করেছেন।
খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. চল্লিশ বছর বয়সে ১০১ হিজরি সনের ২৫ রজব (৭২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি) হিমসের দাইরে সিমআন এলাকায় ইন্তেকাল করেন।